কানসাসের আকাশে তখন ফুটবল উৎসবের রঙ। গ্যালারিতে হাজারো মানুষের ঢল, চোখে একটাই অপেক্ষা। হঠাৎ যখন মাঠের টানেল পেরিয়ে সবুজ ঘাসে পা রাখলেন ৩৮ বছর বয়সী লিওনেল মেসি, মুহূর্তেই যেন কেঁপে উঠল পুরো স্টেডিয়াম।
মেসি… মেসি… মেসি…
চারদিক থেকে ভেসে এলো সেই চিরচেনা ধ্বনি। যেন এটি কোনো সাধারণ ম্যাচ নয়, জীবন্ত কিংবদন্তিকে আবারও স্বাগত জানানোর আয়োজন। প্রতিবেদন তৈরি করেছেন ইনফোজা প্রতিবেদক আমিনুল ইসলাম

কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর অনেকেই ভেবেছিল গল্পটা বুঝি শেষ। অবসর নিয়ে হয়েছিল অসংখ্য আলোচনা, অসংখ্য জল্পনা। কিন্তু মেসি যেন জন্মই নিয়েছেন সন্দেহকে ভুল প্রমাণ করার জন্য। সময়ের চোখে চোখ রেখে তিনি আবারও ফিরে এসেছেন, আবারও দেখিয়েছেন পায়ের জাদু।
কারণ কিছু মানুষ বয়সের হিসাব মেনে চলে না। বরং বয়সই তাদের কাছে হার মানে।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে শুরু থেকেই ছিল আর্জেন্টিনার দাপট। আর সেই দাপটের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন একজনই লিওনেল মেসি।
কিন্তু এই রাতটি শুধু তাঁর মাঠে নামার নয়, ছিল রাজত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠারও। ম্যাচের ১৭ মিনিটে প্রথমবারের মতো উল্লাসে ফেটে পড়ে কানসাস। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া মেসির বাঁ পায়ের শট আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদানের হাতে স্পর্শ করেও শেষ পর্যন্ত জড়িয়ে যায় জালে। যেন ভাগ্যও মেসির গল্পের বিপক্ষে দাঁড়ানোর সাহস পায়নি।
গোলের পর গ্যালারির গর্জন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। কিন্তু মেসি তখনও থামেননি। কারণ কিংবদন্তিরা কখনও একটি মুহূর্তে সন্তুষ্ট থাকেন না, তারা তৈরি করেন অমর এক রাত। জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের ২০০তম ম্যাচ খেলতে নামা মেসি দ্বিতীয়ার্ধে আরও ভয়ংকর হয়ে উঠলেন। ৬০ মিনিটে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের শট থেকে ফিরতি বল পেয়ে সহজেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। আর ঠিক ১৬ মিনিট পর আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।
বাঁ পায়ের দুর্দান্ত এক শটে বল জালে জড়াতেই সম্পূর্ণ হয় তাঁর প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক। তার প্রতিটি স্পর্শে ছিল শিল্পের ছোঁয়া, প্রতিটি পাসে ছিল কল্পনার রং, প্রতিটি আক্রমণে ছিল ইতিহাস লেখার ইঙ্গিত। মাঠে তিনি শুধু খেলছিলেন না, তিনি যেন নতুন প্রজন্মকে শেখাচ্ছিলেন মহানত্ব কখনও হঠাৎ করে তৈরি হয় না, বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠে।