ঈদুল আজহা, এই উৎসবের ওপর নির্ভর করে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশের অর্থনীতির বিশাল অংশ। ঈদুল আজহা মানে কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বিলিয়ন ডলারের বিশাল বিজনেস সাইকেল। পশুর হাট থেকে শুরু করে চামড়া শিল্প, আর মসলার বাজার থেকে শুরু করে গরুর খাবার- এই উৎসবকে কেন্দ্র করে কত হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয় বাংলাদেশে? চলুন হিসাব করে দেখা যাক-

প্রতি বছর ঈদুল আজহায় বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটিরও বেশি পশু কোরবানি হয়। গড়ে প্রতিটি পশুর মূল্য যদি ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকাও ধরা হয়, তবে শুধু পশু কেনাবেচাতেই লেনদেন হয় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা! এই বিশাল অর্থ সরাসরি শহরের মানুষের হাত থেকে গ্রামীণ অর্থনীতিতে স্থানান্তর হয়, যা আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে বড় ভূমিকা রাখে।
কোরবানির ঠিক পরপরই শুরু হয় চামড়া ব্যবসার সবচেয়ে বড় খেলা। বছরের মোট চামড়া সংগ্রহের প্রায় ৬০ শতাংশই আসে এই এক ঈদ থেকে। আন্তর্জাতিক বাজারে এই চামড়ার মূল্য কোটি কোটি ডলার। কিন্তু স্থানীয় বাজারে সিন্ডিকেটের কারণে দাম পাওয়া যায় না। অথচ এই চামড়া প্রক্রিয়াজাত হয়ে জুতো, জ্যাকেট বা ব্যাগ হিসেবে বিদেশে রফতানি হয়। রফতানি থেকে আসে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা।
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এখন কোরবানির অর্থনীতিও বদলে গেছে। প্রবাসীরা বিদেশ বসেই বিকাশ, রকেট বা ব্যাংকের মাধ্যমে ডিজিটাল হাটে টাকা পরিশোধ করে কোরবানি দিচ্ছেন। এই ক্যাশলেস ইকোনমি এবং ঈদের আগে প্রবাসীদের পাঠানো অতিরিক্ত রেমিট্যান্স দেশের ব্যাংকিং খাতকে বিশাল বুস্ট দেয়।
শুধু কি গরু-ছাগল? এই ঈদকে কেন্দ্র করে জমে উঠে মসলার বাজার। এলাচ, দারুচিনি, জিরার বাজার প্রায় কয়েক হাজার কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকে। কামার পাড়ার দা-বঁটি তৈরি থেকে শুরু করে ঈদের দিনের কসাইদের মজুরি, গরুর খাবার- সব মিলিয়ে কয়েক লাখ মানুষের মৌসুমী কর্মসংস্থান তৈরি হয়।
ঈদুল আজহা বাংলাদেশের অর্থনীতির লাইফলাইন বা প্রাণশক্তি। ধর্মীয় ত্যাগের পাশাপাশি এই উৎসব দেশের কোটি মানুষের মুখে খাবার জোগায়। -ইনফোজা ডেস্ক
উপস্থাপনা: রিফাত ইসলাম
প্রযোজনা: সজল ফকির