ওসমান হাদিকে গুলি করার পর হয়রান হয়ে আসামিদের খুঁজছে পুলিশ। গোয়েন্দারা ব্যস্ত। আসামি ধরতে ইনকিলাব মঞ্চ’র নেতাদের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ চাইলেন তারা। এতটুকু কাজও নিজেরা গিয়ে করবেন না লাটবাহাদুর সাহেবরা।
বাহাদুররা ঘোষণা দিলেন- আসামিদেরকে যারা ধরিয়ে দিতে পারবে, তাদেরকে দেওয়া হবে পঞ্চাশ লাখ টাকা।
ভাবখানা এমন, হাদির মাথায় গুলি করার পর আসামিরা রাস্তা-ঘাটে ঘুরাফেরা করছে, চায়ের দোকানে যাচ্ছে চা খেতে। মানুষের সাথে গল্প-গুজব করছে। কেউ যদি তাদের চিনে থাকে, তাহলে দয়া করে যেন ধরিয়ে দেয়।
কিলাররা তো বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের মতো ‘বলদ’!
ভুল বললাম, ‘বলদ’ না। এরা এতোদিন ভারতীয় গোয়েন্দাদের ওপর নির্ভর করতো। আর তাদের হয়ে মানুষ খুন করতো।
দুঃখিত, এই চূড়ান্ত কথাটা সবার জন্য সত্যি না। এখনো অনেকে কাজ করছেন। তারা আগাম সতর্কতা দিচ্ছেন। কিন্তু যাদের সতর্ক হওয়ার কথা, তারা সতর্ক হচ্ছেন না।
অথবা সরকারের নীতি-নির্ধারকেরা সতর্ক হলেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করতে চাচ্ছে না।
পুলিশ চাইলে সব পারে। কিন্তু চায় না আরকি।
জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশের পুলিশ ব্যস্ত হয়ে উঠলো তথাকথিত ‘মব’ ঠেকাতে। সরকারও চেঁচামেচি শুরু করলো ‘মব’ ‘মব’ বলে।
শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর পুলিশের মানসিক অবস্থা ভালো ছিলো না। নিষ্ক্রিয় ছিলো অনেকদিন। এই সুযোগে ঢাকার গলিতে ডাকাত নেমেছিলো। মানুষ পুলিশ কল করতো। পুলিশ কোথাও যেতো, কোথাও যেতো না। ওরা তখন ‘ভ্যাক’ ধরেছিলো।
পরে ডাকাত খেদানোর দায়িত্ব পাবলিককেই নিতে হয়েছিলো। রাত জেগে পাহারা বসাতো তারা। এই পাহারার ঠ্যালায় চাঙ্গে উঠেছিলো আওয়ামী লীগের ডাকাতি। অবশ্য ওইসময় সেনাবাহিনীর কাজ প্রশংসনীয়।
আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসরদের ব্যাপারে সতর্ক ছিলো জুলাইযোদ্ধারা। কিন্তু তখন ‘মব’ ‘মব’ বলে চিৎকার করে উঠলো কুশীলরা।
জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে নুরুল হক নুরু কেন মিছিল করেন, এ কারণে নুরুর গায়ে হাত তুললো সেনাবাহিনী?
শেখ হাসিনার রায়ের দিন জুলাইযোদ্ধাদের মারধর করলো পুলিশ।
অথচ এরাই বুক পেতে আগলে রেখেছে এই সরকারকে।
কিন্তু অথর্ব সরকার তাদের নিরাপত্তা দিতে পেরেছে?
আমি ‘মব’-এর পক্ষে বলছি না। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করার দায়িত্ব যাদের হাতে, তারা যখন ‘ভ্যাক’ ধরে বসে থাকে, তখন মানুষের করার কী আছে?
ভাবুন একবার,
শরিফ ওসমান হাদি, হাসনাত আবদুল্লাহদের ওপর হুমকি কি নতুন কিছু?
আওয়ামী লীগ কিলার পাঠাচ্ছে, এই ঘোষণা তো তারা প্রকাশ্যেই দিয়েছে। শেখ হাসিনা স্বয়ং কিলারদের হাতে মানুষ মারার লাইসেন্স তুলে দিয়েছেন।
তারপরও এখানকার আইন-শৃঙ্খলা-রক্ষাকারীরা সুবোধ হয়ে বসেছিলো কেন?
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অহরহ ঘুরে বেড়াচ্ছে কিলিং টিমের হুমকি। এগুলো কি গোয়েন্দাদের চোখে পড়ে না?
ওসমান হাদি নিজে জানিয়েছেন, তিনি হুমকি পাচ্ছেন। তারপরও স্টেপ নেওয়া হয়নি।
সামনে নেবে, সেটাও বিশ্বাস করতে পারছি না।
সরকারের দায়িত্বশীলরা মুখ ভরে মধুর কথা বলছেন। আপনাদের মধুর কথা ভালো লাগতো, যদি ওসমান হাদিকে গুলি করা না হতো।
আমরা যদি দেখতাম একটার পর একটা কিলার ধরা পড়ছে।
কিন্তু বাস্তবে ঘটলো উল্টো। ওসমান হাদি জীবন-মৃত্যুর সাথে লড়াই করছেন।
ওসমান হাদি যদি বেঁচে না থাকেন, তাহলে তার মূর্তি বানিয়ে পূজা করলে আমাদের কী লাভ হবে?
বাংলাদেশের জন্য দরকার ওসমান হাদিকে। তার মতো আধিপত্যবাদ-বিরোধীদের।
এখন এক হাদি লড়াই করছেন মৃত্যুর সঙ্গে।
আর হাসপাতালের বাইরে বাংলাদেশ-পন্থীরা একেকজন হাদি হয়ে গেছেন।
কয়জনকে মারবে দুশীলদেশ?
বিপ্লবের পর সরকারের সিদ্ধান্তগুলো বিপ্লবী হতে হয়।
কিন্তু আমরা দেখলাম, একটা খাবার স্যালাইন সরকার। এক চিমটি বিপ্লবী, এক চিমটি সুশীল আর এক চিমটি ভারতের দালালদের পরামর্শ নিয়ে এই সরকার চলেছে।
আরেকটা দল আছে, তারা চুপ্পুকে চুপ করে গদিতে বসিয়ে রেখেছেন। চুপ্পু না থাকলে নাকি সঙ্কট হয়ে যাবে।
এখন কী দেখলেন, এই চুপ্পু সাহেব তো অপমান বোধ করছেন। তিনি যদি নির্বাচন সামনে রেখে কোনো অঘটন ঘটিয়ে দেন, এর দায় কে নেবে?
পাবলিক কিন্তু বিষয়গুলো মার্ক করে রাখে।
সুতরাং ছোট স্বার্থ পেতে গিয়ে নিজেদের অস্তিত্বকে বিলীন করে দেওয়ার নীতি কেন নিলেন আপনারা?
আপনারা কি ভাবছেন, কিলারদের টার্গেটে কেবল শরিফ ওসমান হাদিরাই আছে?
একটা একটা করে হাদিকে মেরে ফেলার পর গলা টিপে ধরা হবে আপনাদের।
সুতরাং আগে কিলার সামলান।
কিলার সামলানোর নাম করে আবার সাধারণ মানুষ আর নির্দোষ আওয়ামী সমর্থকদের হয়রানি করতে যাবেন না। একটা লোক হয়তো আওয়ামী লীগকে ভোট দিতো। কিন্তু তিনি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত না, তাকে হয়রানি করলে অভিশাপ পাবেন।
আপনি যদি ভালো কাজ করেন, তাহলে আওয়ামী লীগের সেই সমর্থকের মন বদল হয়ে যেতে পারে।
আলাপ: শাহ মুহাম্মদ মোশাহিদ
প্রযোজনা: সজল ফকির