হার মানল তেল আবিব ও ওয়াশিংটন: জয়ী তেহরান আর তার মিত্ররা

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত হিসাবের খাতাটা উল্টে গেছে। দীর্ঘ ৪১ দিনের এক রক্তক্ষয়ী আর চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর এখন সারা বিশ্বের সামনে একটা বিষয় পরিষ্কার—এই লড়াইয়ে ইরান আর তার মিত্ররা শুধু টিকেই থাকেনি, বরং বিজয়ী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। প্রতিবেদন তৈরি করেছেন সৈয়দ মূসা রেজা

মজার ব্যাপার হলো, ইরানের ওপর কোনো শর্ত চাপানো যায়নি; বরং ওয়াশিংটন আর তেল আবিবই প্রতিটি ধাপে পিছু হটেছে। ইরান বুঝিয়ে দিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে তারা এখন কত বড় শক্তি। ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি

 ইহুদিবাদী ইসরাইলি সংবাদ মাধ্যমগুলোতে এখন হাহাকার। তাদের ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরাইল এই যুদ্ধে অত্যন্ত শোচনীয়ভাবে হেরেছে। হিব্রু সংবাদপত্র ‘মা’আরিভ’ তাদের এক নিবন্ধে সরাসরি স্বীকার করে নিয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া শর্তের কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। যুদ্ধবিরতি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এর বিনিময়ে ইসরাইলকে যে মূল্য দিতে হচ্ছে, তা নগদ এবং অনেক চড়া।

মা’আরিভ তাদের রিপোর্টে জানাচ্ছে, এই যুদ্ধবিরতি হয়তো আপাতত যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরাইলের সাথে ইরান এবং তাদের শরিকদের সংঘাত থামাবে। কিন্তু এটা নিছক একটা শুরু। মজার ব্যাপার হলো, ইরানের ওপর কোনো শর্ত চাপানো যায়নি; বরং ওয়াশিংটন আর তেল আবিবই প্রতিটি ধাপে পিছু হটেছে। ইরান বুঝিয়ে দিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে তারা এখন কত বড় শক্তি। নিবন্ধে বলা হয়েছে, ইরান শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ইসরাইল আর পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে গুলি ছুড়েছে এবং যুদ্ধের একদম শেষ বুলেটটাও ছিল তাদের। এত মার খাওয়ার পরও ইরান বুক টান করে দাঁড়িয়ে আছে, এটাই এখন ইসরাইলের জন্য বড় মাথা ব্যথার কারণ।

লেবাননের পরিস্থিতি নিয়েও ইসরাইলি সংবাদ মাধ্যমগুলোর ক্ষোভের শেষ নেই। তাদের মতে, ইসরাইল এই লড়াইয়ে একদম মুখ থুবড়ে পড়েছে। কারণ, এই যুদ্ধবিরতির শর্তে হিজবুল্লাহর অস্ত্র সমর্পণের কোনো কথা নেই। উল্টো ইরান আর হিজবুল্লাহর সম্পর্ক আগের চেয়েও মজবুত হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে হিজবুল্লাহ যে অবস্থায় ছিল, সামনের দিনগুলোতে তারা তার চেয়েও বহুগুণ শক্তিশালী হয়ে ফিরবে। ইসরাইল চেয়েছিল দক্ষিণ লেবাননকে নিরস্ত্র করতে, কিন্তু বাস্তবে তারা সেই লক্ষ্য থেকে যোজন যোজন দূরে সরে গেছে। মা’আরিভ তো ট্রাম্পকে সরাসরি ‘বিশ্ব ভাঁড়’ বলে কটাক্ষ করতেও ছাড়েনি, কারণ তিনি ইরানের ইচ্ছামতো সব চুক্তিতে সই করেছেন।

এদিকে গত বুধবার মধ্যরাতে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল থেকে এক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেখানে পরিষ্কার করে বলা হয়েছে, লেবানন, ইরাক, ইয়েমেন আর ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সাথে নিয়ে তারা এক ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরাইল তাদের সামরিক লক্ষ্য অর্জনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। ইরানের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন তারা দেখেছিল, তা এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। তেহরান মনে করছে, গত ৪০ দিনে শত্রুপক্ষকে তারা যে চরম আঘাত দিয়েছে, তা মানবজাতির ইতিহাসে চিরকাল গেঁথে থাকবে। সোজা কথায় বলতে গেলে, এই লড়াইয়ের ময়দান থেকে ইরান এক অপরাজেয় শক্তি হিসেবে বেরিয়ে এসেছে।

Leave a reply

    Join Us
    • Facebook
    • Youtube
    Deal Of The Month
      Categories

      Advertisement

      Loading Next Post...
      Follow
      Search Trending
      Popular Now
      Loading

      Signing-in 3 seconds...

      Signing-up 3 seconds...