গাঢ় হয়ে আসছে রাত। দুর্গাপুরের বনে জ্বলছে টর্চের আলো। মেছো বিড়ালের দুটি ছানা ঢুকে যাচ্ছে বনের ভেতর। বনভূমিতে তখন ঝিঁঝিঁর ডাক।
বিরল প্রজাতির এই ছানাদু’টিকে উদ্ধার করা হয়েছে নেত্রকোনার দুর্গাপুরের একটি মুরগির খোয়ার থেকে।
সোমবার রাতে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সেভ দ্য অ্যানিমেলস অব সুসং’–এর কর্মী আর বনবিভাগের কর্মকর্তারা অবমুক্ত করে এদের।
রবিবার বিকালের কথা- দুর্গাপুর পৌর শহরের পশ্চিম বালিকান্দি গ্রামে হাঁস–মুরগির খোয়ারে ঢুকে যাওয়া ছানাগুলোকে প্রথম দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দা বিএম শাহীন। দেখতে সাধারণ বিড়ালের মতোই। কিন্তু গায়ের রঙ আর শরীরের গঠন সন্দেহ জাগায় তার। কাছে যেতেই ছানাগুলো পালিয়ে যেতে চায়। পরে আটকে যায় জিআই তারে।
শাহীন খবর দেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সদস্যদের। তারা এসে চিনে ফেলেন- এগুলো সাধারণ বিড়ালের ছানা নয়, বরং বিরল প্রজাতির মেছো বিড়াল-ছানা। তখনই শুরু হয় উদ্ধার অভিযান।
ছানাগুলোকে মুক্ত করে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় দুর্গাপুর বনবিভাগ অফিসে। পরিচর্যার সময় তারা খেয়াল করেন- বাচ্চাগুলো মোটামুটি বড়। সুস্থও আছে। অর্থাৎ নিজেদের খাবার নিজেরাই খুঁজে নিতে পারবে ওরা।
গহিন বনে ফেরার মুহূর্ত
রাতের অন্ধকার ঘন হতে হতে বন যখন জেগে ওঠে, ঠিক তখনি তাদের অবমুক্ত করা হয়। নরম ভেজা মাটিতে নামতেই ছানাগুলো থমকে দাঁড়ায়। তারপর ধীরে ধীরে ছুটে যায় বনের দিকে।
রেঞ্জ কর্মকর্তা মজনু প্রামাণিক বলেন, ‘বাচ্চাগুলো যথেষ্ট বড় হওয়ায় নিজেরাই শিকার করে বাঁচতে পারবে। তাই প্রাকৃতিক পরিবেশের কাছেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে ওদের।
মানুষ, প্রকৃতি ও প্রাণের সহাবস্থান
স্বেচ্ছাসেবীরা জানালেন, এটি তাদের ৫৯তম রেসকিউ। এর আগেও উদ্ধার করেছেন অজগর, বনরুই, লজ্জাবতী বানরসহ অনেক বিপন্ন প্রাণ। চলতি বছর উদ্ধার হয়েছিলো আরো দু’টি মেছো বিড়ালছানা। -ইনফোজা প্রতিবেদন