ইরানের সাথে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার মাশুল দিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, আর সেই অংকটা এখন রীতিমতো আকাশছোঁয়া। রুশ বার্তা সংস্থা রিয়া নভোস্তি এক চাঞ্চল্যকর তথ্যে জানিয়েছে, ইরানের সাথে এই রেষারেষিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খরচের খাতা এখন ৭০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অংকের পরিমাণ শুনলে যে কেউ চমকে উঠবেন। প্রতিবেদন তৈরি করেছেন সৈয়দ মূসা রেজা

মজার ব্যাপার হলো, মার্কিন কর্তারা বারবার আশ্বাস দিয়েছিলেন যে এই ঝামেলা দ্রুত মিটে যাবে এবং খরচও নাগালের মধ্যে থাকবে। কিন্তু বাস্তব বলছে অন্য কথা। ‘ইরান-কস্ট-টিকার’ নামের একটি ওয়েবসাইটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই মুহূর্ত পর্যন্ত খরচের পরিমাণ ৭০.৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে এবং ঘড়ির কাঁটার সাথে পাল্লা দিয়ে এই টাকা বেড়েই চলেছে। ইরানের সংবাদ মাধ্যম তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সি এই খবরটি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করেছে।
তবে খরচের এই হিসাব নিয়ে খোদ মার্কিন প্রশাসনের অন্দরেই ব্যাপক লুকোচুরি চলছে। কিছুদিন আগেই পেন্টাগনের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা জুলস হার্স্ট হাউজ আর্মড সার্ভিসেস কমিটির এক শুনানিতে দাবি করেছিলেন, ইরানের সাথে সংঘাতে তাদের খরচ হয়েছে মাত্র ২৫ বিলিয়ন ডলারের মতো। কিন্তু তার এই দাবির পরপরই মার্কিন সংবাদ মাধ্যমগুলো আসল হাঁড়ি ভেঙে দেয়। ভেতরের খবরের বরাতে জানা যায়, প্রকৃত খরচের পরিমাণ আসলে ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের আশেপাশে। এই বিপুল খরচের মধ্যে শুধু যুদ্ধ সরঞ্জাম নয়, বরং ধ্বংস হয়ে যাওয়া মার্কিন সামরিক স্থাপনা মেরামত করা এবং নষ্ট হওয়া যুদ্ধাস্ত্র নতুন করে প্রতিস্থাপনের খরচও ধরা হয়েছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোষাগারে টান পড়ছে ভালোভাবেই।
মন্তব্য: যুদ্ধের ময়দানে কে জিতছে তা পরের কথা, কিন্তু এই বিশাল অংকের খরচ প্রমাণ করে, আধুনিক বিশ্বে সংঘাত কতটা ব্যয়বহুল। ৭০ বিলিয়ন ডলার মানে একটি দেশের উন্নয়নের চাকা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো টাকা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের দাপট দেখাতে গিয়ে যেভাবে সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা ওড়াচ্ছে, তা নিয়ে দেশটির ভেতরেই হয়তো বড়সড় প্রশ্ন উঠবে। বিশেষ করে যখন পেন্টাগনের দেওয়া তথ্যের সাথে বাস্তবের বিশাল ফারাক ধরা পড়ে, তখন বোঝা যায় যে এই সংঘাতের গভীরতা এবং আর্থিক চাপ আসলে সাধারণের কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি। তাসনিম নিউজের এই প্রতিবেদন স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, ইরানকে দমানোর চেষ্টায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং এক ভয়াবহ আর্থিক যুদ্ধের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।