সাগরতলের পুঁচকে স্পাইডার, নিজেদের কারখানায় চিনি বানায় ওরা

বাচ্চারা,

একদম সত্যি বলছি। সাগরের তলে পুঁচকে কিছু স্পাইডার থাকে, এদের শরীরে থাকে চিনি বানানোর কারখানা!

ওই স্পাইডাররা কেবল চিনিই বানায় না, পৃথিবীকে ঠান্ডা রাখতেও কাজ করে।

অদ্ভুত না!

এদের শরীর খুব ছোট। মাত্র এক সেন্টিমিটার লম্বা। এই ছোট শরীর নিয়েও কিন্তু এরা হিরো।

হ্যাঁ, এটা ঠিক, পুঁচকেরা তাদের শরীরের কারণে শিকার ধরতে পারে না।

কিন্তু শিকার না ধরলে খায় কী?

এটাও তো একটা প্রশ্ন।

আরে বোকা, আসল মজাটা তো এখানেই। পুঁচকে স্পাইডাররা জাদু জানে। জাদু দিয়ে নিজের শরীরে চিনি বানায়। তারপর সেটা খায়।

ব্যাপারটা মাথায় ঢুকছে না তো!

ওকে, সহজ করে বলছি। সাগরতলের স্পাইডার হিরোদের শরীরে ছোট ছোট ব্যাকটেরিয়া থাকে। এই ব্যাকটেরিয়াগুলো খায় মিথেন গ্যাস। মিথেন খেয়ে ওরা চিনি আর তেলের মতো খাবার বানায়। তারপর পুঁচকে স্পাইডাররা নিজের শরীর থেকেই চিনি আর তেল চেটে চেটে খায়! তুমি যেমন সকালের নাশতায় ডিম খাও, মাকড়সারাও তেমনি চিনির মতো ব্যাকটেরিয়া খায়।

ওই মাকড়সাদের বাচ্চারা ডিম ফুটে বের হয়ে আসার পর তাদের শরীরেও চিনির মতো ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে দেয় মা ও বাবারা। তারপর বাচ্চারাও মজা করে খায়।

আর ব্যাকটেরিয়াগুলো খায় মিথেন গ্যাস।

মিথেন গ্যাস কী জানো?

ওটা চোখে দেখা যায় না। তবে পৃথিবীর জন্য খুব বিপজ্জনক। এই গ্যাস যদি বেশি হয়, তাহলে পৃথিবীর চারপাশ গরম হয়ে যায়, শীতে বেশিসময় ধরে কম্বলের নিচে থাকলে তোমার শরীর যেমন গরম হয়। মিথেন গ্যাস পৃথিবীর কম্বলের মতোই।

তুমি গরম হলে তো কম্বল থেকে বেরিয়ে আসতে পারো। কিন্তু পৃথিবী গরম হলে ভয়ঙ্কর কিছু ঘটে যায়!

পৃথিবীর বরফ গলে যায়, জলবায়ু বদলে যায়। মানে পৃথিবীর জন্য নেমে আসে বিপদ!

এবার বুঝলে তো, পুঁচকে মাকড়সাদের শরীরের ব্যাকটেরিয়াগুলো মিথেন খেয়ে পৃথিবীকে বিপদ থেকে রক্ষা করছে।

পুঁচকেরা থাকে সাগরের একেবারে গভীরে, ওখানে সূর্যের আলোও ঠিকমতো পৌঁছায় না। ওখানে আছে ‘মিথেন সিপ’ নামের বিশেষ জায়গা। সেখান থেকে ব্যাকটেরিয়ারা মিথেন খায়। আর পৃথিবীর গরম কমায়।

সাগরতলের এই পুঁচকে হিরোদের খুঁজে পেয়েছে আমেরিকার অক্সিডেন্টাল কলেজের বিজ্ঞানীরা। তাদের দলটি ক্যালিফোর্নিয়া ও আলাস্কার উপকূলে গবেষণা করতে গিয়েই নতুন জীবগুলো আবিষ্কার করে।

দলের এক গবেষকের নাম শানা গফ্রেডি। তিনি এই মজার আবিষ্কারটি বিশ্বজুড়ে পরিচিত করেছেন।

ধন্যবাদ শানা গফ্রেডি, সাগরতলের এই পুঁচকে বন্ধুদেরকে আমাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য।

কিন্তু তোমার কাছে একটা প্রশ্ন আছে। এই স্পাইডারদের কোনো নাম রাখোনি কেন? নাম ছাড়া কি কাউকে ডাকা যায়!

বোকা বিজ্ঞানীর দল কোথাকার!

উপস্থাপনা: শাহ ওবায়েদ নেহান

প্রযোজনা: সজল ফকির

Leave a reply

    Join Us
    • Facebook
    • Youtube
    Deal Of The Month
      Categories

      Advertisement

      Loading Next Post...
      Follow
      Search Trending
      Popular Now
      Loading

      Signing-in 3 seconds...

      Signing-up 3 seconds...