হাজংরা বারোয়ারি পূজা করে। এরা হিন্দু। উপাসনা হিন্দুদের মতোই। তবে হাজং উপাসনায় আছে কিছু আদি বিশ্বাস। আর এই বিশ্বাসগুলোই মূলধারার সনাতনিদের থেকে আলাদা করে তুলেছে তাদের।
হাজং উপাসনার বড় আয়োজন ‘দেউলী’। দুর্গা, কালি ও মনসাদেবির জন্য আলাদা উৎসব থাকলেও এই উৎসবে নির্দিষ্ট কোনো দেবতার পূজা হয় না। দেউলী ফসল তোলার উৎসব। তবে আয়োজনটা শুরু হয় দেবি কালির আরাধনা দিয়ে। হাজংরা বিশ্বাস করেন দেবি কালি তাদের শক্তি দেয়। এই শক্তিই পারে তাদেরকে ভালো ফসল দিতে।
হাজংপাড়ায় দেউলীর আনন্দ নামে কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের অমাবস্যার রাতে। নেত্রকোনার দুর্গাপুরে নেমেছিলো কয়েকদিন আগে। আয়োজনে ছিলো ‘বিরিশিরি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কালচারল একাডেমি’। ওইরাতে উপজেলার শ্যামনগর হয়ে উঠেছিলো আলোভরা গ্রাম।
দেউলী সাজানো হয় আলো দিয়ে। আলোঝলোমল এই উৎসবে বাজে ঢোল আর করতাল। তারপর নেচে-গেয়ে গ্রামের সবাই মিলে দেউলী করে।
এখন গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরা হয় না। হাজংরাও আর আগের মতো রাখাল নন। তবু তারা আদি পোশাকে সাজেন। মুখে রঙ মাখেন। গলায় তুলেন ‘দেউলী গীত’।
এই গানে থাকে ফসল, ভালোবাসা আর গ্রামের একতার কথা। ঢাকের তালে রাতভর মুখর থাকেন তারা। দেবতা ও দেবিদের পূজা শেষে সমবেত ভোজ হয়। খাওয়ার এই আয়োজনকে হাজংরা ডাকেন ‘ভোজো’।
নেত্রকোনার এই এলাকায় প্রায় ২০ হাজার হাজংয়ের বসতি। একটাসময় হাজং রাখালেরা বন্য হাতি তাড়ানোর জন্য দেউলী করলেও এখন এটি তাদের আনন্দ আর উপাসনা। সেইসাথে আদি সংস্কৃতির উপস্থাপন।
দেউলী যখন হয় তখন কেবল হাজংরাই না, দেখতে আসেন অন্যরাও।
আজকের দুনিয়ায় বদলে গেছে জীবন, বদলেছে পেশা। এসবের প্রভাব পড়েছে উৎসব-আনন্দেও। তারপরও হাজংপাড়ায় রাতভর ঢাক বাজে, করতাল ওঠে। আর আলোঝলোমল ‘দেউলী গীতে’ জেগে উঠে হাজং সংস্কৃতি। – ইনফোজা প্রতিবেদন