ইসলামাবাদে ইরানের সঙ্গে যা হলো, আলোচনায়ও ভরাডুবি ওয়াশিংটনের

ইসলামাবাদে ইরানের সাথে দর কষাকষিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখছে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা: প্রতীকী ছবি

ইরানের ওপর চালানো বর্বরোচিত হামলা এবং রমজান যুদ্ধে শোচনীয় পরাজয়ের পর আলোচনার টেবিলে নিজেদের হারানো মাঠ ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে আমেরিকা। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতার নতুন তোড়জোড় শুরু হলেও সেখানে মার্কিন প্রতিনিধি দল চরম অচলাবস্থার মুখে পড়েছে। ইরানের ওপর চালানো বর্বরোচিত হামলা এবং রমজান যুদ্ধে শোচনীয় পরাজয়ের পর আলোচনার টেবিলে নিজেদের হারানো মাঠ ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে আমেরিকা। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতার নতুন তোড়জোড় শুরু হলেও সেখানে মার্কিন প্রতিনিধি দল চরম অচলাবস্থার মুখে পড়েছে। প্রতিবেদন তৈরি করেছেন সৈয়দ মূসা রেজা

ইরানের সংবাদ মাধ্যম তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সি জানিয়েছে, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত গত দফার আলোচনায় আমেরিকার নেগোশিয়েশন দলটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জে.ডি. ভ্যান্স। তারা মূলত রণক্ষেত্রে ইরানের কাছে যেসব পরাজয় বরণ করেছে, তা আলোচনার টেবিলে পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু তেহরান তার স্বার্থ রক্ষায় এবং নীতিগত অবস্থানে অনড় থাকায় খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে ভ্যান্সের দলকে।

ইসলামাবাদে ইরানের সাথে এই দর কষাকষিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখছে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা। তবে ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, আলোচনার আয়োজনের চেয়ে বড় বিষয় হলো আলোচনার বিষয়বস্তু। ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জে.ডি. ভ্যান্সের প্রশাসন এমন কিছু অবাস্তব দাবি করছে যা বর্তমান পরিস্থিতির সাথে একেবারেই খাপ খায় না। একদিকে আমেরিকা যুদ্ধে পর্যুদস্ত হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে তারা তেহরানের ওপর এমন সব শর্ত চাপাতে চাইছে যা ইরানের রেড লাইন বা লাল রেখা অতিক্রম করার সমান। তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সি উল্লেখ করেছে যে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে সমঝোতায় অনিচ্ছুক বলে যে ঢাক-ঢোল পিটাচ্ছে, তা মূলত তাদের নিজেদের কূটনৈতিক ব্যর্থতা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা মাত্র।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক এমনকি খোদ আমেরিকান স্ট্র্যাটেজিস্টরা এখন স্বীকার করছেন, ইরানের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে ট্রাম্প চরম বোকামির পরিচয় দিয়েছেন এবং একজন পরাজিত পক্ষ হিসেবেই তিনি আবির্ভূত হয়েছেন। এমতাবস্থায় দ্বিতীয় দফা আলোচনার তোড়জোড় চললেও আমেরিকার জেদ এবং অন্যায্য দাবি না ছাড়লে এই আলাপও ব্যর্থ হতে বাধ্য। বর্তমানে বল এখন আমেরিকার কোর্টে। তারা যদি তাদের পুরনো একগুঁয়েমি বজায় রাখে, তবে রণক্ষেত্রের মতো আলোচনার টেবিলে বা নেগোশিয়েশন অ্যারেনাতেও তাদের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় অপেক্ষা করছে। ওয়াশিংটনের হাতে সময় খুব দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, আর আবারো দেয়া এই সুযোগ হেলায় হারালে তাদের জন্য ইসলামাবাদ হয়ে উঠবে এক দুঃস্বপ্নের নাম।

Leave a reply

Loading Next Post...
Follow
Search Trending
Popular Now
Loading

Signing-in 3 seconds...

Signing-up 3 seconds...