লোভী নাপিত ও জাদুর কলস

মিউঁ4 months ago73 Views

হ্যালো বন্ধুরা! তোমরা কেমন আছো? আচ্ছা, তোমাদের কাছে কি এমন কোনো বাকসো আছে, যাতে একটা চকোলেট রাখলে একশোটা হয়ে বেরিয়ে আসে? নেই তো?

কিন্তু জানো, একবার এক কাঠুরিয়া ঠিক এইরকম একটা জাদুর বাকসো খুঁজে পেয়েছিলো। না না, বাকসো না বাকসো না, কলস। আর সেই কলসটা নিয়ে কী কী কাণ্ড ঘটেছিলো জানো? একজন লোভী নাপিত তো সেই কলসের পাল্লায় পড়ে নাস্তানাবুদ হয়ে গিয়েছিল!

চলো আজ আমরা সেই জাদুর কলস আর লোভী নাপিতের গল্পটা শুনি-

এই খবর পৌঁছে গেলো এক লোভী নাপিতের কানে

অনেক অনেক দিন আগের কথা। এক ছোট্ট গ্রামে থাকতো এক গরিব কাঠুরিয়া। তার নাম ছিলো রহিম। রহিমের কাছে ছিলো শুধু একটা পুরনো কুড়াল আর এক চিলতে ভাঙা ঘর। কিন্তু মানুষ হিসেবে সে ছিলো একদম খাঁটি সোনার মতো সৎ।

এক কাঠফাঁটা দুপুরে বনের ভেতর কাঠ কাটতে কাটতে রহিম ক্লান্ত হয়ে পড়লো। “উফ, খুব তেষ্টা পেয়েছে!”—এই বলে সে একটা ঝরনার খোঁজে গেলো। ঝরনার পাশে যেতেই ঝোপের আড়ালে ঝকঝক করে উঠলো কিছু একটা। কাছে গিয়ে দেখে, মাটির নিচে আধো-চাপা পড়া একটা পুরনো তামার কলস।

রহিম ভাবলো, ” কলসটা বাড়ি নিয়ে যাই, পানি রাখা যাবে।”

বাড়ি ফিরে সে কলসটা রাখলো। তারপর দুপুরে খাওয়ার জন্য যে রুটিটা সাথে ছিলো, সেটা কলসের ভেতরে রেখে দূরে হাত ধুতে গেলো। ফিরে এসে সে রুটিটা নিতে কলসের ভেতর হাত দিলো। ওম্‌মা, রহিমের চোখ কপালে উঠে গেলো! একটা রুটির জায়গায় কলস থেকে বেরিয়ে এলো একশোটা রুটি!

রহিম অবাক হয়ে একটা পয়সা ফেললো ভেতরে। অমনি ঝনঝন শব্দ করে কলস ভরে গেলো চকচকে সোনার পয়সায়! রহিম বুঝতে পারলো, এটা সাধারণ কলস না, এটা একটা জাদুর কলস!

এরপর থেকে এই কলস দিয়ে রহিম খাবার বানায়। পয়সা বানায়। সে কিন্তু একা একা খায় না। গ্রামের গরিব-দুঃখীদেরকে খাবার বিলিয়ে দেয়। পয়সা দিয়ে সাহায্য করে।

এই খবর পৌঁছে গেলো এক লোভী নাপিতের কানে। নাপিতের নাম ‘গবু’। সে ভাবলো, জাদুর এই কলস ওই কাঠুরিয়ার কাছে থাকবে কেন? ওটা তো আমার কাছে নিয়ে আসতে হবে!

এক অন্ধকার রাতে চুপিচুপি রহিমের ঘরে ঢুকে গেলো গবু। তারপর কলসটা চুরি করে নিয়ে এলো। নিজের ঘরে গিয়ে খুশিতে নাচতে লাগলো। সে ভাবলো, “আমি যদি এই কলসে এক মুঠো চাল রাখি, তাহলে সারা দেশের সব চালের মালিক হয়ে যাবো!”

গবু ছিলো খুব অস্থির। তাড়াহুড়ো করে সে কলসটার ভেতর উঁকি দিয়ে দেখতে গেলো। ভেতরে কিছু আছে কি না। ঠিক তখনই ঘটলো এক বিপত্তি! গবুর পকেট থেকে তার চিরুনি আর কাঁচি পড়ে গেলো কলসের ভেতর।

আর যায় কোথায়! মুহূর্তের মধ্যে কলস থেকে ঝরনার মতো বের হতে লাগলো হাজার হাজার চিরুনি আর কাঁচি! গবুর ঘর ভরে গেলো চিরুনি দিয়ে। বিছানা ঢেকে গেলো কাঁচি দিয়ে। একটা কাঁচি গিয়ে গবুর নাকে লেগে গেলো। গবু ভয়ে চিৎকার করে উঠলো, ‘বাঁচাও! বাঁচাও!’

চিরুনির পাহাড়ে চাপা পড়ে গবু আধমরা হয়ে গেলো। সারা রাত সে চিরুনি আর কাঁচি সরাতে সরাতে হয়রান। পরদিন সকালে সে নাকে খত দিয়ে কলসটা হাতে নিলো। তারপর রহিমের কাছে দৌড়ে গেলো।

গবু কাঁদতে কাঁদতে বললো, ‘ভাই রহিম, আমাকে মাফ করে দাও! আমি তোমার জাদুর কলস চুরি করেছিলাম। কিন্তু এখন আমার জান যায় যায়!”

রহিম মুচকি হেসে কলসটা ফেরত নিলো। সে জানতো, এই কলস কেবল সৎ মানুষের হাতেই ভালো থাকে। রহিম আবার আগের মতো সবাইকে সাহায্য করতে লাগলো। সেই থেকে নাপিত গবু পরের জিনিসের ওপর লোভ করা ছেড়ে দিলো।

আচ্ছা বন্ধুরা, এই জাদুর কলসটা পেলে তোমরা কী করতে বলো তো? মনে রেখো- এই কলস কেবল সৎ মানুষের হাতে গেলেই ঠিকমতো কাজ করে।

0 Votes: 0 Upvotes, 0 Downvotes (0 Points)

Leave a reply

    Join Us
    • Facebook
    • Youtube
    Deal Of The Month
      Categories

      Advertisement

      Loading Next Post...
      Follow
      Search Trending
      Popular Now
      Loading

      Signing-in 3 seconds...

      Signing-up 3 seconds...