কোরবানি শেষ হওয়ার ঠিক কয়েক ঘণ্টা পর আমাদের দেশে টেনশন শুরু হয়- চামড়াটা কত টাকায় বিক্রি হবে? এক সময় যে চামড়া কিনতে ব্যবসায়ীরা বাড়িতে এসে অগ্রিম টাকা দিয়ে যেতো, এখন সেই চামড়া ফ্রিতে দেওয়ার জন্যও কসাই বা মৌসুমি ব্যবসায়ীদের খুঁজে পাওয়া যায় না। সরকার দাম নির্ধারণ করে দিচ্ছে, তবে মাঠ পর্যায়ে এসে সেই দাম উধাও হয়ে যায়! কিন্তু কেন এই দশা?

কারণ মধ্যস্বত্বভোগী বা সিন্ডিকেট ভালো করেই জানে- আপনি চামড়া বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারবেন না, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি না করলে পঁচে যাবে। যদি এই সিন্ডিকেটের মুখে ছাই দিয়ে আপনি নিজেই পশুর চামড়া মাসের পর মাস সংরক্ষণ করে রাখতে পারতেন, তাহলে কেমন হতো?
হ্যাঁ, এটা সম্ভব! আজ আমরা জানবো আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়াই, মাত্র কয়েক কেজি লবণ দিয়ে কীভাবে আপনার এলাকার চামড়ার দাম নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
২০১৩ সালে ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ছিল ৮৫ থেকে ৯০ টাকা, ২০২৬ সালে এসে সরকারি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৬২ থেকে ৬৭ টাকা! অথচ এই সময়ে গরু থেকে শুরু করে লবণের দাম— বেড়েছে সবকিছুরই। এই লস থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো— স্থানীয় পর্যায়ে চামড়া সংরক্ষণ। অর্থনীতি বলে, যেদিন জোগান বেশি, সেদিন দাম কম। তাই ঈদের দিনই সব চামড়া বিক্রি না করে সংরক্ষণ করে পরে বিক্রি করতে পারি। তাহলে সিন্ডিকেট ভাঙতে বাধ্য!
১. এলাকাভিত্তিক’ সমবায় সংরক্ষণ
এককভাবে একজনের পক্ষে চামড়া প্রসেস করা কঠিন হতে পারে। তাই সবচেয়ে স্মার্ট উপায় হলো- পাড়ার সব কোরবানিদাতা এক হয়ে যাওয়া। মসজিদের কমিটি বা তরুণরা মিলে একটি নির্দিষ্ট খালি জায়গা বা ক্লাবে ঈদের দিনের সব চামড়া জড়ো করুন।
২. ম্যাজিক সল্টিং
চামড়া সংরক্ষণ করা রকেট সায়েন্স নয়! পশু জবাইয়ের ২ থেকে ৩ ঘণ্টার মধ্যে চামড়া ভালো করে ধুয়ে ভেতরের চর্বি বা রক্ত পরিষ্কার করে নিন। এরপর খাটি মোটা দানার লবণ- গরুর চামড়ার জন্য প্রায় ৭ থেকে ৮ কেজি, ছাগলের জন্য ১ থেকে ২ কেজি, চামড়ার মাংসের অংশে ভালো করে লেপে দিন। একটির ওপর আরেকটি চামড়া স্তরে স্তরে বিছিয়ে রাখুন। মাটিতে সামান্য ঢালু জায়গায় রাখলে চামড়ার ভেতরের অতিরিক্ত পানি নিজে নিজেই ঝরে যাবে।
৩. বিকল্প উপায়: ড্রাই সল্টিং ও ঝুলিয়ে রাখা
চামড়ায় লবণ মাখিয়ে কড়া রোদে শুকিয়ে নিতে পারেন। অথবা ছায়াযুক্ত কিন্তু বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে চামড়াটি টান টান করে ঝুলিয়ে দিন, যেন পানি শুকিয়ে যায়। পানি মুক্ত থাকলে এই চামড়া ২ থেকে ৩ মাস অনায়াসে ভালো থাকবে।
একটু সচেতনতা আর সামান্য কয়েক কেজি লবণই পারে আমাদের দেশের এই মূল্যবান সম্পদকে পচন থেকে রক্ষা করতে। এই ঈদে আপনি কি আপনার এলাকার চামড়া সংরক্ষণের উদ্যোগ নিচ্ছেন? কমেন্ট করে আমাদের জানান। ভিডিওটি শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের জানিয়ে দিন সহজ উপায়গুলো। সবাইকে ঈদ মোবারক। -ইনফোজা ডেস্ক
উপস্থাপনা: রিফাত ইসলাম
প্রযোজনা: সজল ফকির