কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দান বাকসো খোলার পর বস্তার পর বস্তা টাকা পাওয়া যায়। ঘটা করে জানানো হয় টাকার পরিমাণ। কিন্তু টাকার সাথে পাওয়া যায় সোনা, রুপাসহ আরো কিছু সামগ্রী। সেগুলোর আর্থিক মূল্য কতো, সে খবর গণমাধ্যমে আসে না। প্রতিবেদন তৈরি করেছেন মো. আল আমিন

পাগলা মসজিদের দান বাকসো খোলা হয় তিন মাস পর পর। কিন্তু এবার খোলা হয়েছে ছয়মাস পর। শনিবার দিনব্যাপী গণনা শেষে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মোট তেরো দানবাকসো থেকে পাওয়া গেছে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা। হিসাবের খাতা থেকে ১৪৬ টাকাও বাদ দেয়নি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সোনা রুপার অলঙ্কারের পরিমাণ প্রকাশ করেনি তারা।
মনের ইচ্ছা পূরণে অনেক দান বাকসে টাকা ফেলে যান। অনেকে সঙ্গে করে নিয়ে আসেন গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগি। পাওয়া যায় মোমবাতি, আগরবাতিও। এগুলো গ্রহণ করার আছে আলাদা ব্যবস্থা। প্রতিদিন গরু, ছাগল ও হাঁস মুরগির নিলাম হয়। তবে নিলাম থেকে কতো টাকা আসে, সেটা প্রকাশ করা হয় না।
অনেকেই চিঠি লিখে ফেলে যান পাগলা মসজিদের দানবাকসে। চিঠিগুলোতে থাকে তাদের মনের কথা। কেউ আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানান। কেউ লিখেন অদ্ভুত কথাও। এই চিঠিগুলো কী করা হয়, সেটাও জানানো হয় না।
টাকা গণনা শেষে সেগুলো রূপালী ব্যাংকে পাগলা মসজিদের হিসাবে জমা করা হয় বলে জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন। এ পর্যন্ত (শনিবারের টাকাসহ) দানবাকসো থেকে প্রাপ্ত অর্থের মধ্যে মসজিদের তহবিলে মোট ১৩০ কোটি ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৪৯৮ টাকা জমা রয়েছে। এছাড়া দানবাকসে পাওয়া সোনা, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা সিলগালা করে জেলা ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, টাকা গণনার কাজে পাগলা মসজিদসংলগ্ন মাদ্রাসার ১১০ জন, আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ৩০০ জন শিক্ষার্থী, পাগলা মসজিদের ৩৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় অর্ধশত সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।
পাগলা মসজিদের নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও দান করা যায়। ২০২৫ সালের ৪ জুলাই চালু হওয়া www.paglamosque.org ওয়েবসাইটে মসজিদের ইতিহাস, নামাজের সময়সূচিসহ বিভিন্ন তথ্য জানা যায় এবং ঘরে বসেই দান করার সুযোগ আছে।