ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তার নিজ দেশ থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছেন না কিশোরী অ্যাক্টিভিস্ট ফাতিহা আয়াত। রবিবার ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এই ঘটনাকে ‘ক্ষমতার নির্মম মানচিত্রে আঁকা আরেকটি কালো দাগ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

কিশোরী ফাতিহা আয়াত একজন লেখক, পরিবেশবাদী সংগঠক ও মানবাধিকারকর্মী। সারা বিশ্বে তিনি খ্যাতি অর্জন করেছেন। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া আয়াত বর্তমানে বাবা ও মায়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে বসবাস করছেন।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে ফাতিহা আয়াত লেখেন, কোনো দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে যদি তার নিজের মাটি থেকেই টেনে নিয়ে যাওয়া যায়, তাহলে তা কেবল একজন ব্যক্তির বিষয় থাকে না। তার ভাষায়, এই ঘটনা সরাসরি একটি দেশের সার্বভৌমত্ব, রাষ্ট্রের আত্মসম্মান এবং বৈশ্বিক ব্যবস্থার নৈতিকতার প্রশ্ন তোলে।
তিনি লেখেন, যে শক্তি নিজেকে ‘ন্যায়বিচারের ধারক’ হিসেবে উপস্থাপন করে, তারাই বাস্তবে জনগণের রায়কে সবচেয়ে বেশি ভয় পায়।
আয়াতের মতে, এসব শক্তি আদালতের ভাষায় কথা বললেও তাদের আচরণে উপনিবেশিক মানসিকতার ছায়া স্পষ্ট। তিনি একে ‘আইনের নামে ক্ষমতার অপহরণ’ বলে উল্লেখ করেন এবং এটিকে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রতারণাগুলোর একটি বলে মন্তব্য করেন।
পোস্টে আয়াত উল্লেখ করেন, এই ঘটনায় তিনি বিস্মিত নন। ইতিহাস থেকে তিনি শিখেছেন, যখন কোনো রাষ্ট্র স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে চায় বা কোনো নেতা বৈশ্বিক নির্দেশ মানতে অস্বীকার করেন, তখনই তাকে ‘অপরাধী’ বানানোর একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা শুরু হয়।
ফাতিহা উল্লেখ করেন, আজ এই পরিস্থিতির মুখোমুখি মাদুরো, অতীতে অন্য কেউ ছিলেন, ভবিষ্যতেও হয়তো আরও অনেকে হবেন। তার মতে, নাম পরিবর্তন হলেও পদ্ধতি একই থেকে যায়।
স্ট্যাটাসের শেষ অংশে তিনি স্বাধীনতার প্রশ্নটি সামনে আনেন। ফাতিহা আয়াত বলেন, স্বাধীনতা কোনো উপহার নয়; এটি প্রতিদিন রক্ষা করতে হয়, প্রশ্ন তুলতে হয় এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হয়।
নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে ফাতিহা আয়াত লেখেন, তিনি এই নীরবতাকে মেনে নেন না। তিনি মনে করেন, আজ যদি অন্য দেশের মাটিতে সংঘটিত অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা না বলা হয়, তবে আগামী দিনে নিজের দেশের মাটিও নিরাপদ থাকবে- এমন নিশ্চয়তা নেই।- ইনফোজা প্রতিবেদন