সাদিক কায়েম বিয়ে করায় দেশজুড়ে নারী অসন্তোষ: শাহবাগে ভাঙচুর, ১৪৪ ধারা জারির শঙ্কা

বাড়াবাড়ি2 weeks ago20 Views

পুলিশের কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেলের মুখেও পিছু হটেনি আন্দোলনকারীরা। ছবি: বাড়াবাড়ি, ইনফোজা

সাদিক কায়েম বিয়ে করায় দেশজুড়ে দেখা দিয়েছে নারী অসন্তোষ। বুধবার বিকালে তার আকদ সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও গাড়ি ভাঙচুর শুরু হয়। নারী বিক্ষোভকারীরা এই বিয়ে বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। অবিলম্বে বিয়ে প্রত্যাহার করে তাকে ‘জাতীয় সম্পদ’ হিসেবে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার ঘেরাও করতে দেখা গেছে বিক্ষোভকারীদের। ওই সময় ‘হতাশ ছাত্রী সমাজ’ এর ব্যানার নিয়ে বিশাল এক মিছিল শাহবাগ অবরোধ করে। এমনকি মিছিল নিয়ে দফায় দফায় আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে ঢুকে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাদিক কায়েমের সদ্য বিবাহিত স্ত্রী আনিকা ফারদিন ফরায়েজিকে কনভেনশন সেন্টার থেকে বের হয়ে আসতে হয়। তাকে দেখে আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠেন বিক্ষোভকারীরা। মুহুর্মুহু স্লোগানের মুখে সেন্টারের ভেতর ঢুকে যেতে বাধ্য হন আনিকা।
রাত বাড়ার সাথে সাথে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শাহবাগ মোড়ে অন্তত ২০টি রিকশা এবং ৫টি প্রাইভেট কার ভাঙচুর করা হয়। পুলিশের কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেলের মুখেও পিছু হটেনি আন্দোলনকারীরা।
আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই বিয়ে বাতিলের ঘোষণা দেওয়া না হলে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের ‘মৌন হরতাল’ ডাকা হবে বলে হতাশ ছাত্রী সমাজের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
ছাত্রী সমাজ নেত্রী মনচোরা বেগম বলেন, ‘এই বিশ্বাসঘাতকতা নারী সমাজ মেনে নেবে না। এটি একটি অগণতান্ত্রিক কাজ। তিনি কারো একার হয়ে গুপ্ত থাকতে পারেন না। কাকে বিয়ে করছেন, কবে বিয়ে করছেন এসব তথ্য জাতির সামনে আগে খোলাসা করা হয়নি। আমরা আনিকা নামে কাউকে চিনি না। আগে নামও শুনিনি।’
চব্বিশের আন্দোলনের সময় আনিকা ফারদিন কোথায় ছিলেন? প্রশ্ন রেখে মনচোরা বেগম বলেন, ‘তখন তো আনিকা ফারদিন গুপ্ত ছিলেন। এইসব গুপ্ত ও সুপ্তদেরকে জাতি মেনে নেয়নি। কখনো নেবেও না।’

শিবিরের জরুরি বৈঠক ও মধ্যস্থতায় ব্যর্থতা
পরিস্থিতি নিয়ে রাতেই জরুরি বৈঠকে বসেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারা। শাহবাগে আন্দোলনরত ছাত্রীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার চেষ্টা করেন তারা। তবে বিক্ষুব্ধ ছাত্রীরা আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানায়। শিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিয়ে একটি ব্যক্তিগত ও আইনি প্রক্রিয়া, এই প্রক্রিয়া বাতিলে সাংবিধানিক সুযোগ নেই।
মনচোরা বেগমের নেতৃত্বে ‘হতাশ ছাত্রী সমাজ’ এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে একে ‘ব্যক্তিগত স্বার্থপরতা’ বলে অভিহিত করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবানল
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও এক্সে (টুইটার) হ্যাশট্যাগ #JusticeForSingleSadek এবং #NationalSingleAsset ট্রেন্ডিং হতে শুরু করেছে। দেশের বাইরে থেকেও প্রবাসী নারী সমাজ এই আন্দোলনের সংহতি জানিয়ে ভার্চুয়াল বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। নেটিজেনরা প্রশ্ন তুলেছেন, বিয়ের আগে কেন ‘গণভোট’ নেওয়া হয়নি। বিশেষ করে আনিকা ফারদিন ফরায়েজির পরিচয় নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হওয়ায় আন্দোলনের মাত্রা তীব্র হয়েছে।

সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে বিক্ষোভ
শুধুমাত্র রাজধানী নয়, চট্টগ্রাম, রাজশাহী এবং সিলেটেও একই ধরনের বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা হল থেকে বেরিয়ে মিছিল করেছেন। ইনফোজার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সেখানে সাদিক কায়েমের কুশপুত্তলিকা দাহ না করে তার ‘বিয়ের কার্ড’ পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

প্রশাসনে উদ্বেগ ও কারফিউর শঙ্কা
ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, সকালের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে শাহবাগ ও সংলগ্ন এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হতে পারে। তবে আন্দোলনকারী নেত্রীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো রক্তচক্ষু তাদেরকে রাজপথ থেকে সরাতে পারবে না।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যানজটে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। নারীদের এই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ আছে বলে জানিয়েছে, ট্রাফিক পুলিশ।

নীরব সাদিক কায়েম
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সাদিক কায়েমের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে তার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে একটি নিরাপদ আশ্রয়ে আছেন এবং পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করার চেষ্টা করছেন। গুঞ্জন উঠেছে, তিনি আন্দোলনের নেত্রীদের সাথে গোপনে সমঝোতা করার চেষ্টা করছেন।

বিশ্লেষকদের অভিমত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাদিক কায়েমের এই ‘বিয়ে দেশের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন সংকটের জন্ম দিয়েছে। এটি শুধু একটি পারিবারিক বিষয় নয়, একে দেশের ‘সিঙ্গেল’ স্থিতিশীলতার ওপর বড় আঘাত হিসেবে দেখছেন তারা।

Leave a reply

Loading Next Post...
Follow
Search Trending
Popular Now
Loading

Signing-in 3 seconds...

Signing-up 3 seconds...