ইউরোপের হাসপাতালগুলোতে ছিলো না বরফ তৈরির মেশিন। এমনকি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও ছিলো না । ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার পর হাসপাতালগুলো নড়েচড়ে বসেছে। প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে নতুন করে। ফ্রান্সের প্যারিসের এক হাসপাতালের পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন করেছে তুরস্কভিত্তিক গণমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড। প্রতিবেদনে জানানো হয়, জুনে রেকর্ড তাপপ্রাবাহের সময় রোগীদের চিকিৎসা দিতে বরফের যোগান দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে প্যারিসের দক্ষিণের একটি হাসপাতাল ‘প্যারিস-স্যাক্লে’ কর্তৃপক্ষকে।

হাসপাতালটিতে বরফ তৈরির মেশিন ছিলো না। রোগীদের শরীরের তাপ কমিয়ে আনতে আশপাশের ফাস্টফুডের দোকান এবং সুপারমার্কেট থেকে বরফ আনতে হয়েছিলো তাদের। এখন নিজেদের জন্য বরফ তৈরির মেশিন অর্ডার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
গত সপ্তাহের তাপকে ‘ভয়াবহ’ উল্লেখ করে হাসপাতালের পরিচালক সেড্রিক লুসিয়েজ বলেন, ‘ভেবেছিলাম সবকিছুর জন্য আমাদের প্রস্তুতি আছে। কিন্তু আদতে আমরা প্রস্তুত ছিলাম না।’
চিকিৎসক এবং কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক এই সংকট হাসপাতালের প্রস্তুতির ঘাটতিগুলোকে সামনে এনেছে। ইউরোপে শীতের ফ্লুর মতোই তাপপ্রাবাহও স্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে।
গত সপ্তাহে পশ্চিম ইউরোপজুড়ে তীব্র গরম বয়ে যায়। এরপর ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু হাসপাতাল এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের কুলিং সিস্টেম উন্নত করতে ১০০ মিলিয়ন ইউরো ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া সরকার ত্রিশ হাজার এয়ার কন্ডিশনার কিনছে। এগুলোর প্রথম চালান আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই পৌঁছার কথা রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মঙ্গলবার সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এই তাপপ্রবাহ আগামী দিনের মহড়া মাত্র। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ‘সারাবিশ্বের তুলনায় ইউরোপ উত্তপ্ত হচ্ছে দ্বিগুণ গতিতে।’
প্যারিস-স্যাক্লে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডক্টর নিকোলাস গঞ্জালেস জানান, ২০ জুন থেকে গরমে অতিষ্ট রোগীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বাড়তে শুরু করে। টানা সাতদিন এই পরিস্থিতি ছিলো। পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘তীব্র গরম ধেয়ে এসেছিলো বিশাল পাহাড়ের মতো।’
-ইনফোজা ডেস্ক