একটা বাচ্চার খবর, শহরে আলো জ্বেলে রাখতে নিষেধ করে সে

মিউঁ10 months ago100 Views

খবরটা হলো, ১২ বছর বয়সি এক শিশুর। ওর নাম সিদ্ধার্থ প্যাটেল। থাকে লন্ডন শহরে। এই লন্ডন কিন্তু যুক্তরাজ্যের লন্ডন নয়! কানাডায়ও একটা লন্ডন আছে। যুক্তরাজ্যের লন্ডনকে ফলো করেই দেশটির অন্টারিও প্রদেশের এই শহরের নাম রাখা হয়েছিলো লন্ডন।

সেকথা বাদ দাও, আমি বরং সিদ্ধার্থর খবর বলি। এই ছেলেটা কী করেছে জানো?
নিজে নিজে চেষ্টা করে মিল্কিওয়ের ছবি তুলে ফেলেছে। আর এই ছবিটা আন্তর্জাতিক একটা প্রতিযোগীতা জয় করেছে।

এবার তোমরা প্রশ্ন করতে পারো, মিল্কি ওয়ে কী?
আরে বোকা, মিল্ক বাংলা জানো না?
মিল্ক মানে হলো দুধ। আর ওয়ে মানে পথ। তাহলে মিল্কি ওয়ে হলো, যে পথটা দেখতে দুধের মতো।
দুধের মতো সাদা এই পথ দেখা যায় আকাশে। দেখলে মনে হবে কেউ যেন আকাশে দুধ ঢেলে দিয়েছে!
আসলে ওটা হচ্ছে আমাদের গ্যালাক্সির একটুখানি অংশ।
আমরা এখনো মিল্কি ওয়ের অনেক কিছু জানি না- কারণ এটা এতোই বড়! এর মধ্যে প্রায় দশহাজার কোটি তারা থাকে। সাথে থাকে ধুলো আর গ্যাস। এর ভেতরে আমরাও থাকি।
আমাদের পৃথিবী, চাঁদ, সূর্য আর আরো অনেক গ্রহ মিলে ঘুরতে থাকে। এগুলোকে তারার মতো দেখায়। ঘুরতে থাকা বিশাল তারার দলকে বলা হয় গ্যালাক্সি।
সো, মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সি হলো মহাকাশে আমাদের বিশাল বড় একটা বাড়ি।
এই বাড়িটাকে কিন্তু রাতের আকাশে দেখা যায়। তবে যারা শহরে থাকো, তারা দেখতে পাবে না। কারণ রাতের শহরে অনেক অনেক আলো জ্বলে থাকে। এতো আলোর ঝলকানিতে মিল্কি ওয়ে দেখা দেয় না।
আগেই জানিয়েছি, সিদ্ধার্থ প্যাটেল থাকে কানাডার লন্ডন শহরে। তাই দুধের মতো সাদা মিল্কি ওয়ের ছবি তুলতে তাকে চলে যেতে হয়েছে শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে। সেখানে ফিঙ্গাল নামের একটা গ্রাম আছে। ওখান থেকে মিল্কি ওয়ের যে ছবি তুলে এনেছে, সেটা ‘ইন্টারন্যাশনাল ডার্ক-স্কাই ফটোগ্রাফি কন্টেস্ট’-এ ফার্স্ট হয়েছে।
২০১৮ সালে মহাকাশের প্রতি ভালোবাসা শুরু হয় সিদ্ধার্থর। তখন তার বয়স ছিলো মাত্র পাঁচ। তার দেশে রাতের অন্ধকার দেখার জন্য আলাদা কিছু এলাকা আছে। ওই এলাকাগুলোকে বলা হয় ‘ডার্ক স্কাই প্রিজার্ভ’। ওখানে রাতে শহরের মতো আলো জ্বেলে রাখা হয় না।
তো সিদ্ধার্থ ডার্ক স্কাই প্রিজার্ভে গিয়ে মিল্কি ওয়ে দেখে এসেছিলো। তারপর থেকে মহাকাশ নিয়ে ভাবতে শুরু করে সে। একবার একটা সফটওয়্যার ব্যবহার করে একটা প্রাথমিক গ্রহাণু খুঁজে পেয়ে যায় সিদ্ধার্থ। পরে তার খুঁজে পাওয়া গ্রহাণুটিকে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা দেয়।
বড় হয়ে সে নভোচারী হতে চায়। যেতে চায় মহাকাশে।
মহাকাশের অন্ধকার থেকে পৃথিবীকে কেমন দেখা যয়, সেটা নিজের চোখে দেখার ইচ্ছে সিদ্ধার্থর।

সিদ্ধার্থর কাছে এখন কী কী আছে জানো?
ওর কাছে আছে চারটি টেলিস্কোপ। এগুলোর মধ্যে দু’টি ব্যবহার হয় ছবি তোলার জন্য। এখন সে মহাকাশ দেখে, আর ছবি তোলে। সেইসাথে তার স্কুলের বন্ধুদের সাথে আলাপ করে। রাতে অযথা আলো জ্বালিয়ে রাখতে নিষেধ করে। সিদ্ধার্থ বলে- রাতে আলো জ্বালিয়ে রাখলে পরিবেশের ক্ষতি হয়। পাখিরা মারা যায়। আর নিজের শরীরেরও ক্ষতি হয়।

বাচ্চারা,
তোমরা কিন্তু বেশিরাত ধরে আলো জ্বেলে রাখবে না। পড়ালেখা শেষ করে বাতি বন্ধ করে ঘুমিয়ে যাবে। আর তোমাদের আম্মুকেও কথাটা জানিয়ে দেবে।

Leave a reply

    Join Us
    • Facebook
    • Youtube
    Deal Of The Month
      Categories

      Advertisement

      Loading Next Post...
      Follow
      Search Trending
      Popular Now
      Loading

      Signing-in 3 seconds...

      Signing-up 3 seconds...