

মঈন রব্বানী
ভালো খবর হোক বা খারাপ, গাজায় শান্তি তাদের ওপর নির্ভর করছে যারা তা ধরে রাখার জন্য একেবারেই উপযুক্ত নয়।
মিশরে চুক্তি স্বাক্ষর হয়ে যাওয়ার পর অনেকটাই স্বস্তিতে আছে ফিলিস্তিনিরা। একইসাথে আছে আতঙ্কেও। তাদের আশা খুব বেশি নয়, তারা অন্তত এটা নিশ্চিত, অন্তত কিছুদিনের জন্য গাজা গণহত্যা স্থগিত থাকবে। সেটা যদি বেশিদিনের জন্য হয়, তাহলে আরো ভালো।
মনে রাখতে হবে, এই চুক্তিটি ইসরাইল স্বেচ্ছায় স্বাক্ষর করেনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে আরব ও মুসলিম রাষ্ট্রের নেতাদের দ্বারা হামাসের উপর চাপিয়ে দেওয়া চুক্তির পরিবর্তে, এটি সেই একই নেতাদের অনুরোধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের উপর চাপিয়ে দিয়েছে।
ওয়াশিংটন ফোন করেছিল, এবং নেতানিয়াহু তা মেনে নিয়েছিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পলাতক আসামির বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া একমাত্র “সম্পূর্ণ বিজয়” নেতানিয়াহুর নয়, বরং ট্রাম্পের।
অন্য কথায়, এটি এমন একটি চুক্তি যা কেবলমাত্র মার্কিন প্রতিশ্রুতির মাধ্যমেই টিকে থাকবে। এখানে নেতানিয়াহুর প্রতিশ্রুতি নেই। ইসরাইলের অভ্যাস আছে, যুদ্ধবিরতিকে নিজের ইচ্ছার কাছে নতি স্বীকার করে এবং ওয়াশিংটনের অনুমোদনের মাধ্যমে তা বাতিল করার। অনেক ফিলিস্তিনি আশা করে, ইসরাইল লেবাননে কার্যকর যুদ্ধবিরতির মতো একটি ব্যবস্থা আরোপ করার চেষ্টা করবে।
এই বছরের শুরুতে গাজা উপত্যকায় আরো উদ্বেগজনক নজির স্থাপন করা হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে জানুয়ারির চুক্তিতে একমত হওয়ার পর একতরফাভাবে শর্তগুলো পরিবর্তন করার অনুমতি দেয়। ফিলিস্তিনিরা এই পরিবর্তনগুলো প্রত্যাখ্যান করলে তা বাতিল করে আবার গণহত্যা শুরু করে।
১৯৮২ সালে ইসরায়েলিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিল পিএলওকে নির্মূল করা। বৈরুত অবরোধের সময়, বিভিন্ন যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল। একাধিকবার, ইসরইলি বাহিনী গুলিবর্ষণ এবং গোলাবর্ষণ বন্ধ করে দেয়, কিন্তু ফিলিস্তিনি অবস্থানের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। যখন পরের দল আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালায়, তখন ইসরইল যুদ্ধবিরতি বাতিল ঘোষণা করে এবং আবার আক্রমণ শুরু করে।
ইসরাইল মূলত অন্য পক্ষের মাধ্যমে প্রতিশ্রুতি দেয়, যাতে এই প্রতিশ্রুতি ভাঙতে তাদের অসুবিধা না য়।
সদ্য সমাপ্ত শারম আল-শেখ চুক্তির বিবরণ থেকে আমরা যা জানি, তা থেকে, ইসরাইল গাজা উপত্যকার প্রায় অর্ধেকের উপর ভৌত দখলদারিত্ব বজায় রাখবে। এর দৃষ্টিভঙ্গি সম্ভবত চুক্তিটি সম্পূর্ণরূপে বাতিল করার উপর কেন্দ্রীভূত হবে। অথবা ফিলিস্তিনিদেরকে অসলোর মতো একটি অন্তহীন প্রক্রিয়ায় আটকে রাখার উপর জোর দেবে, যেখানে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত ইতোমধ্যেই তাদের উপস্থিতিকে অবৈধ ঘোষণা করেছে এমন অঞ্চল থেকে আরও প্রত্যাহারের শর্তাবলী এবং পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। লেবাননের ধাঁচের একতরফা যুদ্ধবিরতি দ্বারা এটি আরও জোরদার করা হবে।
এখন ইসরাইলের পা আগুনের কাছে রাখা আছে। এই আগুনের শিখা আরো বাড়িয়ে তুলতে হবে। ফিলিস্তিনিরা এখন বিশ্বদরবারে মানবতা লঙ্ঘন ও অপরাধের জন্য ইসরাইলকে আরো তীব্রভাবে দায়ী করতে পারবে। আর এর মাধ্যমে ইসরাইলের বিরুদ্ধে উঠতে পারে নতুন এক ঢেউ।
মঈন রব্বানী: জাদালিয়ার সহ-সম্পাদক। তিনি সেন্টার ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড হিউম্যানিটেরিয়ান স্টাডিজের একজন অনাবাসী সিনিয়র ফেলো। তার এই লেখাটা দ্যা নিউ আরব থেকে সংক্ষেপে অনুবাদ করেছে ইনফোজা ডেস্ক।