
আন্তর্জাতিক আইন, কার জন্য কেমন? আইন যখন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যায় তখন ওয়াশিংটন কথা বলে মোলায়েম ভাষায়। সভ্য শব্দচয়ন করে তারা। কিন্তু সেই একই আইন যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অথবা ইসরাইলের বিরুদ্ধে যায়, তখন সেটা হয়ে উঠে ‘সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত’। মিডলইস্ট মনিটরে প্রকাশ হওয়া জেনি উইলিয়ামস এর বিশ্লেষণ অবলম্বনে প্রতিবেদন করেছেন সাইমা আকন্দ
কোনো দেশের সাথে ঊনিশ-বিশ হলেই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দিচ্ছে আমেরিকা। বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে ভিসা। তৈরি করা হচ্ছে কূটনৈতিক চাপ। এসব ক্ষেত্রে তোয়াক্কা করছে না আন্তর্জাতিক আইন ও আদালতের। এমনকি আদালতকেও শাস্তি দেওয়ার মওকা খোঁজে বেড়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
২০২৪ সালে ফিলিস্তিন পরিস্থিতি নিয়ে ইসরাইলের আইনি আপত্তি খারিজ করে দেওয়া হয়। পরে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। এরপর থেকেই আদালতের প্রতি ওয়াশিংটনের বৈরিতা পরিণত হয়েছে জবরদস্তিতে। আইসিসির বিচারক ও কর্মকর্তাদের ওপর দেওয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। এমনকি আইসিসির কয়েকজন বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা পর্যন্ত করতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের দাবি, বিচারিক দায়িত্ব পালনের কারণে তাদের শাস্তি দেওয়া ও চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যেই এই নিষেধাজ্ঞাগুলো দেওয়া হয়েছিল।
মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এমন আদালত চায়, যা দুর্বল রাষ্ট্রগুলোকে ভয় দেখাতে পারবে, প্রতিদ্বন্দ্বী নেতাদের কোণঠাসা করবে। কিন্তু গাজা বা আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে, এমন কোনো প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে চায় না তারা। নিজের পররাষ্ট্রনীতির বেলায় গণতন্ত্র, মানবাধিকার আর নিয়মনীতির কথা বলে ওয়াশিংটন। কিন্তু এসব মানদন্ডে মার্কিন ও ইসরাইলি আচরণ খতিয়ে দেখতে গেলে পুরো ব্যবস্থাকেই ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে দেয় তারা।
পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, তাদের আগাম অনুমতি ছাড়া মানবাধিকারের প্রশ্ন তোলার সাহস করতে পারবে না কেউ। এ ক্ষেত্রে সামরিক শক্তিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে আমেরিকা।