এই মেঘলা দিনে একলা: মেঘ ও বৃষ্টির আড়ালে  থাকা বিজ্ঞান

আকাশে ঘন মেঘ। ঘরে হয়তো বাজছে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সেই সুর- এই মেঘলা দিনে একলা ঘরে থাকে নাতো মন। রোমান্টিকতার এই মেঘ আর সুরের আড়ালে আছে জটিল বিজ্ঞান।

জলীয় বাষ্প ঘন হয়ে মেঘ তৈরি হয়। এই বাষ্পগুলো আসে নদী, নালা ও সাগর থেকে। সূর্যের তাপে বাষ্পীভূত হয়। বাষ্পগুলো ওপরে উঠে। বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে তাপমাত্রা কম থাকায় ক্ষুদ্র জলকণাগুলো বরফকণায় পরিণত হয়। তারপর ভেসে বেড়াতে থাকে। এই ভেসে বেড়ানো বরফকণাগুলোই মেঘ।

এই মেঘলা দিনে একলা ঘরে থাকে নাতো মন। রোমান্টিকতার এই মেঘ আর সুরের আড়ালে আছে জটিল বিজ্ঞান। ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি

মজার ব্যাপার হলো, একটি মাঝারি আকারের সাদা মেঘের ওজন কয়েক লাখ কিলোগ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। তবুও বাতাসের ঊর্ধ্বমুখী চাপে এটি নিচে পড়ে যায় না। বরফকণাগুলো একটা অন্যটার সাথে ধাক্কা লেগে বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে। আবার কণাগুলো ভারী হয়ে গেছে বাতাস আর সেগুলোকেধরে রাখতে পারে না। তখনই শুরু হয় অঝোর বৃষ্টি।

বৃষ্টির ফোঁটাগুলো সাধারণত ১ থেকে ৬ মিলিমিটার পর্যন্ত হয়। আকাশ ভেঙে পড়ার সময় এর গতি থাকে ঘণ্টায় প্রায় ৮ থেকে ৩২ কিলোমিটার পর্যন্ত। বৃষ্টি হওয়ার ঠিক আগে আমরা যে সোঁদা গন্ধ পাই, সেই গন্ধের পেছনে কাজ করে ‘পেট্রিকোর’ নামে বিশেষ তেল ও ‘জিওসমিন’ নামের ব্যাকটেরিয়া। পেট্রিকো আর জিওসমিনের মিশেলে সোঁদা গন্ধ তৈরি হয়। এছাড়া বজ্রসহ বৃষ্টির সময় বায়ুমণ্ডলে প্রচুর ওজোন গ্যাস তৈরি হয়, ওগুলো বাতাসকে সতেজ ও নির্মল করে তোলে।

মেঘের রং সাদা হওয়ার কারণ হলো এটি সূর্যের আলো সবদিকে সমানভাবে প্রতিফলিত করে। কিন্তু যখন মেঘ অনেক বেশি পুরু ও ঘন হয়, তখন আলো ভেদ করতে পারে না। তখন মেঘগুলোকে আমরা ধূসর দেখি।

আমাদের বাস্তুসংস্থান ও কৃষির প্রধান চালিকাশক্তি হলো বৃষ্টি। তাই মেঘলা আকাশ কেবল বিরহের গানই শোনায় না, পৃথিবীর প্রাণ টিকিয়ে রাখে। – ইনফোজা প্রতিবেদন

0 Votes: 0 Upvotes, 0 Downvotes (0 Points)

Leave a reply

Loading Next Post...
Follow
Search Trending
Popular Now
Loading

Signing-in 3 seconds...

Signing-up 3 seconds...