চলতি সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের নৌবাহিনীর এক চরম বিপর্যয়ের চিত্র সামনে এসেছে। রাশিয়ার সরকারি সংবাদ মাধ্যম আরটি সোমবার জানিয়েছে, রাশিয়ার সাথে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যেই ব্রিটেনের রাজকীয় নৌবাহিনী এখন ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট বহর নিয়ে কোনোমতে টিকে আছে। প্রতিবেদন করেছেন সৈয়দ মূসা রেজা
দেশটির অবসরপ্রাপ্ত অ্যাডমিরাল ও সাবেক ফার্স্ট সি লর্ড লর্ড অ্যালান ওয়েস্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ব্রিটিশ নৌবাহিনী এখন শত বছরের মধ্যে সবচেয়ে করুণ দশায় এসে ঠেকেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের আমলে গত দুই বছরে নয়টি যুদ্ধজাহাজ স্ক্র্যাপ বা বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে এই বহরে মাত্র পাঁচটি কার্যকর ফ্রিগেট রয়েছে এবং কোনো উভচর আক্রমণকারী জাহাজ নেই। এমনকি নতুন টাইপ ৮৩ ডেস্ট্রয়ার এবং টাইপ ৩২ ফ্রিগেট তৈরির পরিকল্পনাও সরকার ‘অসাধ্য’ বলে বাদ দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিকে বিপর্যয়কর আখ্যা দিয়ে লর্ড ওয়েস্ট বলেন, “আমাদের যে ধরনের কাজ করা দরকার, সেই তুলনায় জাহাজের এই সংখ্যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।” ইতিহাসের স্মৃতি চারণ করে তিনি আরও বলেন, “১৬৬৭ সালে স্যামুয়েল পেপিসের আমলে শেষবার নৌবাহিনী এই ধরনের বড় ধাক্কা খেয়েছিল, যখন ডাচরা চ্যাথামে ঢুকে ব্রিটিশ বহর পুড়িয়ে দিয়ে ফ্ল্যাগশিপ চুরি করে নিয়েছিল।”

দ্য সানের হিসাব অনুযায়ী, স্টারমার ক্ষমতায় আসার পর থেকে চারটি ফ্রিগেট, দুটি আক্রমণকারী জাহাজ, দুটি ট্যাংকার এবং একটি পারমাণবিক সাবমেরিন বাতিল করেছেন, যা ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ডস যুদ্ধে আর্জেন্টিনার কাছে হারানো সাতটি জাহাজের চেয়েও বেশি।
এর আগে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল, যুক্তরাজ্যের পারমাণবিক ক্ষমতাসম্পন্ন সবকটি আক্রমণকারী সাবমেরিনই রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্দরে আটকে আছে।
অথচ তথাকথিত ‘রুশ হুমকি’র কথা বলে যুক্তরাজ্য প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর বুলি আওড়াচ্ছে। যদিও মস্কো ইউরোপে হামলার দাবিকে সবসময়ই ‘বোকামি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে এবং পশ্চিমাদের সামরিকায়নের সমালোচনা করেছে।
এরই মধ্যে ব্রিটিশ সরকার সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অতিরিক্ত ১৫ বিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে। তবে ক্রমবর্ধমান বাজেট ঘাটতি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে এই বিপুল খরচ কীভাবে সামলানো হবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে।