এক ছিল ছোট্ট বানর, তার নাম বানুই।
বানুই ছিল খুব দুষ্টু, সবসময় মজা করতে ভালোবাসতো। বনের সবার সঙ্গে দুষ্টুমি করতো- কখনো পাখির বাসায় দোল দিয়ে পালিয়ে যেতো। খরগোশের যখন গাজর খাওয়ার সময় হতো, তখন দেখা যেতো গাজরগুলো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আসলে বানুই ওগুলো লুকিয়ে রাখতো।
মাঝে মধ্যে বন থেকে বের হয়ে লোকালয়েও যেতো বানুই। মানুষের দেখা পেলেই মুখ ভ্যাঙচে দিতো।
বানুইয়ের দিন এভাবেই কাটছিলো।
এক সকালের কথা-
খুব খিদে পেয়েছে বানুইয়ের। একটা কলা গাছের নিচে গেলো সে। গাছে কলা ঝুলছে, পেঁকে হলুদ হয়ে আছে। কলাগুলো বেশ বড়-সর, দেখতে নাদুস-নুদুস।
এক লাফে গাছের মাথায় উঠে গেলো বানুই। একটা কলা ধরলো। ওম্-মা! কলাটা দেখি কথা বলতে জানে!
– এই! এই! বানুই, আমাকে খেও না বলছি!
বানুই ভয়ে লাফ দিয়ে তিন হাত দূরে গিয়ে পড়লো। তারপর কাঁপতে কাঁপতে বললো- কে? কে কথা বলে?
কলা জবাব দিলো- আমি, জাদুর কলা! কথা বলতে পারি। আমাকে খেতে চাইলে একটা ধাঁধার উত্তর দিতে হবে তোমাকে। তারপর খেতে পারবে।
বানুই মাথা চুলকে বললো- আচ্ছা বলো দেখি, তোমার ধাঁধা।
কলা বললো- “শুঁড় আছে পাখা আছে, তবে নয় হাতি কিবা পাখি। অদ্ভুত প্রাণীটার নাম জানো নাকি?”
বানুই খুব চিন্তায় পড়ে গেলো!

সে অনেক ভাবলো। মাথা চুলকালো, লেজ নাচালো, গাছে উঠলো, আবার নামলো। আবা…র উঠলো। তারপরও ভেবে পাচ্ছে না, কি হতে পারে !
পাশে অন্য একটি গাছে বসে ছিলো সুন্দরী টিয়া। সব শুনে টিয়া পাখি হেসে বললো- ওটা তো মশা!
বানুই বললো- আরে! এটা তো আমি জানতাম!
কলা হেসে বললো- ঠিক উত্তর! এবার আমাকে খেতে পারো… কিন্তু একটা শর্ত আছে।
বানুই অবাক হলো- আ..বার শর্ত?
কলা বললো- আজ থেকে কারো সঙ্গে দুষ্টুমি করা যাবে না! কথা দিতে হবে, তবেই আমাকে খেতে পারবে।
বানুই একটু ভেবে বললো- ঠিক আছে, আমি ভালো বানর হয়ে যাবো। কারো সঙ্গে দুষ্টুমি করবো না।
কলা তখন জাদু করে একসাথে দশটা মিষ্টি কলা হাজির করলো। বানুই এতো খুশি হলো, যে হাসতে হাসতে গাছ থেকে টুপ করে পড়ে গেলো!
জাদুর কলাটাকে যে খেতে হবে, সেটা সে ভুলেই গেলো।
গল্প: সজল ফকির