মৌসুম পাল্টানোর সময় নিজের শরীরকে একটু সময় দিন। যত বেশি সচেতন থাকবেন, তত সহজে ঠান্ডা-কাশি এড়াতে পারবেন। ইনফোজার পাঠকদের জন্য দশ টিপস দিয়েছেন ডা. তারান্নুম অর্জিতা
পোশাকে হঠাৎ পরিবর্তন আনবেন না
দিনে গরম লাগলেও সকাল এবং রাতে ঠান্ডা থাকে। তাই পাতলা জামার নিচে হালকা ফুলহাতা পোশাক বা গলায় পাতলা কাপড় রাখুন। গরমে খুলে রাখলেও ঠান্ডা পড়লে যেন সহজে পরে নিতে পারেন।
শরীরে ঠান্ডা ও গরমের ভারসাম্য রাখুন
ঘাম ঝরানোর পর হঠাৎ ঠান্ডা বাতাসে যাবেন না। এতে সর্দি–কাশি ও জ্বরের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ঘরে ফিরে শুকনো কাপড় বদলে নিন এবং শরীর মুছে ফেলুন।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
এই সময় তৃষ্ণা কমে, কিন্তু শরীরের ভেতরে পানির অভাব বাড়ে। গরম পানি বা হালকা লেবু-পানি পান করুন—এটি ভাইরাস প্রতিরোধে সাহায্য করে।
ভিটামিন সি গ্রহণ বাড়ান
কমলা, পেয়ারা, মাল্টা, আমলকি, লেবু ইত্যাদি ফল নিয়মিত খান। ভিটামিন সি শ্বাসনালীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে সর্দি-কাশি থেকে রক্ষা করে।
ঘুম ও বিশ্রাম ঠিক রাখুন
রাতে ঘুম কম হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়। ৬–৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন, নইলে অল্প ঠান্ডা থেকেও জ্বর হতে পারে।
পরিচ্ছন্ন থাকুন
হাত ধোয়ার অভ্যাস রাখুন—বিশেষ করে বাইরে থেকে এসে, খাওয়ার আগে ও পরে। ভাইরাল ফ্লু বা ঠান্ডা সাধারণত হাতের মাধ্যমে ছড়ায়।
ধূলাবালিতে সাবধান থাকুন
এ সময় বাতাসে ধূলা ও এলার্জি-সৃষ্টিকারী উপাদান বেশি থাকে। বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহার করুন, ফিরে এসে নাক-মুখ ধুয়ে ফেলুন।
গরম খাবার ও পানীয় গ্রহণ করুন
সুপ, আদা-লেবু চা, মধু-মিশ্রিত পানি ইত্যাদি শরীর গরম রাখে ও গলা ব্যথা প্রতিরোধে সহায়তা করে।
হালকা ব্যায়াম চালিয়ে যান
আবহাওয়া ঠান্ডা হতে শুরু করলেও হাঁটা বা স্ট্রেচিং বন্ধ করবেন না। নিয়মিত নড়াচড়া রক্ত চলাচল সচল রাখে ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
ঠান্ডা লাগলে অবহেলা নয়
হালকা গলা ব্যথা বা সর্দি শুরু হলে সঙ্গে সঙ্গে বিশ্রাম নিন, গরম পানি খান, গার্গল করুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন—স্বেচ্ছায় অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না।