হিজবুল্লাহর ড্রোনে হয়রান ইসরাইল: আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কঙ্কালদশা

ইসরাইলের দম্ভ মাটির সাথে মিশিয়ে দিচ্ছে হিজবুল্লাহর ছোট ছোট ড্রোন। তেল আবিব এতদিন তাদের অ্যারো মিসাইল সিস্টেম আর এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান নিয়ে যে আস্ফালন করত, লেবানন সীমান্তের লড়াইয়ে তা এখন স্রেফ তামাশায় পরিণত হয়েছে। প্রতিবেদন তৈরি করেছেন সৈয়দ মূসা রেজা

ড্রোনগুলো ফাইবার অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয় বলে কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক সিগন্যাল পাঠিয়ে এগুলোকে আটকানো বা জ্যাম করা সম্ভব হচ্ছে না। ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি

ইসরাইলি পত্রিকা ‘মারিভ’স্বীকার করেছে , হিজবুল্লাহর নিত্যনতুন ড্রোন কৌশলের সামনে তাদের তথাকথিত অপরাজেয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর এই ‘মাইক্রো-ট্যাকটিক্যাল’ বা ক্ষুদ্র কৌশলী ড্রোনগুলো ইসরাইলি বাহিনীর জন্য এক মূর্ত আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। ইসরাইলের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আমান এবং প্রতিরক্ষা গবেষণা বিভাগ মাফাত এই ধরনের পরিস্থিতির জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না। তারা বড় বড় মিসাইল ঠেকানোর স্বপ্ন দেখলেও হিজবুল্লাহর সস্তা কিন্তু কার্যকরী এই প্রযুক্তির কোনো হদিসই পায়নি।

এই ড্রোনগুলো ইসরাইলি সেনাদের শুধু হতাহতই করছে না, বরং রণক্ষেত্রে তাদের পুরো অপারেশন বা কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে দিচ্ছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলত দুই ধরনের ড্রোন দিয়ে হিজবুল্লাহ তাদের নাস্তানাবুদ করছে। এক দল ড্রোন চলে ওয়্যারলেস বা তারহীন সিগন্যালে, যেগুলো মাঝেমধ্যে জ্যামিং করা সম্ভব হয়। কিন্তু আসল বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে ফাইবার অপটিক ড্রোনগুলো। এই ড্রোনগুলো ফাইবার অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয় বলে কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক সিগন্যাল পাঠিয়ে এগুলোকে আটকানো বা জ্যাম করা সম্ভব হচ্ছে না। ইসরায়েল এই প্রযুক্তির কথা আগে থেকে জানলেও কেন কোনো পাল্টা ব্যবস্থা তৈরি করতে পারেনি, তা নিয়ে এখন নিজেদের ভেতরেই চরম তোড়জোড় আর হাহাকার শুরু হয়েছে।

হিজবুল্লাহর এই রণকৌশল অত্যন্ত নিখুঁত এবং বাস্তবসম্মত। ড্রোনগুলো খুব নিচ দিয়ে উড়ে আসে, একদম শব্দ করে না বললেই চলে এবং সাধারণ রাডারে এগুলো ধরা পড়ে না। ফলে ইসরাইলি বাহিনী কিছু বুঝে ওঠার আগেই ড্রোনগুলো তাদের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। বাণিজ্যিকভাবে পাওয়া যায় এমন ড্রোনগুলোকে হিজবুল্লাহ যেভাবে যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে রূপান্তর করেছে, তা আধুনিক যুদ্ধের ব্যাকরণ বদলে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমাদের মদদপুষ্ট তথাকথিত প্রযুক্তির শ্রেষ্ঠত্ব যে সদিচ্ছা আর কৌশলের কাছে হার মানতে বাধ্য, লেবানন সীমান্তে এখন সেটাই বারবার প্রমাণিত হচ্ছে। এটা পরিষ্কার যে, বড় বড় অস্ত্র দিয়ে হয়তো শহর ধ্বংস করা যায়, কিন্তু হিজবুল্লাহর মতো লড়াকু বাহিনীর বুদ্ধিদীপ্ত আর সাশ্রয়ী কৌশলের সামনে ইসরায়েলের বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেটও এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে।

Leave a reply

Loading Next Post...
Follow
Search Trending
Popular Now
Loading

Signing-in 3 seconds...

Signing-up 3 seconds...