বালতির পানিতে চাপা দিয়ে নিজের সন্তানকে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে তাহমিনা আক্তার মুন্নী নামে এক মায়ের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায়। উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ভাট্টা গ্রামের একমাস বয়সি এই শিশুটির নাম নূর হাসান তোহা। তার বাবার নাম নূর মোহাম্মদ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার দুপুরে মায়ের সাথে ছিলো শিশু তোহা৷ দুপুরের দিকে শিশুর বাবা নূর মোহাম্মদ বাড়িতে এসে দেখতে পান স্ত্রী তাহমিনা মাটিতে শুয়ে আছে। পরে শিশুকে খোঁজা শুরু করেন তিনি৷ এক পর্যায়ে শিশুটির মা নিজে ঘরে বালতি দেখিয়ে দেন৷ পরে সেখান থেকে শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়৷ এসময় শিশুর মা তাহমিনা আক্তার মুন্নী নিজেই হত্যার কথা স্বীকার করেন। এছাড়াও নানা অসংলগ্ন কথাবার্তা বলা শুরু করে এক পর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়েন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, এর আগেও শিশুর মা অস্বাভাবিক আচরণ করতেন৷ এজন্য অনেকবার কবিরাজি চিকিৎসা করানো হয় পরিবার থেকে। নিজেই তার শিশুকে বালতির পানিতে চাপা দিয়ে হত্যা করে থাকতে পারেন বলেই ধারণা এলাকাবাসীর। ঘটনার পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে৷
স্থানীয় ৮ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো. মোস্তফা বলেন, শিশুর মা তাহমিনাকে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হলো৷ দুপুরে শিশুর পিতা বালতির ভিতর থেকে মরদেহ পায়৷ মা তাহমিনা বর্তমানে অচেতন অবস্থায় রয়েছে৷ কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হচ্ছে৷
কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘আমরা সংবাদ পেয়ে শিশুর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি। শিশুর মা অসুস্থ থাকায় পরিবারের জিম্মায় চিকিৎসা চলছে৷ এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলমান রয়েছে৷ মামলা হলে তদন্তের মাধ্যমে পরবর্তীতে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে৷