হাটে নিলে গরুর মন যা বলে, গরুর মনস্তত্ত্ব

বিজ্ঞান1 week ago18 Views

হাটে নেওয়ার পর গরু কী ভাবে, কী করতে ইচ্ছে করে তার, এসব নিয়ে আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি? গরুর হাট মানেই মানুষের চিৎকার, হইচই, লাইটের আলো। এগুলো কি গরুদের ভালো লাগে? আপনি কি জানেন, একটি গরু আপনার গলার আওয়াজ শুনেই বুঝে নিতে পারে আপনি তাকে পছন্দ করছেন নাকি অপছন্দ করছেন?
হ্যাঁ, গরুর মনস্তত্ত্ব বা সাইকোলজি সাধারণ মানুষের ভাবনার চাইতেও উন্নত। আজ আমরা জানবো গরুর মনস্তত্ত্ব এবং লাখ লাখ টাকার গরু তৈরির পেছনের রহস্য।

হাটে নিলে গরুর মন যা বলে

বিজ্ঞান বলে, গরুর স্মৃতিশক্তি বা মেমোরি খুব প্রখর। তারা দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের মুখ মনে রাখতে পারে। আপনি যদি একটি গরুকে ভালোবেসে খাওয়ান, সে আজীবন আপনার মুখ মনে রাখবে। ঠিক একইভাবে, হাটে যদি কেউ তাকে আঘাত করে, সে সেই মানুষটিকে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে ফেলে। এরপর তাকে দেখলেই শিঙ বাগিয়ে তেড়ে যায়।

হাটের তীব্র আলো এবং মানুষের চিৎকার গরুর মধ্যে প্রচণ্ড ‘স্ট্রেস’ বা মানসিক চাপ তৈরি করে। এই চাপ কমাতে অভিজ্ঞ ব্যাপারীরা গরুর চোখে-মুখে ঠাণ্ডা পানি দেয়। তার পিঠে হাত বোলাতে থাকে। এই স্পর্শ গরুকে শান্ত হতে সাহায্য করে।

প্রতিবছর কোরবানির ঈদ সামনে রেখে খামারিরা তাদের বাছাই করা গরুর আকর্ষণীয় নাম দেন। কয়েকবছর আগে কিশোরগঞ্জের খয়রত গ্রামের এক খামারি ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া তার গরুর নাম দিয়েছিলেন ‘উড়াল সড়ক’। কারো গরুর নাম হয় ‘কালা পাহাড়’। এই উড়াল সড়ক আর কালা পাহাড়দের বিক্রি করা হয় দশ থেকে বিশ লাক টাকায়। তাদের ডায়েট চার্ট কিন্তু সাধারণ গরুর মতো নয়। এদের প্রতিদিনের মেন্যুতে থাকে আপেল, মাল্টা, মিষ্টি আলু, স্পেশাল ভুসি এবং বিশেষ এক ধরণের খড়।
কোনো কোনো খামারে গরুর হজম ঠিক রাখতে প্রতিদিন নিয়ম করে বেল বা ইসবগুলের ভুষিও খাওয়ানো হয়! এমনকি এদের জন্য ২৪ ঘণ্টা ফ্যান বা এসির ব্যবস্থা থাকে।

কোরবানি শুধু একটি পশু কেনা আর জবাইয়ের বিষয় নয়, এর পেছনে জড়িয়ে থাকে বছরের পর বছর ধরে খামারিদের শ্রম এবং ভালোবাসা।
এই ঈদে পশুর হাটে গেলে অবশ্যই তাদের সাথে ভালো আচরণ করুন। আর ভিডিওটি ভালো লাগলে সবস্ক্রাইব করুন। -ইনফোজা ডেস্ক

উপস্থাপনা: রিফাত ইসলাম
প্রযোজনা: সজল ফকির

0 Votes: 0 Upvotes, 0 Downvotes (0 Points)

Leave a reply

Loading Next Post...
Follow
Search Trending
Popular Now
Loading

Signing-in 3 seconds...

Signing-up 3 seconds...