ফিলিস্তিনেও এক ‘পেলে’ ছিলেন। খেলতেন ব্রাজিলের কালো মানিক পেলের মতোই। তার নাম ছিলো সুলেইমান আল-ওবেইদ। ২০২৫ সালের আগস্টে ইসরাইলের আক্রমণে শহীদ হন ওবেইদ। তিনি দাঁড়িয়েছিলেন ত্রাণের লাইনে।
আল-ওবেইদ জন্মেছিলেন ১৯৮৪ সালের ২৪ মার্চ, গাজায়। গাজার ঐতিহ্যবাহী ‘খাদামাত আল-শাতি’ ক্লাবে ফুটবলের ক্যারিয়ার শুরু করেন। পরে পশ্চিম তীরের ‘মারকাজ শাবাব আল-আমআরি’তে খেলেন। খেলেছেন ‘গাজা স্পোর্টস’ ক্লাবের হয়ে।
ওবেইদ ছিলেন স্ট্রাইকার। তার পায়ের জাদুতে মুগ্ধ হতো হাজারো দর্শক। অবিশ্বাস্য ড্রিবলিং করতেন। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ফুটবল মিলে গোল করেছিলেন একশোরও বেশি। এসব কারণেই তাকে তুলনা করা হতো ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের সাথে।

২০০৭ সালে ফিলিস্তিনের জাতীয় দল ‘আল-ফিদা’র জার্সিতে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় আল-ওবেইদ এর। দেশের হয়ে ২৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন, স্মরণে রাখার মতো গোল করেন দুইটি। ২০১০ সালে ‘পশ্চিম এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন চ্যাম্পিয়নশিপ’-এ ইেইমেনের বিপক্ষে চোখধাঁধানো ‘সিজার-কিক’ করেন সুলেইমান আল-ওবেইদ। সেই গোলকে এখনো সেরা গোল হিসেবে স্মরণ করা হয়।
কেবল ওবেইদ নন, গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রাণ হারিয়েছেন শত শত খেলোয়াড়। পঙ্গু হয়েছেন অনেকে। এক হিসাব বলছে, গতবছর আগস্ট পর্যন্ত গাজায় মোট নিহত খেলোয়াড়ের সংখ্যা ৬৬২। এদের মধ্যে ফুটবল খেলোয়াড় ৪২১ জন। আর এদের ১০৩ জন ছিলো শিশু খেলোয়াড়।
গাজায় এ পর্যন্ত ২৮৮টি স্টেডিয়াম ও ক্লাবের অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। এগুলোর মধ্যে ২৬৮টি গাজায়, পশ্চিম তীরে ২০টি।
ইসরাইলি বিমান হামলায় ধসে গেছে গাজায় ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সদর দফতরও।