যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে যারা অশান্তি তৈরি করতে চায়, তরবারির আঘাতেই তাদের পতন নিশ্চিত। পশ্চিমা দুনিয়াকে এমন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে রাশিয়ার বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান সের্গেই নারিশকিন বলেছেন, ইউক্রেনের পর এবার ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-কে মারাত্মক অস্ত্র ও পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহার করছে পশ্চিমা সামরিক কোম্পানিগুলো

সম্প্রতি মস্কোয় আয়োজিত ১৪তম আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট জানান, এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবস্থা আগামী দিনে বৈশ্বিক পারমাণবিক ভারসাম্যের চেনা সমীকরণকেও ওলটপালট করে দিতে পারে, যা বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য এক বড় ও নতুন হুমকি।
ইরানের বার্তা সংস্থা ইরনা মস্কো থেকে আরো জানিয়েছে, এই সম্মেলনে নারিশকিন জোর দিয়ে বলেন, আগামী দিনের পৃথিবী কোনো একক শক্তির ইচ্ছায় চলবে না, এটি হবে বহুকেন্দ্রীক। ভবিষ্যৎ আসলে সেইসব দেশের, যারা অন্য দেশের ঐতিহ্যকে শ্রদ্ধা করে, শুধু নিজেদের মুনাফা বা আধিপত্যের পেছনে ছোটে না। ইউরোপের বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ন্যাটো রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং কিয়েভকে দেয়া পশ্চিমা অস্ত্রগুলো এখন চোরাপথে পুরো ইউরোপের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর হাতে গিয়ে পৌঁছাচ্ছে।
ইউরোপকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে সংঘাতের দিকে ঠেলে দেয়ার পেছনে মূল কারিগর হলো ব্রিটেন, যাকে তিনি ইউরোপের ‘কুটিল ও ধূর্ত মস্তিষ্ক’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জার্মানি ও ফ্রান্সকে এই ধোঁকাবাজ ব্রিটিশদের ফাঁদে না পড়ার আহ্বান জানান। ইউক্রেনের জেলেনস্কি সরকারকে সমর্থন দেয়ার কারণে ইউরোপে সামাজিক উত্তেজনা বাড়ছে এবং এর জন্য সাধারণ মানুষকে চড়া মূল্য চোকাতে হচ্ছে। তবে ইউরোপীয় নেতারা রাশিয়াকে লুট করে এই ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার স্বপ্ন দেখছেন। উল্লেখ্য, এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ইরানসহ ১২০টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন, যেখানে ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ডেপুটি আলী বাকেরী।