জাদুর গ্রামের সবাই জাদুর বই হারিয়ে ফেলেছে

মিউঁগল্প3 months ago59 Views

শুনো একটা মজার গল্প বলি।
ওইদিন বাবার বন্ধুদের একটা জমকালো অনুষ্ঠান ছিলো।
আবার ওইদিন রাইয়ানরা আমাদের গ্রামের বাড়ি যাওয়ার কথা। আমাকেও যেতে বলেছিলো।
রাইয়ান আমার কাকা হয়। কিন্তু বয়সে আমার চাইতেও ছোট। পিচ্চি একটা বাচ্চা। তাই ‘কাকা’ ডাকি না। এতে সে মন খারাপ করে। তবে খেলার জন্য আমি ওর সঙ্গে থাকতে চাই।
কিন্তু সমস্যা হলো- আমি কি বাবার বন্ধুদের অনুষ্ঠানে যাবো, না কি গ্রামের বাড়ি?
শেষমেশ ঠিক করলাম, গ্রামের বাড়ি অন্যদিন যাবো। আর ওই দিন বাবার অনুষ্ঠানে থাকবো।

ওমা, অনুষ্ঠানও বেশ ভালোই হলো। ওখানে জাদু দেখানো হলো। এক জাদুকর ছবি থেকে জীবন্ত কবুতর বানিয়ে ফেললো। কবুতরগুলো জাদুকরের হাতে এসে বসলো।
আমি ভাবছিলাম- এই জাদু কীভাবে সম্ভব? জাদু শেখার কি কোনো বই আছে?
বাবাকে জিজ্ঞেস করলাম।
বাবা কিছুই জানালো না। বাবা শুধু সারাদিন ঘুমায়। আর মাঝে-মাঝে লেখালেখি করে।
আমি কিছু জানতে চাইলে গোমড়া মুখ করে বলে- জানি না।

আজ সকালে কী হলো জানো?
বাবা আমাকে একটা গল্পের স্ক্রিপ্ট লিখে দিলো- জাদুর গ্রামের গল্প।
ওখানে সবাই জাদু করতে জানে। গ্রামের ঘরগুলো আকাশে উড়ে বেড়ায়। গাছগুলো চকোলেটের মতো চকচকে। প্রাণীরা লাফিয়ে লাফিয়ে খেলে।
গ্রামে একটা জাদুর বই আছে। বই দেখে সবাই জাদু শেখে।
রাইয়ান ওই গ্রামে থাকে। বই দেখে সে উড়ে উড়ে ইশকুলে চলে যায়।

কিন্তু হঠাৎ, এক বিশাল বিপদ!
জাদুর বই হারিয়ে গেছে। পুরো গ্রাম জুড়ে সবাই খুঁজছে। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে রাইয়ানকে ইশকুলে যেতে হবে। বই না দেখে তো সে উড়তে পারবে না। ইশকুল-ব্যাগ কাঁধে নিয়ে চেষ্টা করলো। কিন্তু বাতাসের সঙ্গে ঘুরে পড়ে গেলো।

আরো একটা মজার কাণ্ড হলো। আমার কাজিন আফরা- বই দেখে দেখে সে জাদুর কেক বানানো শিখেছিলো। আজ কেক বানাতে গিয়ে গোবরের স্তূপে মুখ ঢুকিয়ে ফেললো।

আল আমিন চাচ্চুর মেয়ে জোহা, মাথায় বেলুন বেঁধে উড়তে চেয়েছিল- কিন্তু বই ছাড়া বেলুনও কাজ করলো না।

সবকিছু উল্টে গেলো। গ্রামের সবাই হতবাক- জাদুর বই কীভাবে হারিয়ে গেলো? কারা চুরি করেছে?
এখন বই খুঁজতে হলেও তো আকাশে উড়তে হবে। হেঁটে হেঁটে কতোটা আর খোঁজ করা যাবে!
রাইয়ান ঠিক করলো, উড়ন্ত পাখিদের সাহায্য নেবে। পাখিদের পিঠে চড়ে সবাই মিলে বই খুঁজবে।
তারা সবাই- রাইয়ান, আফরা আর জোহা- পাখিদের কাছে গেলো। পাখিরা কৌতুহল নিয়ে তাকালো।
একটা বড় পাখি এগিয়ে এলো। তারপর বললো- তোমাদের জাদুর বই আমরা লুকিয়ে রেখেছি।
রাইয়ান জিজ্ঞেস করলো- কেন?
বড় পাখি বললো- তোমরা জাদু দিয়ে আকাশে উড়ো। এতে আমরা ঝুঁকিতে পড়ি। মাঝে মাঝে আমাদের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। ইদানীং মানুষ-পাখি সংঘর্ষে অনেক দুর্ঘটনা ঘটছে। এই কারণে আমরা জাদুর বই লুকিয়েছি।
আফরা অবাক হয়ে বললো- তাহলে আমরা আর উড়তে পারব না?
পাখি মাথা নেড়ে বললো- পারবে। তবে সাবধান হতে হবে। আকাশ শুধু আমাদের জন্য। বই দেখে জাদু শিখে তোমরা উড়তে শিখেছো। এতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু আকাশে আমাদের নিরাপত্তা ঠিক রাখতে হবে।
একটা ছোট পাখি বললো- মানুষের সঙ্গে ধাক্কা খেলে আমরা মাটিতে পড়ে যাই। এভাবে অনেক পাখি মারা গেছে। পাখিরা মারা গেলে পরিবেশ সবুজ থাকবে না। পরিবেশ নষ্ট হলে তোমরাও বেঁচে থাকতে পারবে না।
রাইয়ান মাথা নেড়ে বললো- আমরা এখন থেকে সাবধানে উড়বো। প্রথমে পাখিদেরকে উড়তে দেবো। আমাদের জাদুর বই ফিরিয়ে দাও।
বড় পাখি চুপ করে কিছুক্ষণ ভাবলো। তারপর ডানা ঝাপটিয়ে বললো- তাহলে কথা দাও, আকাশ আর পরিবেশের ক্ষতি করবে না তোমরা।
তিনজন একসাথে বললো- কথা দিলাম।

পাখিরা তখন গাছের ডাল থেকে জাদুর বইটা নামিয়ে দিলো।
বই ফিরে পেয়ে জাদুর গ্রাম আবার জেগে উঠলো।

উপস্থাপনা: শাহ ওবায়েদ নেহান
গল্প: শাহ মুহাম্মদ মোশাহিদ
প্রযোজনা: সজল ফকির

Leave a reply

Loading Next Post...
Follow
Search Trending
Popular Now
Loading

Signing-in 3 seconds...

Signing-up 3 seconds...