
জ্বালানি আমদানিতে নতুন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যুক্ত করার প্রয়োজন কেন? প্রশ্ন রেখে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) বনাম বেসরকারি খাতের ব্যয়ের তুলনামূলক হিসাব প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। বুধবার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এ দাবি জানান।
আখতারুজ্জামান তার স্ট্যাটাসে বলেন, “দেশে যখন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি জ্বালানি আমদানি, মজুত ও সরবরাহ করতে সক্ষম— তখন ডিজেলসহ বিভিন্ন জ্বালানি আমদানিতে নতুন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যুক্ত করার প্রয়োজন কেন?”
সরকারকে একটি সহজ ও স্বচ্ছ হিসাব পেশ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি লিখেন, আন্তর্জাতিক ক্রয়মূল্য, পরিবহন, বীমা, অর্থায়ন ব্যয়, বন্দর ও হ্যান্ডলিং, মজুত, বিতরণ এবং ব্যবসায়িক মার্জিন যোগ করার পর বিপিসির তুলনায় বেসরকারি আমদানিতে প্রতি লিটারে জনগণের প্রকৃত সাশ্রয় কত হবে- তা প্রকাশ করা প্রয়োজন। “বেসরকারি খাত বেশি দক্ষ”- শুধু এই দাবির ওপর নির্ভর না করে তা গাণিতিক হিসাবের মাধ্যমে প্রমাণের তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের বিরোধিতা করছেন না উল্লেখ করে রাজনীতিবিদ ও সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা লিখেন, “বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণে আমাদের আপত্তি নেই। তারা ব্যবসা করুক, বিনিয়োগ করুক, নতুন অবকাঠামো তৈরি করুক এবং ন্যায্য মুনাফা করুক। কিন্তু সেই মুনাফা আসতে হবে প্রকৃত মূল্য সৃষ্টি করে— জনগণের ঘাড়ে অপ্রয়োজনীয় আরেকটি বাণিজ্যিক স্তর চাপিয়ে নয়।”
তিনি জানান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি নিজস্ব অর্থায়নে টার্মিনাল, স্টোরেজ বা অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করে, সরবরাহ ও বাজারঝুঁকি বহন করে এবং বিপিসির চেয়ে কম খরচে জ্বালানি সরবরাহ করতে পারে, তবে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তাদের অংশগ্রহণ বিবেচনা করা যেতে পারে। অন্যথায়, একই আন্তর্জাতিক উৎস থেকে পণ্য এনে বাজারে সরবরাহের জন্য মাঝে একটি অতিরিক্ত মুনাফাখোর স্তর তৈরি করার লাভ কোথায়, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রতি জোর দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বিপিসির যদি কোনো অদক্ষতা বা অপচয় থাকে, তবে তা প্রকাশ করে সংস্কার করা হোক। প্রতিযোগিতামূলক ক্রয় এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার বদলে প্রতিষ্ঠানটিকে অকার্যকর প্রমাণ না করেই পাশ কাটানো কোনো সংস্কার হতে পারে না; বরং এটি একটি নীতিগত ব্যর্থতা।
প্রতি লিটার জ্বালানিতে সামান্য অতিরিক্ত ব্যয়ও কোটি কোটি লিটারের ক্ষেত্রে বিশাল অঙ্কে রূপ নেয় উল্লেখ করে মেজর (অব.) আখতার বলেন, এই অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা শেষ পর্যন্ত দেশের কৃষক, পরিবহন খাত, শিল্প এবং সাধারণ মানুষকে বহন করতে হয়।
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান লিখেন, “সরকার যদি প্রমাণ করতে পারে যে বেসরকারি আমদানিতে জ্বালানির সামগ্রিক ব্যয় কমবে, সরবরাহ নিরাপত্তা বাড়বে, নতুন বিনিয়োগ আসবে এবং জনগণের অর্থ সাশ্রয় হবে—হিসাব প্রকাশ করুন, আমরা স্বাগত জানাব। আর যদি সেই হিসাব না থাকে, তবে সাশ্রয় না হলে এই ব্যবস্থা কেন?” জ্বালানি নিরাপত্তাকে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নিশ্চিত ব্যবসার ক্ষেত্র না বানিয়ে জাতীয় স্বার্থ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ইনফোজা ডেস্ক