চুন্নু ‘জাতির শত্রু’, ‘বাটপার ব্যাটা’: শেষে মনোনয়ন বাতিল

জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুর মনোনয়ন যাচাই-বাছাইকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। যাচাই-বাছাই চলাকালে উপস্থিতদের একটি অংশ তাকে আওয়ামী লীগের দোসর ও ‘জাতির শত্রু’ আখ্যা দেয়। শেষ পর্যন্ত একাধিক ত্রুটির কারণে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন।

রবিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মুজিবুল হক চুন্নুর মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শুরু হতেই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ সেখানে জড়ো হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

যাচাই-বাছাই শুরুর সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত জনতা মুজিবুল হক চুন্নুকে আওয়ামী লীগের দোসর উল্লেখ করে স্লোগান দিতে থাকেন এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

যাচাই-বাছাইয়ের সময় মুজিবুল হক চুন্নু নিজে উপস্থিত ছিলেন না। তার পক্ষে কয়েকজন প্রতিনিধি মনোনয়নপত্র উপস্থাপন করেন। জনতার বিক্ষোভ ও নানা অভিযোগের মধ্যেই যাচাই-বাছাই কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়।

এ সময় উপস্থিতদের একটি অংশ চুন্নুকে ‘জাতির শত্রু’ ও ‘বাটপার ব্যাটা’ বলে মন্তব্য করেন। এতে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়।

সবশেষে মামলার তথ্য গোপন, ঋণখেলাপি থাকা এবং মনোনয়নপত্রে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর না থাকাসহ একাধিক ত্রুটি পাওয়ায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা মুজিবুল হক চুন্নুর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন।

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মুজিবুল হক চুন্নু দুইবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নিজেকে জাতীয় পার্টির মনোনীত ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করে নির্বাচনী এলাকায় পোস্টার সাঁটান। সে সময়ও মনোনয়নপত্র ক্রয় ও দাখিলের সময় তিনি সরাসরি উপস্থিত ছিলেন না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর থেকে মুজিবুল হক চুন্নু নিজ বাড়ি বা তার নির্বাচনী এলাকা করিমগঞ্জ-তাড়াইল উপজেলায় আর ফেরেননি। এ সময় করিমগঞ্জে তার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের উদ্যোগে ঝাড়ু মিছিল অনুষ্ঠিত হয়, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

এদিকে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিনে কিশোরগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসন- কিশোরগঞ্জ-১, ২ ও ৩- এ মোট ৩২ প্রার্থীর মধ্যে ১৮ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে ১৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

রবিবার সকাল ১০টা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লার নেতৃত্বে এই যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে ছিল কড়া নিরাপত্তা ও বাড়তি সতর্কতা।- ইনফোজা প্রতিবেদন

0 Votes: 0 Upvotes, 0 Downvotes (0 Points)

Leave a reply

    Join Us
    • Facebook
    • Youtube
    Deal Of The Month
      Categories

      Advertisement

      Loading Next Post...
      Follow
      Search Trending
      Popular Now
      Loading

      Signing-in 3 seconds...

      Signing-up 3 seconds...