আপনি কি ভাবছেন আপনার ঘরের কথা ঘরের ভেতরেই আছে? আপনার পকেটে বা বালিশের পাশে রাখা ফোনটি কি এখন সাইলেন্ট? সাবধান! হতে পারে এই ফোনটিই আপনার সবচেয়ে বড় শত্রু। আপনার অজান্তেই সে কথা বলছে অন্য কারো সাথে, আর আপনার ব্যাংক ব্যালেন্স করে দিচ্ছে শূন্য!

আমাদের জীবন স্মার্টফোনের ভেতর বন্দি। কিন্তু আপনি কি জানেন, যখন পরিবারের সাথে ব্যক্তিগত আলাপ করছেন, বা আপনার ব্যাংকিং পাসওয়ার্ডটি মুখে বলছেন, তখন কেউ একজন আড়ি পেতে সব শুনছে? একে বলা হচ্ছে ‘ডিজিটাল ইভসড্রপিং’ বা আধুনিক আড়ি পাতা। আজকের প্রতিবেদনে আপনি জেনে যাবেন, কীভাবে ব্যক্তিগত আলাপ চুরি হচ্ছে এবং কীভাবে আপনার জমানো টাকা চলে যাচ্ছে হ্যাকারদের হাতে।
আমরা যখন কোনো ফ্রি অ্যাপ বা গেম ইনস্টল করি, না পড়েই ‘Allow Mic’ বা ‘Allow Storage’ বাটনে ক্লিক করে দিই। এখানেই লুকিয়ে আছে বিপদ।
১. মাইক্রোফোন হ্যাকিং: অনেক ম্যালওয়্যার অ্যাপ আপনার মোবাইলের মাইক্রোফোন ২৪ ঘণ্টা সচল রাখে। আপনি কী বলছেন, কোথায় যাচ্ছেন- সব রেকর্ড হয়ে চলে যাচ্ছে ডার্ক ওয়েব সার্ভারে।
২. কি-লগার: মোবাইলের কী-বোর্ডে যা টাইপ করছেন, এমনকি আপনার ব্যাংকের পিন বা ওটিপি, সবই হ্যাকাররা দেখতে পাচ্ছে রিয়েল টাইমে।
৩. স্ক্রিন মিররিং: আপনার অজান্তেই আপনার ফোনের স্ক্রিনটি অন্য কেউ দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করছে। আপনি যখন ঘুমাচ্ছেন, আপনার ফোন থেকেই হচ্ছে টাকা ট্রান্সফার।
হতে পারে আপনি কেবল একটা ফটো এডিট করার অ্যাপ নামিয়েছেন। পরের সকালে উঠে দেখবেন, আমার বিকাশ বা নগদ অথবা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খালি হয়ে গেছে। ফোনে কোনো ওটিপি আসেনি, কেউ ফোনও দেয়নি।
আতঙ্কিত না হয়ে এখনি সচেতন হোন। আপনার ফোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই কাজগুলো এখনই করুন:
অ্যাপ পারমিশন চেক: ফোনের Settings > Privacy > Permission Manager-এ গিয়ে দেখুন কোন কোন অ্যাপ অদরকারিভাবে ‘Microphone’ বা ‘Camera’ ব্যবহার করছে। সেগুলো এখনই বন্ধ করুন।
অচেনা সোর্স থেকে অ্যাপ নয়: প্লে-স্টোর বা অ্যাপ স্টোর ছাড়া কোনো ওয়েবসাইট থেকে এপিকে (APK) ফাইল নামাবেন না।
ক্যামেরা ও মাইক ইনডিকেটর: খেয়াল করুন, ফোনের ওপরের কোণায় কোনো সবুজ বা কমলা ডট জ্বলছে কি না। যদি আপনি ফোন ব্যবহার না করা অবস্থায় সেটা জ্বলে, বুঝবেন কেউ আপনার ক্যামেরা বা মাইক ব্যবহার করছে।
টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন: আপনার প্রতিটি আর্থিক অ্যাপে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেস লক ব্যবহার করুন।
প্রযুক্তির যুগে আপনার অসতর্কতাই হ্যাকারের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। আপনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা আপনার হাতেই। স্মার্টফোনটি কি আপনার বন্ধু হয়ে থাকছে, নাকি ব্যক্তিগত জীবনের স্পাই হয়ে উঠছে- সেটা আজই পরীক্ষা করুন।
ইনফোজার এই প্রতিবেদনটি শেয়ার করে প্রিয়জনদের সতর্ক করুন