ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ, তোমরা একেকটা আগুনের গোলাকে ডাকসুতে পাঠিয়েছো। সর্বমিত্র চাকমার খেল দেখে শেষ করতে না করতেই পর্দায় চলে এলো রাফিয়া। আসলে ওরা পর্দায় আসেনি, তাদেরকে নিয়ে আসা হয়।
এদের পেছনে ফেউ লেগে থাকে। যেখানে যায়, সেখানেই ক্যামেরা। আর ফেউগুলো নিজেদের কাজ বাদ দিয়ে অলটাইম তাকিয়ে থাকে এদের দিকে।
দুর্নাম করার ইস্যু খোঁজে। ইস্যু না পেয়ে বানিয়ে বানিয়ে দুর্নাম করে। তারপর ধরা খায়।
সর্বমিত্রর বিরুদ্ধে মাদকমিত্ররা সক্রিয় ছিলো। সেখানে সুবিধা করতে না পেরে এবার ধরেছে রাফিয়াকে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানো হচ্ছে এই মেয়েটার বিরুদ্ধে। অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করা হচ্ছে। শেষমেষ ময়মনসিংহে রাফিয়ার বাড়িতে ফুটানো হয়েছে ককটেল।
আমি যখন আলাপ শুরু করেছি, তখন পর্যন্ত ককটেল যারা ফুটিয়েছে, তাদেরকে ধরতে পারেনি পুলিশ। কারণ ককটেল খোঁজায় এদের মন থাকে না। এদের হাত উসখুস করে। নুরুল হক নুরুকে দেখলে মারতে ছুটে যায় সেনাবাহিনী। পঙ্গু জুলাইযোদ্ধাদের ভাঙা হাত আবার ভেঙে দিতে ইচ্ছা করে পুলিশের। যে লোকটা একবার জুলাইয়ে পা হারিয়েছে, তাকে আবার রাস্তায় চিত করে ফেলে দিতে ইচ্ছা হয়!
এই ইচ্ছাগুলো যে কেন হয়, পাবলিক তো আর সেটা বুঝতে পারে না!
শেখ হাসিনার মামলার রায়ের দিন আগুন-সন্ত্রাসীদেরকে বাদ দিয়ে জুলাইয়ের লড়াকুদেরকে কেন বেধড়ক পিটানো হয়, সেটাও বোঝার সাধ্য নেই পাবলিকের।
পাবলিকের কাজ কেবল রক্ত দেওয়া। তারপর এই রক্তের ওপর দিয়ে ভালো ভালো পদে চলে যাওয়ার দায়িত্ব মাসুদ আলমদের।
দুঃখিত মাসুদ আলম, রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার
আপনাকে ভালো জানতাম। জুলাইয়ে আপনার ইতিহাস অন্তত সেটাই বলে। কিন্তু আপনার মনের ভেতর কী আছে, সেটা তো পাবলিক জানে না।
এখন ইনিয়ে-বিনিয়ে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন তো?
বত্রিশের সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর প্রায় সব ভিডিও আমার দেখা হয়ে গেছে। একটার সাথে আরেকটা জোড়া লাগালে পুরো ঘটনা পানির মতো পরিষ্কার হয়ে যায়।
আর ভিডিওতে আমি যা যা দেখলাম, ঘটনার পরম্পরাগুলো সেভাবেই ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছে রাফিয়া। সে লিখেছে, ওর বাসা থেকে আসা-যাওয়ার পথে বত্রিশ পড়ে। শেখ হাসিনার রায়ের দিন জুলাইয়ে আহতদের উপর পুলিশ হামলা করছে দেখে এগিয়ে যায় সে। পুলিশকে বোঝানোর চেষ্টা করে। পুলিশও কথা দেয়, আক্রমণ করবে না তারা। কিন্তু তারপরও লাঠি নিয়ে তেড়ে যায় পুলিশ। তারপর বাঘিনীর মতো গর্জে উঠতে দেখা গেছে রাফিয়াকে। প্রেসের ক্যামেরা যখন রাফিয়াকে দেখাচ্ছিলো, উল্টোদিকে তখন জুলাইযোদ্ধাদের বেধড়ক পিটানো হচ্ছিলো। ক্যামেরা ঘুরিয়ে ওই দৃশ্যগুলো দেখানোর জন্য বার বার অনুরোধ করছিলো মেয়েটা।
এক পুলিশ লাঠি হাতে তেড়ে যায় রাফিয়ার বন্ধুর দিকে। রাফিয়া তখন পুলিশ সদস্যকে টেনে ধরার চেষ্টা করে। পুলিশ তখন অপবাদ দিয়ে বসে- রাফিয়া নাকি তার অস্ত্র কেড়ে নিতে গিয়েছিলো!
পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ফাটায়। জুলাইযোদ্ধাদেরকে পশুর মতো পিটায়। রাফিয়া যায় জবাব চাইতে। পুলিশ একটু সরে গিয়ে রাফিয়াকে গালাগালি শুরু করে।
প্রিয় মাসুদ আলম (বিপিএম)
আপনার সরি বলা উচিত।
আপনার পুলিশ ডাকসু নেত্রী রাফিয়াকে গালি দেওয়ার সাহস পেয়েছে কোথায়?
শেখ হাসিনার রায়ের দিন জুলাইযোদ্ধাদের সাথে নৃশংসতার অর্ডার কে দিয়েছে আপনাকে?
আইজিপি বাহারুল আলম সাহেব?
তাকেও তো ভালো লোক বলেই জানি। জুলাইয়ের সময় তিনি যা করেছেন, সেইসব ত্যাগের গল্প আমাদেরকে মুখ ভরে শুনিয়েছিলেন পিনাকী ভট্টাচার্য্য।
পিনাকীর দেওয়া সার্টিফিকেট আছে বলে বাহারুল আলমকে নিয়ে সন্দেহ করতে চাই না। তবে মানুষ ক্ষমতা পেলে বদলে যায়, সেটাও পিনাকী ভট্টাচার্য্যই বলেছেন। আশা রাখি বাহারুল আলম বদলে যাননি।
আর যদি তলে তলে টেম্পু চালিয়ে থাকেন, আপনার চাচা মুজিবুল হক চুন্নুকে জায়েজ করার চেষ্টা করেন, সেটা হবে দুঃখজনক।
জাতীয় পার্টি অথবা আওয়ামী লীগে আত্মীয়-স্বজন থাকা দোষের কিছু না। আর সেগুলো নিয়ে কাউকে খোঁটা দেওয়াও ঠিক না।
কিন্তু বাহারুল সাহেব, কোন আন্দাজে আপনার পুলিশ পঙ্গু জুলাইযোদ্ধাদের পিঠে লাঠি তুলতে গেলো?
আপনার পুলিশ কি রাফিয়ার কাছে ক্ষমা চেয়েছে?
রাফিয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসব গুজব আর অশ্লীল কথা ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলোর ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী?
আসলে অশ্লীলতা নিয়ে কিছু বলার মুখ নেই পুলিশের। কারণ পুলিশে চাকরি করা মানেই মুখ খারাপ থাকবে, এটাই ধরে নেওয়া হয়।
গালাগালি নাকি তাদের কাছে শিল্পের পর্যায়ে পড়ে।
এবার অন্তত আশা করেছিলাম এই শিল্পের পতন হবে। পুলিশে আসবে সংস্কার।
হ্যাঁ, সংস্কার এসেবে, একটা হাবাগোবা মার্কা পোশাক দেওয়া ছাড়া অন্য পরিবর্তন তো দেখা যাচ্ছে না।
প্রিয় আইজিপি
পুলিশের কাজ গালি দেওয়া না, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যারা ককটেল মারে তাদেরকে নিরাপত্তা দেওয়া নয়, সাধারণের নিরাপত্তা দেওয়া। আর আইন প্রয়োগ করা। পুলিশ রেগুলেশন বেঙ্গলে বলা আছে, মানুষের সাথে অপমানজনক আচরণ করা যাবে না। এই আচরণের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও রয়েছে। জাতিসংঘের ‘ল এনফোর্সমেন্ট কোড অব কন্ডাক্টে’ বলা আছে- আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে মানবিক মর্যাদাকে সম্মান করতে হবে।
আপনার পুলিশ একটা নারীকে গালি দিয়েছে, আপনি ওই পুলিশ সদস্যর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন, দয়া করে জানাবেন আইজিপি সাহেব। সেইসাথে রাফিয়ার বাড়ির সামনে কে ককটেল ফুটিয়েছে, তাকে খুঁজে বের করে আনতে হবে আপনাকে। এর মধ্যে যদি বের করে থাকেন, তাহলে একটা ভালো কাজ করেছেন। আর যদি না করে থাকেন, মন লাগিয়ে খুঁজতে থাকুন। আপনারা চাইলে সব সম্ভব।
শুধু এতটুকু মনে রাখবেন, রাফিয়াকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের টার্গেটে পরিণত করার পেছনে দায়ী আপনারা।
বত্রিশের সামনে আপনারাই তাকে হেনস্তা করেছেন। আর এর সুযোগ নিয়ে তার বাড়ির সামনে ককটেল ফুটানো হয়েছে।
জি, আপনারা আওয়ামী লীগের পারপাস সার্ভ করেছেন।
আলাপ: শাহ মুহাম্মদ মোশাহিদ
প্রযোজনা: সজল ফকির