ইরান এক তীব্র জনসংখ্যা সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে জন্মহারের ক্রমাগত পতনে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে দেশটির জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার শূন্যে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরানের সংবাদ মাধ্যম তাসনিম বলেছে, দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুব জনসংখ্যা কেন্দ্রের প্রধান রেজা সাইদি সতর্ক করেছেন, বর্তমান ধারা চলতে থাকলে ইরান এক ‘জনসংখ্যার কৃষ্ণগহ্বরে’ পতিত হবে। বর্তমানে দেশটির জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার মাত্র ০.৫ শতাংশ এবং প্রজনন হার কমে প্রতি নারীতে ১.৪ সন্তানের নিচে নেমে গেছে, যা ভারসাম্য রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ২.১-এর চেয়ে অনেক কম। প্রতিবেদন তৈরি করেছেন সৈয়দ মূসা রেজা
এই সংকটের মূলে রয়েছে তীব্র অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতি এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সাংস্কৃতিক পরিবর্তন। এর সাথে যুক্ত হয়েছে বিয়ের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়া। ইরানে বর্তমানে ২০ বছরের বেশি বয়সী প্রায় ১ কোটি তরুণ-তরুণী অবিবাহিত রয়ে গেছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ১০ লাখ মানুষের বয়স ৪৫ পার হয়ে গেছে এবং তাদের বিয়ে করার সম্ভাবনা এখন একেবারেই ক্ষীণ। ১৪০৩ সালে যেখানে ৪ লাখ ৭০ হাজার বিয়ে নিবন্ধিত হয়েছিল, পরের বছরই তা কমে ৪ লাখ ৩১ হাজারে নেমে আসে। পাঁচ দশক আগে যেখানে গড় বিয়ের বয়স ছিল ১৮ থেকে ১৯ বছর, আজ তা ২৮ থেকে ৩২ বছরে গিয়ে ঠেকেছে। বিয়ের পর প্রথম সন্তান নেওয়ার সময়কালও ২ বছর থেকে বেড়ে এখন সাড়ে ৪ বছর হয়েছে। এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৭০ শতাংশ ইরানি দম্পতি এখন মাত্র একটি বা দুটি সন্তান চান।
ইরানের এই দ্রুত বুড়িয়ে যাওয়ার সংকট কেবল জন্মহারের সংখ্যাগত পতন নয়, এটি দেশটির সামগ্রিক কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য বড় হুমকি। তরুণ জনগোষ্ঠী কমে গেলে উৎপাদনশীলতা, খাদ্য নিরাপত্তা, বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সরাসরি ধাক্কা খায়। ইরানের সামনে সংস্কারের যে সীমিত সুযোগ বা জনমিতির জানালা উন্মুক্ত ছিল, তা দ্রুত বন্ধ হয়ে আসছে। এই সংকটের ছায়া শুধু পরিবারের ওপর নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ওপরও এক দীর্ঘস্থায়ী অন্ধকার তৈরি করতে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অঞ্চলের অন্যতম তরুণ জনশক্তির এই দেশ যেভাবে দ্রুত প্রবীণ সমাজে রূপান্তরিত হচ্ছে, তা সময়মতো ঠেকাতে না পারলে দেশটির অর্থনীতি, উৎপাদনশীলতা ও সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগামী দিনে এক গভীর ও জটিল সংকটের মুখে পড়বে।