অক্টোবরের দশ তারিখ যুদ্ধবিরতি হয়েছে গাজায়। কিন্তু এই বিরতিকে কেবল একটা বিভ্রম বলে এক লেখায় উল্লেখ করেছেন লিবিয়ার সাংবাদিক মোস্তফা ফেতুরি। তার লেখাটি প্রকাশ করেছে মিডলইস্ট মনিটর। তিনি লিখেছেন, গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী শাসনব্যবস্থা বা ‘ডে আফটার’ পরিকল্পনা এখন অসার। কারণ ইসরাইল এই চুক্তি চব্বিশশো বারের বেশি লঙ্ঘন করেছে। ইতোমধ্যে ৭২ হাজার ৩০০ শিশু গণহত্যার শিকার হয়েছে গাজায়।
ইরানের ওপর ইসরাইল ও আমেরিকার চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের কারণে গাজা সংকট অনেকটা আড়ালে পড়ে গেছে বলে উল্লেখ করেন ফেতুরি। তিনি লিখেন, গাজা শাসনে ওয়াশিংটন সমর্থিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা ‘ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কমিটি’র মতো যেসব রূপরেখা প্রস্তাব করা হচ্ছে, কোনো পক্ষই সেগুলো গ্রহণ করার মতো অবস্থায় নেই। একদিকে নেতানিয়াহু সরকার ফিলিস্তিনি সার্বভৌমত্বের যেকোনো সম্ভাবনা নাকচ করে সামরিক আধিপত্য বজায় রাখছে, অন্যদিকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ইসরাইলি সামরিক সহায়তায় গাজার শাসনভার নিয়ে নিজেদের বৈধতা হারাতে চায় না। গাজায় পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৭১.৪ বিলিয়ন ডলারের কোনো বাস্তব সংস্থান নেই। এই অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে অর্থ বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে না ধনী আরব রাষ্ট্রগুলো।

পুনর্গঠন সহায়তার বিনিময়ে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছেন বোর্ড অব পিস-এর প্রতিনিধি নিকোলে ম্লাদেনভ, হামাস সেটা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। একে ইসরাইলের প্রতি পক্ষপাত বলে অভিহিত করেছে প্রতিরোধ আন্দোলন। হামাস নেতা খলিল আল-হাইয়া জানিয়ে দিয়েছেন, একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠন, ১৯ বছরের দীর্ঘ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইসরাইলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার ছাড়া কোনো অবস্থাতেই অস্ত্র সমর্পণ হবে না। তাছাড়া এই পরিকল্পনার প্রধান রূপকার ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন ইরানের সাথে যুদ্ধ এবং চীনের সাথে কূটনৈতিক দ্বন্দ্বে ব্যস্ত আছেন। এতে গাজা ইস্যুটি গুরুত্ব হারিয়েছে। ফলে গাজার আগামী কি হবে, সেটা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের আলোচনা অবাস্তব ও লক্ষ্যহীন তাত্ত্বিক চর্চায় সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। – ইনফোজা ডেস্ক