সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পদ ত্যাগ করার পত্রে ১৬ ভুল

জাতীয়4 minutes ago1 Views

পত্রে পাওয়া গেছে ১৬ ভুল

রাষ্ট্রপতির পদ ত্যাগ করেছেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। এর জন্য জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে দিয়েছেন পদ ত্যাগ করার পত্র, যাকে বলা হয় পদত্যাগপত্র। এই পত্রে পাওয়া গেছে ১৬ ভুল।
পদত্যাগপত্রে বানান, শব্দপ্রয়োগ, বাক্যগঠন ও মুদ্রণরীতির অন্তত ১৬টি অসংগতি চিহ্নিত করেছেন ভাষাবিজ্ঞানীরা। প্রমিত বাংলা বানান ও লিখনরীতির নিয়মানুযায়ী নথিপত্রটিতে সরাসরি বানান ভুল, শব্দগঠনগত ত্রুটি, বাক্যের অসামঞ্জস্য এবং ভাষাগত বাহুল্য আছে বলে জানিয়েছে শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ)।

বাংলা বানান গবেষক ও ভাষাবিজ্ঞানী ড. মোহাম্মদ আমীন তাঁর ফেসবুকভিত্তিক গবেষণা প্ল্যাটফর্ম ‘শুদ্ধ বানান চর্চা – শুবাচ’-এ বাংলা একাডেমির প্রমিত বানানরীতি ও অভিধানের আলোকে এসব ভুল ও অসংগতি তুলে ধরেন।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, পদত্যাগপত্রের শুরুতেই ব্যবহৃত ‘স্পীকার’ শব্দটি একটি সরাসরি বানান ভুল। প্রমিত বানানরীতি অনুযায়ী বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে ‘ঈ-কার’ পরিহার করে ‘স্পিকার’ লেখা নিয়ম। একইভাবে পত্রে ব্যবহৃত ‘ইদানিং’ এবং ‘পরিক্ষায়’ শব্দ দুটির সঠিক প্রমিত রূপ যথাক্রমে ‘ইদানীং’ এবং ‘পরীক্ষায়’। এ ছাড়া বহুবচনবোধক শব্দ ‘রোগ সমূহের’ আলাদা না লিখে যুক্তভাবে ‘রোগসমূহের’ লেখার নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে।

পত্রের সম্ভাষণে ব্যবহৃত ‘শ্রদ্ধজনেষু’ শব্দটিকে শব্দগঠনগত ভুল হিসেবে চিহ্নিত করে ড. আমীন জানান, এর শুদ্ধ রূপ হবে ‘শ্রদ্ধাভাজনেষু’। একই সঙ্গে চিকিৎসাবিজ্ঞান সংক্রান্ত শব্দ ‘হৃদরোগ’ ও ‘হৃদযন্ত্রে’-এর প্রমিত রূপ হবে ‘হৃদ্‌রোগ’ ও ‘হৃদ্‌যন্ত্রে’। অন্যদিকে প্রচলিত ‘ডায়াবেটিস’ শব্দটি বাংলা একাডেমির আধুনিক অভিধান অনুযায়ী ‘ডায়াবিটিস’ হওয়া উচিত।

ভাষাগত বাহুল্যের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জানান, পত্রে ‘রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ’ এবং ‘২০২৩ খ্রি. সনের’ বাক্যবন্ধে একই অর্থে একাধিক শব্দের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। ‘পদত্যাগ’ শব্দের ভেতরেই ‘পদ ত্যাগ’ অর্থ নিহিত থাকায় এটি ‘রাষ্ট্রপতির পদ ত্যাগ করছি’ লেখা অধিক মানানসই হতো। একইভাবে ‘খ্রি.’ ও ‘সন’ দুটি বর্ষসূচক শব্দ পাশাপাশি না বসিয়ে ‘২০২৩ খ্রিষ্টাব্দের’ অথবা ‘২০২৩ সনের’ লেখা সমীচীন।

এ ছাড়া ‘অসামর্থ্যতার’ বদলে ‘অসামর্থ্যের’, অনির্দিষ্টতা বোঝাতে ‘কোন’-এর স্থানে ‘কোনো’ এবং একটি বাক্যে ‘নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি আনুগত্য’ একই কাঠামোর অধীনে এনে বাক্যগঠনে অসংগতি তৈরি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। একই পত্রে তারিখ লেখার ক্ষেত্রেও (‘২৪ এপ্রিল’ ও ‘১৫ই আগস্ট’) রীতির অসামঞ্জস্য দেখা গেছে।

0 Votes: 0 Upvotes, 0 Downvotes (0 Points)

Leave a reply

Loading Next Post...
Follow
Search Trending
Popular Now
Loading

Signing-in 3 seconds...

Signing-up 3 seconds...