তুরস্কের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ শিল্প খাত এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্প সচিবালয়ের প্রধান হালুক গোরগুন শুক্রবার জানিয়েছেন, ইতিহাসে এই প্রথম গত ১২ মাসে এই খাতের রফতানি আয় ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে এই খাতের ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় থাকার তথ্য সামনে এসেছে। গত বছরের জুনের তুলনায় চলতি বছরের জুনে রফতানি ২৯.৬ শতাংশ বেড়ে ৮০২.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডালারে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদন করেছেন সৈয়দ মূসা রেজা

হালুক গোরগুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এনসোশ্যালে এক বিবৃতিতে বলেন, “চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আমাদের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ খাতের রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৯.৫ শতাংশ বেড়ে ৪.৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। আর গত ১২ মাসের রফতানি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের স্তর অতিক্রম করে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেছে।”
তিনি আরো জানান, যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকারিতা প্রমাণ হওয়া বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এবং প্রতিবছর আরও শক্তিশালী হওয়া নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে তুরস্ক বিশ্বজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতা বজায় রাখবে। এই সাফল্যের পেছনে অবদান রাখা সমস্ত কোম্পানি, প্রকৌশলী, টেকনিশিয়ান এবং অংশীজনদের তিনি ধন্যবাদ জানান।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুরস্কের প্রতিরক্ষা খাতে রফতানির এই জোরালো গতি অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪ সালে মোট ৭.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানির পর, ২০২৫ সালে তা বার্ষিক ভিত্তিতে ৪৮ শতাংশ বেড়ে ১০.০৫ বিলিয়ন মার্কিন ডালারে পৌঁছেছিল। শুধু তাই নয়, এই খাতের ভৌগোলিক পরিধিও অনেক বেড়েছে। গত মে মাস পর্যন্ত ১২ মাসে বিশ্বের ১৭৮টি দেশে প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ সরঞ্জাম রফতানি করা হয়েছে, যার মধ্যে মোট বিক্রির ৫৭.৩ শতাংশই গেছে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর কাছে। চালকহীন ড্রোন, নৌযান, সাঁজোয়া যান, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গোলাবারুদ এবং মহাকাশ প্রকল্পের মতো নিজস্ব প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তুরস্কের এই খাত গড়ে উঠেছে। বর্তমানে এই খাতে কাজ করা কোম্পানির সংখ্যা ৩ হাজার ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে।