বিশ্বকাপে জাপানিরা কেন এতো পরিপাটি, পাখি উড়ে গেলে চিহ্ন রেখে যায় না

ফুটবল বিশ্বকাপের গ্যালারিতে বরাবরই পরিপাটি জাপানিরা। খেলায় তাদের হার হোক, অথবা জয় হোক গ্যালারি পরিষ্কার করে যান তারা। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সিএনএন। প্রতিবেদনটি কেরেছেন ডেন রিডেল

৮ জুন টেনেসির ন্যাশভিলে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অনুশীলন চলাকালে জাপান দলের সমর্থকরা গ্যালারিতে বসে উল্লাস করছেন। ছবি: অ্যালান পইজনার/ইম্যাগন ইমেজেস/রয়টার্স

জাপানি সংস্কৃতিতে একটা প্রবাদ আছে- পাখি উড়ে গেলে চিহ্ন রেখে যায় না। এই দর্শনে বিশ্বাস করেন তারা। যেখানে যান, সেখানে ময়লা-আবর্জনার চিহ্ন ফেলে আসেন না।

ইন্টারকালচারাল লিডারশিপ বিশেষজ্ঞ নোজোমি মরগান জানিয়েছেন, জাপানি শিশুদের স্কুল থেকেই পরিচ্ছন্নতার পাঠ দেওয়া হয়। তাদের স্কুলে কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মী থাকে না। শিক্ষার্থীরাই স্কুল পরিস্কার করে।

২০০৮ সাল থেকে বড় বড় ক্রীড়া আসরে গ্যালারি পরিষ্কারের নেতৃত্বে দিয়েছিলেন হিরোকাজু তসুনোদা। তিনি মনে করেন, স্টেডিয়াম কেবল বিনোদনের জায়গা না। তার মতে স্টেডিয়াম হলো পবিত্র স্থান। যে জিনিসটাকে মানুষ মন থেকে ভালোবাসে, সেটাকে নোংরা রেখে যাওয়া অসম্ভব। 

জাপানিদের পরিপাটি থাকার ঐতিহ্য কেবল গ্যালারিতেই নয়, দেখা যায় ড্রেসিংরুমেও। ২০১৮ এবং ২০২২ বিশ্বকাপে জাপানি ফুটবলাররা বিদায়ের আগে তাদের ড্রেসিংরুম চকচকে করে রেখেছিলেন। দেখে বোঝার উপায় ছিল না সেখানে কেউ ছিল কি না। তারা সেখানে কেবল একটি ‘ধন্যবাদ’ চিরকুট এবং জাপানি সংস্কৃতির প্রতীক অরিগামি পাখি রেখে আসতেন। জাপানি দলের সাবেক অধিনায়ক মাকোতো হাসেবে এই অভ্যাসের জন্য গর্ব করে জানান, এটি কেবল ফুটবলের জন্য নয়, জাপানি নাগরিক হিসেবে তাদের মজ্জাগত বৈশিষ্ট্য। বর্তমানে তসুনোদার এই উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে অন্য দেশের সমর্থকরাও যোগ দিচ্ছেন।

কাতার বিশ্বকাপে জাপানি সমর্থকদের এমন কার্যক্রম বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। তসুনোদার কাছে এই সেচ্ছাসেবা হলো মানুষের উপকারের সহজ মাধ্যম।

0 Votes: 0 Upvotes, 0 Downvotes (0 Points)

Leave a reply

Loading Next Post...
Follow
Search Trending
Popular Now
Loading

Signing-in 3 seconds...

Signing-up 3 seconds...