কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াত অফিসে এক বিশেষ আয়োজনে সাংবাদিকদের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেন দলটিতে সদ্য যোগ দেওয়া নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন। তিনি কথা বলেন ব্যক্তিগত চিন্তা ও জামায়াতে যোগ দেওয়ার প্রেক্ষাপট নিয়ে।
শনিবার অনুষ্ঠিত ওই আলোচনার এক পর্যায়ে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রুকন হবেন কিনা?
প্রশ্নটি করেন সাংবাদিক মো. আল আমিন।
এর জবাবে মেজর (অব.) আখতার বলেন, ‘অবশ্যই আমাদের নিয়ম-নীতি মেনে চলতে হবে। তবে আমি ভাইয়ের কাছে বায়াত হইছি। ভাই কই রাখবে, এইডা আমি জানি না।’
জেলা আমির মো. রমজান আলীর দিকে ইঙ্গিত করে একথা বলেন তিনি।
ওইসময় উপস্থিত জামায়াত নেতারা হেসে উঠেন।
পরে মো. রমজান আলী বলেন, ‘তিনি প্রথমিক সদস্য হয়েছেন, সহযোগী। এরপর সদস্য হবেন, অবশ্যই। তিনি তো ঘরের দরজা দিয়ে মাত্র ভেতরে ঢুকেছেন। এরপর তার জন্য একটা সিলেবাস আছে, যেটা আল আমিন সাহেব বলেছেন। ওই সিলেবাসের কিছু বই-পুস্তক, কোরআন, হাদিস, ফিকাহ- এগুলো পড়ে আবেদন করতে হয় সদস্য হওয়ার জন্য, মানে রুকন হওয়ার জন্য।’
এই আয়োজনে অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় জেলা জামায়াত। এতে তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
আখতার সাংবাদিকদের জানান, সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় কিশোরগঞ্জের উন্নয়নে তার অবদানের কথা।
বারবার বিএনপি থেকে বহিষ্কার হওয়ার প্রেক্ষাপটও বর্ণনা করেন।
সদ্য জামায়াতে যোগ দেওয়া এই নেতা বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত একটা অহং কাজ করে। অহংটা হলো- কোনো জিনিস আমি একটু দেখার চেষ্টা করি ভালোভাবে। দেখে যখন বুঝি এটাই সঠিক, তখন এটা নিয়ে আমি একটু শক্তিশালী অবস্থান গ্রহণ করি। এই অবস্থান গ্রহণ করার পেছনে আমি কিছু হোম ওয়ার্ক করি। তাৎক্ষণিকভাবে বলে ফেলি না, এটাই করা উচিত, বা এটাই সঠিক।’
পরে তিনি কিছু হোম ওয়ার্ক এর উদাহরণ তুলে ধরেন। কোরআন ও ইসলাম বিষয়ে কোনো তথ্য শুনলে সেটা কীভাবে যাচাই করেন, সে বিষয়েও জানান আখতার।
প্রসঙ্গ টেনে তিনি জামায়াতে যোগ দেওয়া ও তার ব্যক্তিগত বিচার-বিবেচনার বিস্তারিত প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। জানান, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ হয় তার।
আখতার কথা বলেন বিএনপি ও দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিষয়েও। একাত্তর প্রসঙ্গে জামায়াতকে জড়িয়ে তারেক রহমানের বক্তব্যর সমালোচনা করেন।
এ সময় তিনি ১৯৭১ সালে কিশোরগঞ্জের রাজনৈতিক বাস্তবতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধকালীন পরিস্থিতি, জামায়াত ও বিএনপির আন্দোলনে নেতাদের ফাঁসি এবং মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী প্রসঙ্গেও কথা বলেন।
বিএনপির সাথে আন্দোলন করতে গিয়ে জামায়াতের পাঁচ নেতার ফাঁসি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
ভবিষ্যতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জন্য এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন সদ্য জামায়াতে যোগ দেওয়া এই নেতা। – ইনফোজা প্রতিবেদন
একইদিন জেলার গচিহাটায় এক কৈফিয়ত সভা করেন মেজর (অব.) আখতার। দেখুন নিচের ভিডিও থেকে-