
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর নিয়ে হইচই শুরু করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম। টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য ইকোনমিক টাইমস এবং এনডিটিভির মতো শীর্ষ সংবাদমাধ্যমগুলো এই সফরকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। তাদের মূল আলোচনা ও উদ্বেগ মূলত তিন বিষয়কে কেন্দ্র করে।
প্রথম বিষয় চীনের তিস্তা মহাপরিকল্পনা। ২০১১ সালে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণে তিস্তা চুক্তি আটকে যায়। দেশটির গণমাধ্যম বলছে, দিল্লির এই দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ব্যর্থতার সুযোগ নিয়েছে বেইজিং। ভারতের মূল ভয়—চীনের অর্থ ও কারিগরি সহায়তায় তিস্তা ব্যারাজ বাস্তবায়ন হলে বিপাকে পড়ে যাবে তারা। ভারতের কৌশলগত অঞ্চল ‘শিলিগুড়ি করিডোর’ বা ‘চিকেনস নেক’-এর খুব কাছাকাছি চলে আসবে চীন।
ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় মোংলা বন্দর ও লালমনিরহাট বিমানবন্দর নিয়েও। মোংলা বন্দরের পাশে চীনের সহযোগিতায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন এবং লালমনিরহাট বিমানবন্দরের আধুনিকায়নকে হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। একে ভারত মহাসাগরে চীনের ‘স্ট্রিং অব পার্লস’ বা কৌশলগত বেষ্টনী নীতির অংশ হিসেবে মনে করছেন তারা।
সফরে বাণিজ্য, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতে একাধিক সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষা মহলে বাংলাদেশ-চীন সামরিক সংলাপ এবং সামরিক সরঞ্জাম কেনার সম্ভাবনা নিয়ে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা হয়েছে। যদিও বড় কোনো সামরিক চুক্তির ঘোষণা এখনো আসেনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকে বেশিরভাগ ভারতীয় গণমাধ্যমে নেতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও দূরদর্শী বিশ্লেষকরা বলছেন ভিন্নকথা। তারা মনে করছেন, এই সফরকে ভারতের সাথে শত্রুতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি মাধ্যমে বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির অংশ। তারা মনে করছেন, বাংলাদেশ কোনো একক শক্তির ওপর নির্ভর না থেকে নিজস্ব অর্থনৈতিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছে। তবে বেইজিংয়ে ঢাকার সাফল্য যে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রভাবকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে, সেটা ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোতেই উঠে এসেছে।
ভারতের বেশকিছু গণমাধ্যম বরাবরই চীনের অর্থনৈতিক ঋণকে ‘ঋণের ফাঁদ’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করে। তারা শ্রীলঙ্কা বা পাকিস্তানের উদাহরণ টেনে বাংলাদেশের এই বিপুল চীনা বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যে ডলারের পাশাপাশি ‘ইউয়ান’ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে কি না, সেটা নিয়েও চূলচেরা বিশ্লেষণ করেছে বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের মতো ভারতের অর্থনৈতিক পত্রিকাগুলো।