সিন্দাবাদের দানব হয়ে আমেরিকার কাঁধে ইসরাইল, ভাঙছে সমীকরণ

লন্ডনভিত্তিক সংবাদপত্র আল-কুদস আল-আরবি বরাত দিয়ে ইরানের বার্তা সংস্থা ইরান জানিয়েছে, আরব্য রজনীর সেই বিখ্যাত নাবিক সিন্দাবাদ যেমন এক বুড়ো দৈত্যকে দয়া করে কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন, কিন্তু পরে সেই দানব তাকে আর ছাড়ছিল না—ঠিক তেমনি ইসরাইল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কাঁধে এক অবাধ্য দৈত্য হয়ে চড়ে বসেছে। গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইসরাইলকে দেওয়া ওয়াশিংটনের নিঃশর্ত সমর্থন এখন কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং নৈতিক এবং আর্থিক সংকটের এক বিশাল পাহাড়। এক সময় ইসরাইলকে সমর্থন করাটা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অটুট এক প্রতিশ্রুতি থাকলেও, এখনকার পরিস্থিতি ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় শিবিরের মধ্যেই গভীর ফাটল ধরিয়ে দিয়েছে। গাজা ও লেবাননের ঘরবাড়ি ধ্বংস করতে মার্কিন বোমার যথেচ্ছ ব্যবহার খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই নজিরবিহীন সমালোচনা তৈরি করেছে। প্রতিবেদন তৈরি করেছেন সৈয়দ মূসা রেজা

বিশ্লেষক জুলিয়া নরম্যান দেখিয়েছেন যে, ইসরাইলকে এই অন্ধ সমর্থন দেওয়াটা এখন আর লাভজনক বিনিয়োগ নয়, বরং এক চরম বোঝা। সম্প্রতি মার্কিন সিনেটে ইসরাইলের কাছে কোটি কোটি ডলারের মারণাস্ত্র বিক্রি বন্ধের প্রস্তাবে ডেমোক্র্যাটদের বড় একটি অংশের সায় দেওয়াটা এরই প্রমাণ। যদিও দলের মূল নেতারা এখনো অস্ত্র পাঠানো বন্ধের চূড়ান্ত সাহসী পদক্ষেপ নিতে পারেননি, তবে সাধারণ মানুষের ইচ্ছার সাথে তাদের এই দূরত্ব এখন স্পষ্ট। মার্কিন ভোটারদের বড় অংশই এখন মনে করছেন, ইরানের সাথে যুদ্ধে জড়ানোটা কেবল ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষা করবে, আর তার চড়া মাশুল দিতে হবে সাধারণ মার্কিন করদাতাদের।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের ঢেউ দেখা যাচ্ছে তরুণ সমাজ ও সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যে। ডেমোক্র্যাটদের জয়ের প্রধান কারিগর এই গোষ্ঠীগুলো এখন ওয়াশিংটনের একপেশে নীতির বিরুদ্ধে সরাসরি বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। আন্তর্জাতিক পানিসীমায় ত্রাণবাহী জাহাজে মার্কিন ও বিদেশি কর্মীদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় ওয়াশিংটনের নমনীয় ভূমিকা এই ক্ষোভকে আরও উসকে দিয়েছে। এমনকি ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ স্লোগান দেওয়া রক্ষণশীল রিপাবলিকানদের মধ্যেও এখন ইসরাইলকে সীমাহীন অর্থ দেওয়ার বিরুদ্ধে কড়া সুর শোনা যাচ্ছে।

ফিলিস্তিন ইস্যু এখন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির জন্য এক কঠিন পরীক্ষা। সিন্ধাবাদ যেমন কৌশলে সেই দানবকে কাঁধ থেকে নামিয়ে মুক্তি পেয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও এখন ভাবছেন কীভাবে এই চড়া মূল্যের বন্ধুত্ব থেকে নিজেদের বের করে আনা যায়। দশকের পর দশক ধরে চলা রাজনৈতিক ঐকমত্য এখন ভেঙে চুরমার। মানবাধিকারের প্রশ্ন আর আকাশচুম্বী সামরিক খরচ সামলাতে গিয়ে ডেমোক্র্যাটরা এখন নিজেদের ঘর বাঁচাতেই দিশেহারা। এই অভ্যন্তরীণ চাপ ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Leave a reply

    Join Us
    • Facebook
    • Youtube
    Deal Of The Month
      Categories

      Advertisement

      Loading Next Post...
      Follow
      Search Trending
      Popular Now
      Loading

      Signing-in 3 seconds...

      Signing-up 3 seconds...