বাংলাদেশ বজ্রপাতের ডেথ জোন! তালগাছ কি সমাধান? 

মাত্র ২৪ ঘণ্টায় দেশের সত জেলায় ১৪টি প্রাণ কেড়ে নিয়েছে আকাশ থেকে নেমে আসা আগুনের গোলা। রবিবার সকাল, দুপুর ও বিকালে গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, ঠাকুরগাঁও, বগুড়া, নাটোর ও পঞ্চগড় জেলায় এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। বজ্রপাতে একটি গরুর মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। এই মৃত্যুগুলো কেবল কিছু সংখ্যার পরিসংখ্যান নয়, অশনিসংকেত। বলা যায় আক্ষরিক অর্থেই বজ্রপাতের এক ভয়ংকর ‘ডেথ জোন’-এ পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনে পৃথিবীর তাপমাত্রা প্রতি এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে বজ্রপাতের শঙ্কা বেড়ে যায় প্রায় ১২ শতাংশ। উত্তরে হিমালয় আর দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। এই দুই ভৌগোলিক বিপরীত মেরুর মাঝে বাংলাদেশে এখন বয়ে যাচ্ছে উত্তপ্ত বাতাস। এই বাতাসে ভেসে আসছে বজ্রমেঘ। আর এই মেঘ থেকেই পতন হচ্ছে হাজার হাজার ভোল্টের প্রাণঘাতী বিদ্যুৎ।

বলা হয়ে থাকে যে বাড়িতে তালগাছ থাকে, সেই বাড়িতে মানুষের ওপর বজ্র পড়ে না। তালগাছ বজ্র টেনে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমানে প্রশ্ন উঠেছে, তালগাছ নিয়েও।

একটি লম্বা তালগাছ প্রাকৃতিক বজ্রনিরোধক বা লাইটেনিং অ্যারেস্টার হিসেবে কাজ করে। যা বিদ্যুৎকে নিজের শরীরে শুষে নিয়ে মাটিতে পাঠিয়ে দেয়। ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি

একটি লম্বা তালগাছ প্রাকৃতিক বজ্রনিরোধক বা লাইটেনিং অ্যারেস্টার হিসেবে কাজ করে। যা বিদ্যুৎকে নিজের শরীরে শুষে নিয়ে মাটিতে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু রূঢ় বাস্তবতা হলো, একটি তালগাছ বজ্রপাত ঠেকানোর মতো উচ্চতায় পৌঁছতে সময় নেয় অন্তত বিশ থেকে ত্রিশ বছর। অথচ আমাদের মাঠগুলো এখন সবুজশূন্য ধু ধু প্রান্তর। এই প্রান্তরে একজন কৃষক বা পথচারীই হয়ে দাঁড়ান এলাকার সবচেয়ে উঁচু লক্ষ্যবস্তু। এতে বজ্র এসে পড়ে তার ওপরই।

দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় তালগাছ বজ্রনিরোধক হলেও, এই জরুরি অবস্থায় এটিই একমাত্র রক্ষাকবচ নয়।

সুতরাং আমাদের এখন আধুনিক বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন করতে হবে। সেইসাথে সচেতন থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, বিদ্যুৎ চমকানোর ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই শব্দ শোনা গেলে ধরে নিতে হবে আপনি বিপদের বৃত্তে আছেন। আপনাকে চলে যেতে হবে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে। আর শেষবার যখন বজ্রপাত হয়, এর ত্রিশ মিনিটের মধ্যে ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না।

ঘরের ভেতরে থাকলেও টিউবওয়েল স্পর্শ করবেন না। ল্যান্ডফোন ব্যবহার করবেন না। বজ্রপাত পানির পাইপ বা তারের মাধ্যমে প্রবেশ করতে পারে ঘরেও।

কৃষিকাজের সময় কাস্তে বা লাঙল সাথে রাখা বিপজ্জনক। এগুলো বজ্রপাত আকর্ষণ করতে পারে।

এই মৃত্যুমিছিল থামাতে হলে বিজ্ঞানসম্মত সচেতনতাই হতে পারে আমাদের প্রধান হাতিয়ার। – ইনফোজা প্রতিবেদন

0 Votes: 0 Upvotes, 0 Downvotes (0 Points)

Leave a reply

    Join Us
    • Facebook
    • Youtube
    Deal Of The Month
      Categories

      Advertisement

      Loading Next Post...
      Follow
      Search Trending
      Popular Now
      Loading

      Signing-in 3 seconds...

      Signing-up 3 seconds...