ওয়াহাবি মতবাদ কী, কেন শুরু হয়েছিল

ইতিহাসধর্ম12 minutes ago5 Views

আঠারো শতাব্দীর মাঝামাঝি এক ইসলামী চিন্তাবিদ ব্যাপকভাবে শিরকের বিরোধিতা করতে থাকেন। মসজিদ সাজানো, পীর-পূজা, মাজারে মাথানত করার বিরোধিতা করেন তিনি। এমনকি ধুমপানকে নিষিদ্ধ করার দাবিও করেন ওই নেতা। সব ধরনের শিরককে তিনি না বলেন। তবে এই প্রচারকে বিতর্কের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সৌদি আরবের উয়ায়না থেকে বহিষ্কার করা হয় তাকে। তিনি হলেন ওয়াহাবী মতবাদের প্রবর্তক মুহাম্মদ আবদ আল-ওয়াহাব। এই মুসলিম ধর্মতত্ত্ববিদ ও ওয়াহাবী মতবাদ নিয়ে লিখেছেন মোহাম্মদ কামরুজ্জামান

ভারতীয় উপমহাদেশে ওয়াহাবিরা আহলে হাদীস নামে পরিচিত

ওয়াহাবী মূলত ইসলামী সংস্কার আন্দোলন। তবে ‘ওয়াহাবী’ শব্দটা ব্যবহার করেন এই আন্দোলনের বাইরের লোকেরা। আন্দোলনের অনুসারীরা নিজেদের সালাফী বা ধার্মিক পূর্ব পুরুষের অনুসারী বলেন। এই সংস্কারবাদী মতবাদের অনুসারীরা নিজেদের মুওয়াহিদুন বা ঐক্যবাদী হিসেবেও মনে করেন।

ওয়াহাবী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ইসলামী সংস্কারক মুহম্মদ ইবনে আবদ আল-ওয়াহাব। তাঁর নেতৃত্বে আঠারো থেকে উনিশ শতাব্দীর মধ্যে সৌদি আরব এবং কাতারে ওয়াহাবিজম ছড়িয়ে পড়ে। ভারতীয় উপমহাদেশে ওয়াহাবিরা আহলে হাদীস নামে পরিচিত।

ইসলামের মূল বিধি-বিধানগুলো নিয়ে ওয়াহাবীদের কোনো মতবিরোধ নেই। এরা মূলত ইসলামকে কেন্দ্র করে কবর পূজা, গাছ পূজা, পাথর পূজা, পীর পূজার মতো বিষয়গুলোর বিরোধিতা করেন।

ওয়াহাবীরা প্রচার করেন ১৮ শতকের গোড়ার দিক থেকে সমস্ত আরব বিশ্বে ইসলামের নামে বিদাত বেড়ে যায়। তখন আরব বিশ্বে সঠিক আমল ও দাওয়াতী কাজের অভাব দেখা যায়। এতে একটা অংশ পূর্বপুরুষদের কবরের দিকে ধাবিত হয়। এমনকি কবরবাসী তাদেরকে সকল বিপদ থেকে রক্ষা করবে এমন ধারণা প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছিলো। কবরের উপর সৌধ বানানো এবং পুরাতন গাছে রঙ-বেরঙের কাপড় বেঁধে এর উপর নানা মানত করতো। নাজ সম্প্রদায়ের প্রতিটি গোত্রে বিশেষ গাছ ও কবর ছিলো।

ওয়াহাবী মতাবাদের প্রচারকেরা মনে করেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে চলে যায় মূল ধর্মীয় কাজ বাদ দিয়ে মানুষ বিদাত এবং শিরক নিয়ে বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এ যেন আরেক আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের নতুন সংষ্করণ। আল্লাহ তাযালার অশেষ মেহেরবানীতে এমনসময় একজন মানবের জন্ম হয়। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ওয়ায়না একটি শহর। এই শহরে ১৭০৩ সালে জন্ম হয় মুহাম্মদ বিন আবদ আল ওয়াহাবের। তার বাবা ছিলেন হাম্বলী আইনবিদ। উয়ায়নার আলেমদের থেকে প্রাথমিক শিক্ষা নেওয়ার পর উচ্চতর শিক্ষা গ্রহনের জন্য হিজাষ ও সিরিয়ায় যান তিনি। যৌবনের শুরুতে হজের উদ্দেশে মক্কায় যান। হজ শেষে মদিনায় গিয়ে শাইখ আব্দুল্লাহ বিন সাইফের কাছে শিক্ষা নেন।

এছাড়াও প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন মুহাদ্দিস মুহাম্মদ হায়াত সিন্ধির কাছে ইলমে হাদিসের জ্ঞান নেন।
ধর্মতত্ত্ববিদ এবং ওয়াবী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা এই মনীষি সারাজীবন ব্যয় করেছেন ইসলামের মূল নীতিগুলো প্রতিষ্ঠার পেছনে। আরবের পবিত্র শহর মদিনায় তিনি আনুষ্ঠানিক শিক্ষা নেন। ইরাকের বসরায় চারবছর শিক্ষকতা করেন। সেখানে একত্ববাদের দাওয়াত দিতে থাকেন। নবী হযরত মুহাম্মদ স. যে একত্ববাদের বাণী প্রচার করে গেছেন, মানুষ তা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে বলে ক্যাম্পেইন করেন। এই পথ থেকে বের হয়ে এসে একত্ববাদের পথে আসার আহবান জানান। তিনি কিতাবুল তাওহিদ বই লিখেন। তাঁর দাওয়াতে বসরায় ব্যাপক সারা পড়ে যায়। এতে নেতাদের কোপানলে পড়েন।

তার কাছের লোকদের পরামর্শে জন্মস্থান উয়ায়নায় ফিরে যান। তখন ওয়ায়নার আমীর ছিলেন ওসমান বিন মুহাম্মদ। আমীর ওয়াহাবের দাওয়াত কবুল করেন। এরপর আমীরের সহযোগিতায় ভালোভাবেই দাওয়াতি কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। তবে সেখানকার বিদাতি আলেম ও সূফীবাদীরা তার এই কাজে বাধা দেয়।

ওয়ায়নার পাশের রাজ্য ছিলো আহসা। আহসা রাজ্যের আমীর সুলায়মান অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন শাসক ছিলেন। বিদাতপন্থীরা যখন দেখলো মুহাম্মদ বিন আবদ আল ওয়াহাব কিছুতেই থামছেন না। তখন তারা আহসা রাজ্যের শাসক সুলায়মানের কাছে নালিশ করে। বিদাতপন্থীরা সুলায়মানকে বুঝাতে চেষ্টা করে, ওয়াহাব মানুষকে ভুল পথে চালাচ্ছে। এটা তার জন্য হুমকি। সুলায়মান ওয়ায়নার আমীরকে চাপ দেন, যাতে মুহাম্মদ বিন আবদ আল ওয়াহাব সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য করেন।

মুহাম্মদ বিন আবদ আল ওয়াহাব ১৭৪৬ সালে দিরঈইয়াতে চলে যান। রাজধানী রিয়াদ থেকে ২০ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমের এই শহর ওয়াহাবের দাওয়াতের ভাগ্য খুলে দেয়। দিরঈইয়াতের আমীর মুহম্মদ বিন সউদ স্বাধীনচেতা শাসক। তিনি ওয়াহাবের দাওয়াত কবুল করেন। তারা দু’জনেই দিরঈইয়াতের চুক্তি নামে এক চুক্তিতে পৌঁছান। আজকের দিনে পুরো আরব বিশ্বের ওয়াহাবী শাসন মূলত এই চুক্তির ফল। এর মাধ্যমে আরব উপদ্বীপের ধর্মীয়, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন মোড় নেয়। সূচনা হয় আধুনিক ইসলামী রেনেসাঁর।
শিক্ষিত পরিবার থেকে ওঠে আসা ওয়াহাব জানতেন ধর্মের সঠিক প্রচারে সাধারণ মানুষকে যুক্ত করতে হবে। তাই তিনি এখানে সাধারণ মানুষকে যুক্ত করতে প্রথমে তাদেরকে বুঝালেন কোথায় তারা ভুল করছেন। সেই ভুলগুলো সংশোধন করতে তাদেরকেই আগে গোত্রভিত্তিক পাঠালেন। এরপর তিনি নিজে এগিয়ে গেলেন।

হিজাস ও সিরিয়া থেকে উচ্চশিক্ষা লাভকারী ওয়াহাব ছয়টি বিষয়ে গুরুত্বের সাথে প্রচার করতেন। এরমধ্যে ছিলো তাওহিদে ইবাদত। এজন্য তিনি আল্লাহর একটি বাণীকে সঙ্গী করে প্রচার চালাতেন। সুরা নাহর-এ আল্লাহ বলেন,‘‘ আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের কাছে রাসুল পাঠিয়েছি এ মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ঈবাদত করো এবং তাগূত বা সীমা লংঘন থেকে দূরে থাকো।’’ এর আলোকে তিনি সর্ব ক্ষেত্রে আল্লাহর দাসত্বের আহবান জানান এবং অন্যর নামে নজর বা মানত করতে নিষেধ করেন।

দ্বিতীয়ত ওয়াহাব অসীলা পূজা থেকে দূরে থাকার কাজ করেন। আল্লাহ পবিত্র কোরআনে সুরা মায়দায় বলেন, ‘‘হে মুমিনগন আল্লাহকে ভয় করো এবং তার সন্ধান করো। এখানে বৈধ অসীলা বা উপায় হলো আল্লাহর উদ্দেশ্যে সৎকর্ম করা। আর অবৈধ উপায় হলো মৃত ব্যক্তি এবং জড়বস্তুর পূজা করা।

স্থানপূজার ব্যাখ্যা বুঝাতে গিয়ে ওয়াহাব নবীর বাণী প্রচার করতেন। নবী (স.) বলে নেকির উদ্দেশে কা‘বাঘর, মসজিদ নববী ও মসজিদে আকসা ছাড়া অন্য কোথাও সফর করা যাবে না। এর আলোকে ওয়াহাব লোকদের স্থান পূজা বৃক্ষপূজা ইত্যাদি নিষেধ করেন।

তাওহিদে আসমা ওয়া সিফাত তথা আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর একত্ব নিয়ে কাজ করেন ওয়াহাব। তিনি মানুষকে বুঝাান, কোনরুপ পরিবর্তন, শূণ্যকরন, প্রকৃতি র্নির্ধারণ, তুলনাকরন ও আল্লাহর উপর ন্যস্তকরন ছাড়াই আল্লাহর নাম ও গুনাবলী যেভাবে বর্ণিত হয়েছে, সেভাবেই তার উপর ঈমান আনতে হবে। যাতে মানুষ সর্ববস্থায় কেবল আল্লাহকে ডাকে ও তার উপর ভরসা করে। অন্য কাউকে শরীক না করে।

মিলাদ মাহফিল, আযানের পূর্বে যিকির ও পরে দরুদ পাঠ, মুখে নিয়ত পাঠ, সেই সাথে ছুফিদের আবিস্কৃত বিদাতি রীতি ওয়াহাবীরা সমর্থন করে না।

দিরঈইয়াতের চুক্তির ফলে এই ছয়টি বিষয় ছোট্ট দিরঈইয়া রাজ্যে কাজ করতে থাকে। দ্রুতই ওয়াহাবী মতবাদ ছড়িয়ে পড়ে। দিরঈইয়া রাজ্য অতি শিঘ্রই ধর্মীয়, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ওসামরিক ক্ষেত্রে প্রভুত উন্নতির দিকে ধাবিত হয়। নাজ সম্পদায়ের লোকেরা দলে-দলে আবদ আল ওয়াহাবের দাওয়াতের বায়াত গ্রহণ করতে থাকেন। সৌদি আরবের নাজদসহ রিয়াদ, আল ক্কাছীম, হায়েল, সুদায়ের, আহসা, মক্কা মদীনাসহ আরবের বিভিন্ন প্রন্তে তাঁ দাওয়াত পৌছে যায়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো মুহম্মদ বিন সৌদের সাথে চুক্তি এবং মক্কায় দাওয়াত পৌছে যাওয়ায় ওয়াহাব নির্দিধায় হজ্জে আসা লোকজনকে দাওয়াত করতে থাকলেন। হাজিদের মাধ্যমে মিশর, সুদান, সিরিয়া, ইরাক, ইয়ামেন এবং ভারতবর্ষে শিরক বিদাত অধ্যুষিত এলাকায় দাওয়াত ছড়িয়ে পড়ে। ১১৫৮ হিজরীতে নিজ রাজ্য উয়ায়হানার আমীর উছমান তাঁর বায়াত গ্রহন করেন এবং ইসলামী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার অঙ্গীকার করেন। এভাবে সৌদি আরব সহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ওয়াহাবী মতবাদ সম্প্রসারিত হতে থাকে।

যারা বিদাতি কাজগুলো চালিয়ে আসছেন বহুকাল ধরে তাদের মধ্যে ঈর্ষা এবং হিংসা কাজ করছিলো। বিদাতপন্থী আলেম ওলামা, ছুফি, কবরপূজারী এবং ক্ষমতাধর রাজনৈতিক আমীর ওমরাগন তাঁর চরম বিরোধিতায় লিপ্ত হন। ওয়াহাব এবং তার অনুসারীদের খারেজী, কাফের, বিদাতি নানা অপবাদ দিয়ে সাধারণ মানুষকে খেপিয়ে তুলতে থাকেন। ফলে দু’পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ বাঁধে। প্রথমে দিরঈয়ার আমীর এবং ১৯৩২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রিয়াদ দখলের মাধ্যমে আমীর আব্দুল আজীজ ইবনে সঊদ এর নেতৃত্বে মুহাম্মদ বিন আবদ আল ওয়াহাবের দাওয়াতের বৈশিষ্ট্যযুক্ত সৌদী আরব প্রতিষ্ঠিত হয়।

ওয়াহাব তাঁর কাজের সময়ে বহু বিদাতি স্থাপনা ধ্বংস করেছেন। সেসময় সৌদি আরবের জুবাইলা নামক স্থানে যায়েদ বিন খাত্তাব নামক একটি মিনার ছিলো। যায়েদ বিন খাত্তাব ছিলেন হযরত ওমর (রঃ)‘র ভাই। তিনি মিথ্যুক নবী মুসায়লার বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে শহীদ হয়েছিলেন। পরবর্তীতে কারা যেন তার কবরের উপর মিনার তৈরি করে রীতিমতো উপাসনা শুরু করে। এখানে বিভিন্ন ধরনের মানত পেশ করা হতো। কাবা ঘরের মতো তাওয়াফ করা শুরু করে দেয়। সেখানে আরও কবর ছিলো। আশপাশের গাছপালাকেও এবাদত করা হতো। শাইখ ওয়াহাব আমীর ওসমানকে নিয়ে নিজ হাতে এই মিনার ধ্বংস করেন। এমন বহু স্থাপনা ও মাজার বিনষ্ট করে শিরক এবং বিদাতের রাস্তা বন্ধ করা হয়।

আবদ আল ওয়াহাবের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে প্রচুর। তার বিরুদ্ধে মূল যে অভিযোগ, সেটা হলো তিনি মাজহাবকে অস্বীকার করেন। অন্যদিকে উপমহাদেশে ইসলামের অনুসারীরা চার মাজহাবের কোনো না কোনোটার অনুসারী।

১৯২৬ সালে কা‘বা ঘরের চারপাশে প্রতিষ্ঠিত চার মাজহাবের চার মুছাল্লা উৎখাত করেন। যা মাজহাবের অনুসারীরা মেনে নিতে পারেননি। এছাড়াও ওয়াহবের সমর্থকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মসজিদের সাজ-সজ্জা ভাঙচুর করার সময় মূল্যবান রত্ন, পাথর লুট করার অভিযোগ রয়েছে। বিরোধী মতাদর্শের লোকদের হত্যার বহু অভিযোগ রছে।
দেওবন্দের প্রখ্যাত আলেম সাওলানা হুসাইন আহমেদ মাদানী তার এক বইতে আবদ আল ওয়াহাবের চরিত্র তুলে ধরেন। তার বর্ণনা মতে, সৌদি আরবের পূর্ব নাম ছিলো নাজ্দ বা জাজিরাতুল আরাবিয়া। মদিনা ছিলো এর রাজধানী। অভিযোগ রয়েছে, আবদ আল ওয়াহাব কূট-কৌশলের মাধ্যমে বাদশা সৌদ এর মেয়েকে বিয়ে করেন। সেইসাথে বাদশাহকে খুশি করার জন্য জাজিরাতুল আরাবিয়া নাম পরিবর্তন করে বাদশার নামে নাম রাখার প্রস্তাব করেন। বাদশা এতে খুশি হয়ে রাসুলের দেয়া নাম জাজিরাতুল আরবিয়া পরিবর্তন করে রাখেন সৌদি আরাবিয়া। রাজধানী নজদ এর নাম পরিবর্তন করে রাখেন রিয়াদ।

অন্য বেশ কয়েকটি বর্ণনায় এসেছে ১৮০২ সালে তিনি কারবালা দখল করেন। ১৯২৪ সালে মক্কা, ১৯২৫ সালে মদিনা ও জেদ্দা অধিকার করে সেখানকার সমস্ত মাযার, মাকবেরা উৎখাত করেন।

Leave a reply

Previous Post

Next Post

Loading Next Post...
Follow
Search Trending
Popular Now
Loading

Signing-in 3 seconds...

Signing-up 3 seconds...