বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরাইলি আধিপত্যের যমদূত হয়ে নেমেছে ইরানের বিশেষ ডুবোজাহাজ বহর। দেশটির নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, সমুদ্রের নীল জলরাশির অতল গহ্বরে এখন ঘাপটি মেরে বসে আছে তাদের বিশেষ হালকা ডুবোজাহাজগুলো। এগুলো এতটাই কৌশলী যে, পানির নিচে বালুর ওপর স্থির হয়ে শুয়ে থেকে শত্রুপক্ষের বিশাল সব রণতরি অনায়াসেই শনাক্ত করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র বা তার দোসররা যদি এই জলসীমায় কোনো ধরনের হঠকারিতা দেখানোর চেষ্টা করে, তবে সমুদ্রের নিচ থেকেই তাদের সলিল সমাধি নিশ্চিত করতে তৈরি আছে তেহরান। প্রতিবেদন তৈরি করেছেন সৈয়দ মূসা রেজা

ইরানি কমান্ডার স্পষ্ট করে বলেছেন, বর্তমান সময়ের যুদ্ধের ধরণ আর শত্রুপক্ষের হুমকির কথা মাথায় রেখেই হরমুজ প্রণালীর অগভীর পানিসীমায় এই হালকা ডুবোজাহাজগুলো মোতায়েন করা হয়েছে। নৌবাহিনীর সদস্যদের কাছে ‘পার্সিয়ান গালফ ডলফিন’ বা পারস্য উপসাগরের ডলফিন নামে পরিচিত এই খুদে যানগুলো আসলে ইরানের সামরিক স্বয়ংসম্পূর্ণতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ওয়াশিংটনের রক্তচক্ষু আর বছরের পর বছর চলা নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইরান আজ সমুদ্রের নিচ থেকেও মরণকামড় দেয়ার ক্ষমতা অর্জন করেছে। এই ডুবোজাহাজগুলো দীর্ঘ সময় পানির নিচে লুকিয়ে থাকতে পারে, যা যেকোনো আধুনিক রাডার বা শনাক্তকরণ যন্ত্রের চোখে ধুলো দিতে সক্ষম।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি সরাসরি নাম না নিলেও এগুলো মূলত ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘গাদির’ শ্রেণির ডুবোজাহাজ। এক সময় ইরান রাশিয়ার কাছ থেকে বিশাল কিলো-ক্লাসের ডুবোজাহাজ কিনলেও পারস্য উপসাগর আর হরমুজ প্রণালীর অগভীর পানির জন্য সেগুলো খুব একটা লাগসই ছিল না। সেই অভাব মেটাতেই দেশীয় মেধা আর শ্রমে তৈরি হয়েছে এই খুদে ঘাতকরা। মাত্র ১১৫ টন ওজনের এই ডুবোজাহাজগুলো থেকে টর্পেডোর পাশাপাশি জাহাজ বিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও ছোড়া যায়। ফলে সমুদ্রের ওপর দিয়ে দাপট দেখানো মার্কিন বা ইসরাইলি যুদ্ধজাহাজগুলোর জন্য এগুলো এখন এক মূর্ত আতঙ্ক।
সম্প্রতি ইরানের ‘দেনা’ নামের একটি ডেস্ট্রয়ারের শহীদদের স্মরণে বিশেষ এক অভিযানে এই খুদে ডুবোজাহাজগুলো পানির ওপর ভেসে উঠে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিয়েছিল। বেশ কিছু সফল মহড়া শেষে সেগুলো আবারো ফিরে গেছে সমুদ্রের গভীরে। বর্তমানে এগুলো পানির নিচ থেকেই নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এই পুরো তৎপরতা এটাই প্রমাণ করে যে, জাতিসঙ্ঘের নাম ভাঙিয়ে বা আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে যুক্তরাষ্ট্র যে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে, তা রুখে দিতে ইরান এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। হরমুজের এই শান্ত পানি আসলে যে কোনো সময় আগ্রাসী শক্তিগুলোর জন্য এক উত্তাল মৃত্যুফাঁদে পরিণত হতে পারে।