তেল আবিবে কয়টা বাড়ি ধ্বংস করেছে ইরান : আসল ঘটনা কী?

বিশ্লেষণ4 months ago74 Views

গত কয়েকটা এপিসোডে ইসরাইলের ভেতরের খবরগুলো নিয়ে আপনাদের সাথে আলাপ করেছি। কারণ, সেই খবরগুলো গণমাধ্যমে তেমনভাবে উঠে আসে না। যুদ্ধে ইরানের ক্ষতি কেমন হচ্ছে, ইরান ধূলোয় মিশে যাচ্ছে কি না, পশ্চিমা গণমাধ্যমজুড়ে থাকে কেবল সেসব খবর।

ইসরাইলের ক্ষয়-ক্ষতির খবরও থাকে, কিন্তু সেগুলো অনেকটা দায়সারা গোছের। অবৈধ দেশটির কর্তৃপক্ষ যেসব জানায়, সেইসব তথ্যই প্রকাশ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে সেইসব ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণকেও হালকা করে জানানো হয়।

ইসরাইলের ক্ষয়-ক্ষতি কেমন হচ্ছে, আসল চিত্র জানাতে পারছেন না স্থানীয় সাংবাদিকরা। তাদের ওপর কড়াকড়ি আছে। মূলত ইসরাইল সরকার নিজেদের বাজে অবস্থা লুকাতে চাইছে। তবে লুকাতে চাইলেও অনেক কিছু লুকিয়ে রাখা যায় না। মাঝেমধ্যে নিজেদের মুখ ফসকেও বের হয়ে যায় কিছু তথ্য।

যুদ্ধে তেল আবিবে হাজারেরও বেশি বাড়ি-ঘর বসবাসের অযোগ্য হয়ে গেছে, এই তথ্যটি মুখ ফসকে নয়, আনুষ্ঠানিকভাবেই জানিয়েছেন শহরের মেয়র রন হুলদাই। কিন্তু এই হিসাব কতটা সঠিক? ইসরাইলের কর্তৃপক্ষ কি সদা সত্য কথা বলে?

যুদ্ধে তেল আবিবে হাজারেরও বেশি বাড়ি-ঘর বসবাসের অযোগ্য হয়ে গেছে, এই তথ্যটি মুখ ফসকে নয়, আনুষ্ঠানিকভাবেই জানিয়েছেন শহরের মেয়র রন হুলদাই। কিন্তু এই হিসাব কতটা সঠিক? ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি

না। সদা সত্য তো বলেই না। সত্যের ধারেকাছেও বলে না। তবে মাঝেমধ্যে তাদের দেওয়া তথ্যগুলো সত্যের কান ঘেঁষে যায়। এই ক্ষেত্রেও যদি এমন কিছু হয়ে থাকে, তাহলে আমরা ধারণা করতে পারি, ইরানের আক্রমণে তেল আবিবের কয়েক হাজার বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। মেয়র রন হুলদাই কেবল এখানে কিছু সম্পাদনা করেছেন। তিনি ‘ধ্বংস’ শব্দটাকে পরিবর্তন করে ব্যবহার করেছেন ‘বসবাসের অযোগ্য’। আর ‘কয়েক হাজার’কে বলেছেন ‘হাজারের বেশি’ অর্থাৎ ‘মোর দেন থাউজেন্ড’।

তিনি জানিয়েছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বাড়িগুলোর ব্যাপক ক্ষতি করেছে। কিছু ক্ষেপণাস্ত্র এসে সরাসরি পড়েছে। কিছু অস্ত্রকে আকাশেই থামিয়ে দিয়েছে তারা। তবে সেগুলো থেকে ছিটকে আসা শেল রামাত গান এবং বনি ব্রাকের বসতিগুলোর ওপর পড়েছে। এতে মানুষ মারা গেছে। বাড়ি-গাড়ির ক্ষতি হয়েছে।

ইসরাইলি গণমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভ রিপোর্ট করেছে, ইসরাইলি কর্মকর্তারা হিসাব করে দেখেছেন, ইরান ও লেবাননের সঙ্গে ৪০ দিনের যুদ্ধে তাদের খরচ হয়েছে প্রায় ১৭.৫ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া ইসরাইলে ধ্বংস হয়ে যাওয়া স্থাপনাগুলো পুনর্গঠনের খরচ এবং অর্থনীতির চাকা প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার লোকসান তো আছেই।

ইসরাইলি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ত্রিশ হাজার ইসরাইলি ইতোমধ্যে ক্ষতিপূরণের আবেদন করেছেন ‘ট্যাক্স অথরিটির ক্ষতিপূরণ তহবিলে’র কাছে। এগুলোর মধ্যে ১৮,৪০৮টি আবেদন পড়েছে দালান ভবনের ক্ষতিপূরণ চেয়ে। ২,৫৯৪টি আবেদন পড়েছে যন্ত্রপাতির ক্ষতিপূরণ চেয়ে। ৬,৬১৭টি আবেদনে গাড়ির ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে।

গত সপ্তাহে ইসরাইলি অর্থনৈতিক ওয়েবসাইট কালকালিস্ট রিপোর্ট করেছে, জুন মাসে ইরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের যুদ্ধে ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রায় ৩ বিলিয়ন শেকেল বা ১ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় অনুমান করছে, ফেব্রুয়ারির ২৮ থেকে এপ্রিলের ৮ পর্যন্ত যুদ্ধের ক্ষতিপূরণে তাদের খরচ হয়েছে ৬.৫ বিলিয়ন শেকেল।

একটি অবৈধ মিথ্যুক দেশ যদি এই পরিমাণ ক্ষতির হিসাব দেয়, তাহলে তাদের ভেতরের অবস্থাটা কি হতে পারে, ধারণা করুন।

আলাপ: শাহ মুহাম্মদ মোশাহিদ

প্রযোজনা: সজল ফকির

Leave a reply

    Join Us
    • Facebook
    • Youtube
    Deal Of The Month
      Categories

      Advertisement

      Loading Next Post...
      Follow
      Search Trending
      Popular Now
      Loading

      Signing-in 3 seconds...

      Signing-up 3 seconds...