ভারতের পার্টনারদের কাছে ছোট আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহের একটি চুক্তি সই করেছে রাশিয়ার বিখ্যাত অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কালাশনিকভ। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘ইন্ডিয়া হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপো’তে এই চুক্তি হয়। এই চুক্তির আওতায় চলতি বছরের শেষ নাগাদ ভারতকে ড্রোন বিধ্বংসী বন্দুক (শটগান), বিভিন্ন ক্যালিবারের ড্রোন বিধ্বংসী কার্তুজ এবং পিস্তল সরবরাহ করবে কালাশনিকভ। বিশ্বজুড়ে এখন ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতিবেদন করেছেন সৈয়দ মূসা রেজা

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আরটি শুক্রবার জানিয়েছে, ভারতের এই রুশ অস্ত্র কেনার পেছনে রয়েছে বড় ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগ। এর আগে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি দাবি করেছিলেন, গত বছর দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানের ড্রোন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। শুধু তাই নয়, ড্রোনটি দীর্ঘক্ষণ মোদির বাসভবনের ওপর ঘোরাঘুরি করছিল বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
চলতি জুন মাসের গোড়ার দিকে সিন্ধু প্রদেশের মোরোতে আয়োজিত এক জনসমাবেশে জারদারি এই দাবি করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ড্রোনগুলো ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা লাইন ভেদ করে সরাসরি দেশটির প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। পাকিস্তানের এই ভারত বিরোধী ও আক্রমণাত্মক ড্রোনের ঘটনাটিই মূলত দিল্লির নিরাপত্তা উদ্বেগকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
নিরাপত্তা মেলার দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে নজর কেড়েছে কমপ্যাক্ট কারাকুর্ত, গোলিয়াথ কপ্টার ড্রোন এবং বেশি উচ্চতায় উড়তে সক্ষম স্কাট ৩৫০ এম গোয়েন্দা বিমান- যা ভারতে ‘গরুড়’ নামে পরিচিত। এছাড়া মেলায় বিশেষভাবে নজর কেড়েছে এফপিভি ড্রোনের হামলা ঠেকাতে তৈরি ১২-গেজের দুটি ড্রোন বিধ্বংসী বন্দুক- সাইগা এবং এমপি-১৫৫। তীব্র শীত ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকার উপযোগী বিশেষ ইউনিফর্ম কিটও প্রদর্শন করেছে কালাশনিকভ।
কালাশনিকভের ভারতের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর মাক্সিম কারাভায়েভ জানান, তাদের ড্রোন প্রতিরোধী পণ্যগুলো বেশ কার্যকর এবং প্রমাণিত। ভারতের সাথে কালাশনিকভের অংশীদারিত্ব অবশ্য এটাই প্রথম নয়। ইন্দো-রাশিয়ান রাইফেলস প্রাইভেট লিমিটেডের (আইআরআরপিএল) মাধ্যমে ২০২৩ সাল থেকে ভারতের উত্তর প্রদেশের কোরডায় একে-২০৩ অ্যাসাল্ট রাইফেল তৈরি শুরু হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় রুশ প্রযুক্তি ও সার্টিফাইড যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ১০ বছরে মোট ৬ লাখ একে-২০৩ রাইফেল তৈরির এই বিশাল প্রকল্প যৌথভাবে এগিয়ে চলছে।