মার্কিন রাজনীতিতে এখন এক বিধ্বংসী টর্নেডো বইছে, যার কেন্দ্রে আছেন খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের কট্টর সমর্থকগোষ্ঠী অর্থাৎ ধর্মপ্রাণ খ্রিস্টানদের হৃদয়ে আঘাত দিয়ে ট্রাম্প এখন মহাসংকটে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম পলিটিকো এবং ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ক্যাথলিকদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু পোপ লিওকে ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং নিজেকে যিশু খ্রিস্টের আদলে উপস্থাপন করে চরম বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন এই রিপাবলিকান নেতা। প্রতিবেদন তৈরি করেছেন সৈয়দ মূসা রেজা
নিজের তৈরি করা ইমেজে ট্রাম্প নিজেকে যিশুর রূপে তুলে ধরলেও পরে সাফাই দিয়েছেন, তিনি নাকি কেবল রেড ক্রসের সেবকের ভূমিকা বোঝাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এই খোঁড়া যুক্তিতে কাজ হচ্ছে না; বরং ক্যাথলিক এবং ইভানজেলিকাল প্রোটেস্ট্যান্টদের মধ্যে তাকে নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র অসন্তোষ।
সিবিএস চ্যানেলের সিক্সটি মিনিটস অনুষ্ঠানে পোপের বিরুদ্ধে করা ট্রাম্পের কড়া মন্তব্য এখন তার জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধর্মীয় রক্ষণশীলদের কাছে যে ট্রাম্প ছিলেন ত্রাতা, সেই ট্রাম্পের প্রতি এখন আর কোনো অন্ধ সমর্থন দেখা যাচ্ছে না। প্রভাবশালী রেডিও ব্যক্তিত্ব এরিক এরিকসন সোজাসুজি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ধর্মপ্রাণ ভোটাররা যা ভেবে ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন, তারা আসলে তা পাননি। ট্রাম্পের অভিবাসন প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়া, জিনিসপত্রের লাগামহীন দাম আর ইরানের সাথে যুদ্ধের উত্তেজনা নিয়ে সমর্থকরা আগে থেকেই বিরক্ত ছিলেন। এর ওপর পোপকে আক্রমণ আর যিশু সেজে নিজেকে দেবতুল্য প্রমাণের চেষ্টা যেন কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে।
রিপাবলিকান পার্টির ভেতরের খবর হলো, ট্রাম্পের এই আচরণে তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টারাও এখন লজ্জিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার এক ক্যাথলিক মিত্র জানিয়েছেন, এই সময়ে এমন ভুল করা মানে দুই ফ্রন্টে অর্থাৎ ক্যাথলিক এবং প্রোটেস্ট্যান্ট—উভয় দিক থেকেই সমর্থন হারানো। সাম্প্রতিক জনমত জরিপেও এর প্রতিফলন স্পষ্ট।
সিবিএস নিউজ এবং ইউগভের তথ্য বলছে, ট্রাম্পের সার্বিক জনপ্রিয়তা এখন ৩৯ শতাংশে নেমে এসেছে, আর অর্থনীতির ওপর আস্থা আছে মাত্র ৩৫ শতাংশ মানুষের। ডেমোক্র্যাটরা এখন রিপাবলিকানদের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কাজে লাগিয়ে ২০২৮ সালের নির্বাচনের পথ পরিষ্কার করতে চাইছে। ধর্মীয় ভিত্তি ধসে পড়লে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার আবারো সচল হবে কি না, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে চলছে টানটান উত্তেজনা।
