সাইবার ভজঘট, মহাকাশ রকেট: সপ্তাহের বড় কিছু চমক!

টেক3 months ago39 Views

চ্যাটজিপিটি -এ গ্রুপ চ্যাট ফিচার

ক্লাউডফ্লেয়ার আউটেজে শতাধিক ওয়েবসাইট অচল: কী ঘটেছিলো?

নভেম্বরের ১৮ তারিখ, সকালবেলা। হঠাৎ করেই সাইবার দুনিয়ায় ভজঘট লেগে যায়। দেখা গেছে চ্যাটজিপিটি, এক্স এর মতো অ্যাপ ও ওয়েবসাইট কাজ করছে না। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল কোনো সাইবার হামলা হয়েছে। কিন্তু পরে ক্লাউডফ্লেয়ার প্রকাশ করে এটি তাদের অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তিগত ত্রুটি

ক্লাউডফ্লেয়ার জানায়, সমস্যার মূলে ছিলো তাদের বট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে থাকা একটি ফিচার ফাইল। সাম্প্রতিক আপডেটের পর ফাইলটির মধ্যে ডুপ্লিকেট এন্ট্রি তৈরি হয়ে ফাইলটির আকার অপ্রত্যাশিতভাবে বৃদ্ধি পায়। এটি নেটওয়ার্কের প্রোক্সি সার্ভারগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে, কিন্তু সফটওয়্যার সেটি সামলাতে ব্যর্থ হয়। এর ফলে সার্ভারগুলো ত্রুটি দেখাতে শুরু করে এবং ব্যবহারকারীরা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারেনি।

ক্লাউডফ্লেয়ার পরে ফিচার ফাইলটি পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনে এবং ধাপে ধাপে সব সার্ভিস পুনরুদ্ধার করে। কোম্পানি ক্ষমা প্রার্থনা করেছে এবং ভবিষ্যতে এমন সমস্যার পুনরাবৃত্তি রোধের জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা: বড় কোম্পানির সতর্কবার্তা

এই সপ্তাহে গুগল জানিয়েছে, এক সাপ্লাই-চেইন হ্যাকের কারণে প্রায় ২০০টি কোম্পানির তথ্য চুরি হয়েছে। এই হামলা ঘটেছে গেইনসাইট (Gainsight) নামক একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে, যা বিভিন্ন কোম্পানির গ্রাহকদের তথ্য সংরক্ষণ, পরিচালনার ও ব্যবস্থাপনার জন্য ব্যবহৃত হয়। এই হ্যাক দেখিয়েছে যে কিভাবে একটি ছোট সফটওয়্যার বা সার্ভিসের দুর্বলতা বড় কোম্পানিগুলোর নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

আরেকটি চমকপ্রদ খবর হলো ক্রাউডস্ট্রাইক (CrowdStrike) -এর ঘটনা। তারা তাদের এক কর্মীকে বরখাস্ত করেছে, যিনি সন্দেহভাজনভাবে সংবেদনশীল তথ্য হ্যাকারদের সঙ্গে শেয়ার করার চেষ্টা করেছিলেন। এটি প্রমাণ করে যে নিরাপত্তা ঝুঁকি সবসময় বাইরের হ্যাকারদের কাছ থেকে আসে না—অভ্যন্তরীণ কর্মীদের হাতেও বিপদ থাকে। এর আগেও অনেক বড়বড় প্রতিষ্ঠানের তথ্য তাদের কর্মীদের দ্বারা ফাঁস হয়েছে।

পাঠক জন্য টিপস: আপনার ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ রাখতে শুধু শক্তিশালী পাসওয়ার্ড যথেষ্ট নয়। ব্যবহৃত সফটওয়্যার, অ্যাপ এবং ক্লাউড সার্ভিসের নিরাপত্তা নিয়মিত চেক করা গুরুত্বপূর্ণ।

এআই: আমাদের জীবনের আরও কাছের অংশ

ওপেনএআই এই সপ্তাহে চ্যাটজিপিটি -এ গ্রুপ চ্যাট ফিচার চালু করেছে। এর মাধ্যমে একাধিক ব্যবহারকারী একসাথে একই চ্যাটে কাজ করতে পারবে। উদাহরণস্বরূপ, ধরুন আপনি দলবদ্ধভাবে একটি প্রেজেন্টেশন তৈরি করছেন—এআই এখানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিষয়বস্তু বা আইডিয়া সাজাতে সাহায্য করতে পারে।

সেটাই নয়, নেকলেস বা রিং-এর মতো ছোট AI ডিভাইসগুলোও মানুষের জীবনে প্রবেশ করছে। এগুলো ব্যবহার করে ক্যালেন্ডার সাজানো, ইমেইল চেক করা, ঘরের লাইট নিয়ন্ত্রণ করা—সবই স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা সম্ভব।

পাঠক জন্য টিপস: ভবিষ্যতে আপনার দৈনন্দিন কাজ বা অফিসের কাজকে সহজ করতে এআই ব্যবহার শুরু করা বুদ্ধিমানের কাজ।

শক্তি ও ডেটা সেন্টার: এআই -এর বৃদ্ধি এবং পরিবেশ

এআই-ভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার যত বেশি হচ্ছে, ডেটা সেন্টারের চাহিদা তত বৃদ্ধি পাচ্ছে। মেটা এই প্রয়োজন মেটাতে বিদ্যুৎ ট্রেডিং করার পরিকল্পনা করছে। মেটা তাদের ডেটা সেন্টারের জন্য নতুন উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। ডেটা সেন্টারগুলো সারাবছর সার্ভার চালু রাখে, যেখানে প্রচুর বিদ্যুৎ লাগে। তাই মেটা চাচ্ছে তাদের সার্ভার কখনোও বিদ্যুতের অভাবে যাতে বন্ধ না হয়।

তাদের প্রধান পরিকল্পনা হলো বিদ্যুৎ ট্রেডিং। এর মানে হলো, মেটা সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদক এবং বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় করে বিদ্যুৎ কিনবে এবং বিক্রি করবে। এতে খরচ কমবে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হবে।

সাথে সাথে, তারা নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার বাড়াচ্ছে। সৌর ও বায়ু শক্তি ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব ডেটা সেন্টার তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব কমবে এবং সাশ্রয়ী হবে।

পাঠক জন্য টিপস: প্রযুক্তির সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের কথাও মনে রাখা জরুরি। এআই এবং ডেটা সেন্টারের বৃদ্ধি পরিবেশে সরাসরি প্রভাব ফেলে।

উইন্ডোজ ও এআই : কম্পিউটার হবে আরো সহযোগী

মাইক্রোসফট তাদের উইন্ডোজ -কে এজেন্টিক ওএস হিসেবে রূপান্তর করার পরিকল্পনা করছে। এর অর্থ, উইন্ডোজ ব্যবহারকারীকে আরও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাহায্য করতে পারবে—যেমন ফাইল সাজানো, ইমেইল প্রস্তুত করা বা গুরুত্বপূর্ণ কাজের সাজেশন দেওয়া।

তবে কিছু ব্যবহারকারী উদ্বিগ্ন, কারণ এটি ওএস-এর মূল ধারণাকে বদলে দিচ্ছে। উইন্ডোজকে এখন শুধু একটি সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং একটি “সহযোগী এজেন্ট” হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পাঠক জন্য টিপস: এটি হলে ভবিষ্যতে কম্পিউটার এর অনেক ব্যবস্থাপনা অপারেটিং সিস্টেম নিজেই করে ফেলবে।

মহাকাশ প্রযুক্তি: নতুন মাইলস্টোন

স্পেস এক্স তাদের ৫০০তম পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট মিশন সম্পন্ন করেছে। এটি মহাকাশ যাত্রার টেকসই ভবিষ্যতের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ। পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেটের মাধ্যমে মহাকাশ ভ্রমণের খরচ কমানো সম্ভব হচ্ছে। তবে পরীক্ষা চলাকালীন স্টারশিপ ভি৩ রকেটে একটি গ্যাস সিস্টেমের সমস্যা দেখা দিয়েছিলো।

টিপস: মহাকাশ প্রযুক্তি শুধু বিজ্ঞান নয়, এটি বাণিজ্যিক সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যতের নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি করছে।

0 Votes: 0 Upvotes, 0 Downvotes (0 Points)

Leave a reply

Loading Next Post...
Follow
Search Trending
Popular Now
Loading

Signing-in 3 seconds...

Signing-up 3 seconds...