সর্বমিত্র, হাসিভরা ছেলেটা। হাসিমুখ ছাড়া কথাই বলতে পারে না সে। উদ্ভট উদ্ভট ঝড় বয়ে যাচ্ছে তার উপর দিয়ে। তারপরও মুখের হাসি একটুও কমেনি সর্বমিত্র চাকমার।
ছোটভাই,
হাসতে হাসতে কিন্তু একটার পর একটা ছক্কা মেরে যাচ্ছো তুমি।
কয়েকদিন ধরে ভাবছি, তোমাকে নিয়ে একটু আলাপ করবো। করা হয়নি। কিন্তু তুমি একটা ভিডিও ছেড়ে এই আলাপটা বাধ্যতামূলক করে তুলেছো- মুরব্বি মানুষ যা করে সবি রাইট, এই ভিডিওটা।
আসলে মাথায় বুদ্ধি থাকলে ঘরজামাই থাকতে হয় না। তোমাকেও থাকতে হবে না।
সর্বমিত্র, তোমার হাসি মানে তোমার বিনয়। আর নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়তে মাদক ও ছিনতায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান মানে তুমি অন্ধকারের বিপরীতে আলোর সৈনিক।
আলোর সৈনিকদের মশাল জ্বেলে রাখতে হয়। বাওরি বাতাস এসে মশাল নিভিয়ে দিতে চায়। তারপরও জ্বেলে রাখতে হয়। আর মশালে রাখতে হয় পর্যাপ্ত জ্বালানি।
জ্বালানি ধরে রাখো, মশাল জ্বলতে থাকুক।
দর্শক,
সর্বমিত্রকে নিয়ে ঠিক কি আলাপ করবো, ভাবছিলাম আমি। হঠাৎ হোয়াটসঅ্যাপে একটা বার্তা পেলাম। দুইলাইনের বার্তা। প্রথম লাইনে লেখা- ‘সর্বমিত্র বনাম মাদকমিত্র।’ পরের লাইনে- ‘সর্বমিত্রকে নিয়ে একটা এপিসোড হতে পারে।’
বার্তাটা পাঠিয়েছেন আমাদের সহকর্মী আহমদ আমিন। এই যে, এই ভদ্রলোক- ভাড়া করা কেদারায় বসে আছেন!
ওখানে বসে থেকে তার কাজ হলো- আমার ভুল ধরা। তার অভিযোগ, আলাপ করতে গিয়ে আমি নাকি হাত বেশি নাড়াই।
আচ্ছা ঠিক আছে, হাত বেঁধে ফেললাম। কিন্তু বাঁধা হাত নিয়ে কি বেশিসময় সাবলীল থাকা যায়?
তারপরও চিত্রায়নের গুণ ও মান বিবেচনায় আমি নাহয় আহমদ আমিন ভাইয়ের পরামর্শ মেনে নিলাম।
কিন্তু সর্বমিত্র চাকমা?
তোমাকে সাবলিল থাকতে হবে। তোমার চিত্রায়ন ঠিকঠাকভাবেই হচ্ছে। ডাকসু নির্বাচনের আগে যেসব বিতর্ক অনুষ্ঠান হয়েছিলো, সেগুলোতে দেখেছি- শিক্ষার্থীরা তোমাদের কাছে নিরাপদ ক্যাম্পাসের প্রতিশ্রুতি চাইছিলো। তোমরা তাদের কথা দিয়েছিলে। এখন কূটচালের মুখে অভিমান করা চলবে না। এতে প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ হবে। যারা তোমাকে অপদস্থ করতে চাইছে, তারা আসলে ইর্ষা করছে। তুমিও সেটা ভালো করে জানো।
মেঘমল্লার বসু তোমাকে ‘ফাটাকেষ্ট’ বলে খোঁচা দিয়েছে, তুমি সেটাকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছো। যারা তোমাকে ম্যাজিস্ট্রেট থেকে ডিসি, কখনো ভিসি বানিয়ে দিচ্ছে তাদের উপাধিগুলোকেও উপভোগ করছো। তবে বেতন-ভাতা পাচ্ছো না বলে দুঃখ করো না।
তোমার ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী ও দেশের মানুষের ভালোবাসাকেই অর্জন বলে তুলে রেখো।
একজন পাহাড়ি হয়ে বাঙালির প্রাণকেন্দ্রে এসে তুমি শাসিয়ে যাচ্ছো বলেও চোখ রাঙাচ্ছেন কেউ।
অনেকে ভবঘুরে মাদকসেবিদের পক্ষে খোলামেলা অবস্থান নিয়ে নিয়েছেন। তাদের একেকজন বনে গেছেন মাদকাধিকার কর্মী। একজন তো হল থেকে পানির ফিল্টার বের করে দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন। তিনি পানির সুবিধা নয়, হলের ভেতর চান মাদকের অধিকার।
মাদকের অধিকার নিয়ে শোরগোল করছেন তারা। মাতালের প্রলাপে কান দিতে নেই।
নিজেকে বিহারী পরিচয় দিয়ে ঈমানদার বড়ভাই হিসেবে তোমাকে দুইটা পরামর্শ দিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মেয়েজামাই ফাহাম আবদুস সালাম। পরামর্শ দিতে গিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসে কিছু ভালগার শব্দও ব্যবহার করেছেন তিনি।
ভীষণরকম খটমটে সেই শব্দগুলো বাদ দিলে ওই স্ট্যাটাসে ফাহাম যা বোঝাতে চেয়েছেন, সেটার মানে হলো- তোমাকে কেউ ব্যবহার করছে। তুমি যেন তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকো।
কিন্তু তুমি তার পরার্শে সতর্ক না হয়ে উল্টো ছাত্রদলের ব্যাপারে তাকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছো। তুমি জানিয়েছো, ওই বৃদ্ধর সাথে তোমার যে ভিডিওটা ছড়ানো হয়েছে, সেটা প্রথম পোস্ট করেছে ছাত্রদলের কেউ। কিন্তু ভিডিওটা মূলত ধারণ করেছে অন্য কোনো দলের লোকেরা। এর মানে অন্য দলের লোকেরা এই ভিডিও ছাত্রদলকে সরবরাহ করেছে। প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর কাজে ছাত্রদলকে ব্যবহার করেছে তারা। ছাত্রদল কারো দ্বারা ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, ফাহামকে সেটা ভেবে দেখার তাগাদা দিয়েছো তুমি।
তোমার দিকে একটার পর একটা গুগলি বল আসছে, আর তুমি ছক্কা মারছো।
সর্বমিত্র, খেলাটা পঞ্চাশ ওভারের। মাত্র এক ওভার শেষ হয়েছে। ছয় বলে ছয়টি ছয় হয়ে গেছে। এবার একটু দেখে-শুনে ব্যাট করো। সিঙ্গেল নাও। কিছু কিছু বল ছেড়ে দিতে হয়।
মনে রেখো মানুষ ভালো কাজে বাধা হয়ে দাঁড়ায় হীনমন্যতা থেকে। কেউ ধারাবাহিকভাবে ভালো কাজ করলে তার পাশে থাকা অনেকে নিজেদের ব্যর্থতা টের পেয়ে যায়। তখন অস্বস্তি হয় তাদের। সেই অস্বস্তি থেকে নিন্দাবাদ করে।
সমাজে অনেকেই যেমন আছে, তেমনই থেকে যেতে চায়। এরা ভালো কোনো পরিবর্তনকেও মেনে নিতে পারে না।
ভালো কাজ করে কেউ যখন ফোকাসে চলে আসে, তখন অথর্বদের ঈর্ষা হয়। তারা ভাবে লোকটা বোধহয় নিজের বড়ত্ব জাহির করছে। তখন অথর্বরাও নিজেদেরকে বড় প্রমাণে মরিয়া হয়ে উঠে। অন্যকে খাটো করে প্রশান্তি পায় তারা।
আবার অনেকে মনে মনে ভালো কাজ করতে চায়। কিন্তু সাহস বা সুযোগের অভাবে পারে না। তখন তারা নিজেদের অপূর্ণতা ঢাকতে অন্যের সমালোচনা করে।
কখনো কখনো একজনের প্রশংসায় অন্যজনের কাছে নিজেকে ছোট মনে হতে পারে। তখন তারা নিন্দা করতে শুরু করে।
সুতরাং সর্বমিত্র চাকমা,
তোমার কাজে বাধা আসা মানে তুমি সত্যিই অন্ধকার বদলে দিচ্ছো।
কেউ তোমার নিন্দা করছে, মানে তুমি প্রভাব ফেলছো।
সূর্য উঠলে ছায়া পড়েই। তাই ছায়া নিয়ে ভাবার কিছু নেই।
তোমার মনোবল চাঙা আছে, চাঙা রেখো।
আলাপ: শাহ মুহাম্মদ মোশাহিদ