দুই কাঠুরিয়া ও এক জলপরীর গল্প

মিউঁ9 months ago158 Views

এক কাঠুরিয়া, কাঠ কাটতে যেতো বনের ভেতর। কাঠ বিক্রি করে যা পেতো, সেটা দিয়েই কোনোরকম খেয়ে-পরে দিন যেতো তার।

একদিন কাঠুরিয়া গেলো নদীর ধারে। একটি গাছ দেখে পছন্দ হলো তার। ওখানে কুড়াল দিয়ে আঘাত করলো। অমনি হাত থেকে কুড়ালটা ছিটকে গেলো। কাঠুরিয়ার কুড়াল গিয়ে পড়লো নদীতে।

নদীটা কিন্তু শান্ত ছিলো না। ভীষণরকম স্রোত বয়ে যেতো। তাছাড়া কুমিরের ভয়ও ছিলো। কাঠুরিয়ার সাহস হলো না নদীতে নামতে।

নিরুপায় হয়ে একটা গাছের গোড়ায় বসে কাঁদতে লাগলো সে।

কুড়াল ছাড়া তো কাঠ কাটা যাবে না। আর কাঠ কাটতে না পারলে ঘরে চুলা জ্বলবে না। চুলা না জ্বললে পেটে খাবার জুটবে না।

নতুন একটা কুড়াল যে কিনে আনবে, সেই সাধ্য কাঠুরিয়ার ছিলো না।

তাহলে কী উপায়?

কাঠুরিয়া যখন কাঁদছিলো, অমনি নদীর পানিতে ঝপাত করে শব্দ হলো।

ওমা, পানির ভেতর থেকে বেরিয়ে এসেছে একটা জলপরী।

জলপরী কাঠুরিয়াকে জিজ্ঞেস করলো- তুমি কাঁদছো কেন?

কাঠুরিয়া বললো- আমার কুড়ালটা পানিতে পড়ে গেছে, তাই কাঁদছি।

জলপরী বললো- ঠিক আছে, তোমার কুড়াল আমি এনে দিচ্ছি। তুমি কান্না বন্ধ করো।

জলপরী আবার ঝপাত করে পানিতে ডুব দিলো। তুলে আনলো একটা সোনার কুড়াল।

পরী জিজ্ঞেস করলো- এটা কি তোমার কুড়াল?

কাঠুরিয়া অবাক হলো। তার কুড়াল তো সোনার ছিলো না। সে সোজাসাপটা জানিয়ে দিলো-

না, এই কুড়াল আমার না।

আবার পানিতে ডুব দিয়ে একটা রুপার কুড়াল নিয়ে এলো জলপরী। তারপর জিজ্ঞেস করলো- এবার বলো, এটা কি তোমার কুড়াল?

এবারও কাঠুরিয়া জানালো- না, এটাও আমার না।

পরী আবার ডুব দিয়ে একটা লোহার কুড়াল এনে দিলো।

আসলে ওটাই ছিলো কাঠুরিয়ার কুড়াল। সে মনের খুশিতে জানালো- হ্যাঁ, এই কুড়ালটাই আমার।

জলপরী কাঠুরিয়ার সততা দেখে মুগ্ধ হলো। তারপর কাঠুরিয়ার কুড়াল ফেরত দিলো। সেইসাথে সোনার ও রুপার কুড়াল দুটিও উপহার দিলো।

জলপরী পানির নিচে ডুব দিলো। কাঠুরিয়া আর তাকে দেখতে পেলো না।

কাঠুরিয়া মনের খুশিতে বাড়ি গেলো। সোনা আর রুপার কুড়াল বাজারে বিক্রি করে অনেক টাকা পেলো। সুখে-শান্তিতে তার দিন যেতে থাকলো।

এদিকে কী হলো জানো?

কাঠুরিয়ার এই গল্পটা পাড়ায় পাড়ায় ছড়িয়ে গেলো। অন্য এক কাঠুরিয়ার লোভ হলো, সেও যাবে ওই নদীর কাছে। তারপর দেখা করবে জলপরীর সাথে।

ওই কাঠুরিয়া, নদীর কাছে গিয়ে কাঠ কাটার অভিনয় করলো। তারপর ইচ্ছা করেই নিজের কুড়ালটি পানিতে ফেলে দিলো। আগের কাঠুরিয়ার মতোই কান্নার ভান করলো।

কান্না শুনে তো নদী থেকে উঠে এলো জলপরী। সেই আগের মতোই সোনার কুড়াল দেখালো সে।

সূর্যের আলোতে ঝলমল করে উঠলো কুড়ালটি। দেখে তো কাঠুরিয়ার লোভ চকচক করে উঠলো। লোভ সামলাতে না পেরে বললো- হ্যাঁ, এটাই আমার কুড়াল।

কাঠুরিয়ার কথা শুনে জলপরী টুপ করে ডুব দিলো। তারপর আর দেখা গেলো না তাকে।

লোভী কাঠুরিয়া হায় হায় করতে শুরু করলো।

সে বুঝতে পারলো, মিথ্যা বলতে গিয়েই তার এমন দশা হয়েছে। সোনা ও রুপার কুড়াল তো পেলোই না, নিজের লোহার কুড়ালটিও হারাতে হলো তাকে।

দুই কাঠুরিয়া ও এক জলপরীর গল্পটা এখানেই শেষ। নতুন গল্প পেতে তোমাদের চোখ রাখতে হবে ইনফোকিডসে।

আর হ্যাঁ, এই গল্পে লোভী কাঠুরিয়ার যে পরিণতি হলো, সেটা কিন্তু তোমাদের মনে রাখতে হবে।

সাবধান, কখনো লোভ করতে যেয়ো না।

0 Votes: 0 Upvotes, 0 Downvotes (0 Points)

Leave a reply

    Join Us
    • Facebook
    • Youtube
    Deal Of The Month
      Categories

      Advertisement

      Loading Next Post...
      Follow
      Search Trending
      Popular Now
      Loading

      Signing-in 3 seconds...

      Signing-up 3 seconds...