হাসিনার পর ভারতের পুতুল হবেন কে?

বিশ্লেষণ3 months ago25 Views

এর মধ্যে ঘটে গেছে বহু ঘটনা। শেখ হাসিনার মামলার রায়ের তারিখ ঠিক করা হয়েছে। তারিখ ঠিক করার তারিখটি ককটেল ফুটিয়ে উদযাপন করেছে আওয়ামী লীগ ও তাদের টোকাইবন্ধুরা। এই ফাঁকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে ফেলেছেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি জানিয়েছেন, গণভোট আর নির্বাচন একইদিনে হবে। এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক দলগুলো নতুন হিসাব-নিকাশ করতে বসে গেছে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের ককটেলানন্দ থামছে না। অন্তত ১৭ তারিখ পর্যন্ত এই আনন্দ চলবে বলে শঙ্কা আছে। শেখ হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে বাসে জ্বলবে আগুন। জনতার ধাওয়া খেয়ে তুরাগ নদে ঝাঁপ দিতে পারে আরো কেউ।

আসলে আগুন নিয়ে খেলা আওয়ামী লীগের কাছে ছেলের হাতের মোয়ার মতো। এরা আতঙ্ক তৈরি করে রজত্ব করতে চায়। ককটেল ফুটিয়ে যারা আনন্দ করছে, এরা সাধারণ মানুষের মতো নয়। আসলে আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলেও মানুষ মারে, বাইরে থাকলেও মারে। আবার এর দায় চাপিয়ে দেয় বিরোধীদের ওপর।

শেখ হাসিনা শাসনের সময় আগুন-সন্ত্রাস হয়েছে। সেগুলো যে আওয়ামী লীগ ও তাদের বন্ধু দুশীলদেশের গোয়েন্দারা করেছে সেটা এখন আরো পরিষ্কার। অথচ ওই সময় অপবাদ দেওয়া হয়েছে বিএনপি ও জামায়াতকে।

অপবাদ এখনো দিচ্ছে- আবু সাঈদ হত্যার পেছনে বিএনপি ও জামায়াত ছিলো বলে নানা ‘জ্ঞানগর্ভ’ তত্ত্ব হাজির করছে কেউ কেউ। ভালো মানুষের অভিনয় করে ইনিয়ে-বিনিয়ে আওয়ামী লীগকে জায়েজ করার চেষ্টা করছে দুশীলরা।

কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশে যে ‘ককটেল বিপ্লব’ বয়ে গেছে, সেই পরিকল্পনাটাও এসেছে দুশীলদেশ ভারত থেকে। দিল্লিতে বসে মিটিং করা হয়েছে শেখ হাসিনার সাথে। সেখান থেকে পরিকল্পনা সাজিয়ে একযোগে শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা হয়েছে আন্তর্জাতিক কয়েকটি গণমাধ্যমে। সাক্ষাৎকারগুলোর কথা এক, ভাষা এক। অর্থাৎ শেখ হাসিনার হয়ে এগুলোর পিআর করে দিয়েছে ভারত। সেইসাথে বিদেশে থাকা তার সাগরেদরাও এখন ভীষণরকম সক্রিয়। এরা আশায় বুক বেঁধে আছেন, কোনো একদিন বাংলাদেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা। তারপর দেশজুড়ে কায়েম করবেন ককটেল রাজত্ব।

শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এখন বেকার। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের দক্ষিণ এশিয়া চ্যাপ্টারের পদ হারানোর পর থেকে তিনি মায়ের সঙ্গেই থাকছেন। মা-মেয়ের জন্য বরাদ্দ করা বাড়িটি এখন ‘ওয়ার রুম’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ওখান থেকে বাংলাদেশ-বিরোধী যুদ্ধনীতি প্রণয়ন করে ভারত। ওয়ার রুমে হাসিনার জন্য রাখা আছে ডাক্তার ও নার্স। শেখ হাসিনাকে দেওয়া বাড়িতেই থাকছেন কয়েকজন কূটনীতিক, কয়েকজন আইনজীবি। প্রেস দেখাশুনার জন্য আছে সাংবাদিকের ব্যবস্থাও।

শরণার্থী শেখ হাসিনার বাড়ি থেকে একটার পর একটা পরিকল্পনা হচ্ছে। একটায় ব্যর্থ হলে নতুন আরো দুইটা হচ্ছে।

এবারের ‘ককটেল’ পরিকল্পনাটা কিন্তু হেলাফেলা করার মতো না।

বাংলাদেশের রাজনীতি যখন বিভক্ত। সবগুলো দল যখন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, গণভোট নিয়ে চলছে তুমুল উত্তেজনা। এই সময়টাকেই যুতসই মনে করেছে দুশীলদেশ। এবং আরকিছু না হোক, মানুষের ভেতর আতঙ্ক তৈরি করতে পেরেছে আওয়ামী লীগ। এটাই তাদের সফলতা।

আসলে দুশীলদেশের উদ্দেশ্য এতটুকুই ছিলো।

এই কয়দিনে ‘আপা’র ডাকে সাড়া দিয়ে অনেকে বেঘোরে কারাগারে গেছেন। অনেক টোকাই পাঁচহাজার টাকার লোভ সামলাতে না পেরে ককটেল মারার ঝুঁকি নিয়েছে। আওয়ামী লীগের ব্যানার টেনেছে তারা। জনতার হাতে ধরাও খেয়েছে। জনতার ধাওয়া খেয়ে তুরাগ নদে ঝাঁপ দিয়ে মারা গেছে একটা ছেলে।

এরকম ছেলে হাজারটা মারা গেলেও শেখ হাসিনার কিছু আসে যায় না। তিনি আরো লাশ চান। আওয়ামী লীগ কর্মীদের শত-শত লাশ চান। আন্তর্জাতিক বাজারে লাশের কদর আছে।

আওয়ামী লীগ কর্মীদের লাশ দেখিয়ে হারানো ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার আশায় আছেন তিনি।

এখন তো কেবল ককটেল দেখছেন। সামনে আসতে পারে আরো ভয়ঙ্কর কিছু। এতোদিন তাওয়া গরম করেছে আওয়ামী লীগ। এখন কিছু খেল দেখাতে চাইছে তারা। নির্বাচনের আগেই খেল খতম করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

পালিয়ে যাওয়ার পর শেখ হাসিনাকে আপনারা তুচ্ছ করে দেখছেন। কিন্তু একটা সত্যি কথা হলো, এই নারীকে সামলানো এতো সহজ না। তার মাথায় একহাজার একটা বুদ্ধির বাকসো থাকে। আপনার যখন মনে হবে, অপমান-অপরাধবোধে হয়তো তিনি ক্লান্ত হয়ে গেছেন। ঠিক তখনি মাথা তুলে ছুবল মারবেন শেখ হাসিনা।

তারপর হাসিনা-বিষ যদি সারা শরীরে ছড়িয়ে যায়, মৃত্যু নিশ্চিত।

সুতরাং, সাবধান। একবার ব্যর্থ হলেই হতাশ হওয়ার মতো নারী শেখ হাসিনা নন।

দুশীলদেশের গোয়েন্দারা তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এখন প্রশিক্ষণ দিচ্ছে তার কন্যা পুতুলকেও। মাথামোটা জয়ের ওপর খুব একটা ভরসা করতে পারছে না ভারত। শেখ হাসিনা যখন থাকবেন না, তখন জয় নয় দুশীলদেশের প্রকৃত পুতুল । আর ওই পুতুলের খেলাটা শুরু হতে পারে ককটেল ও আগুনসন্ত্রাসের চাইতেও ভয়ঙ্কর কিছু দিয়ে।

Leave a reply

Loading Next Post...
Follow
Search Trending
Popular Now
Loading

Signing-in 3 seconds...

Signing-up 3 seconds...